advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

লোকবলের অভাবে ধুঁকছে আইডিআরএ

বিধিমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না

আবু আলী
১৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:৪৯
advertisement

জনবল সংকটে ধুঁকছে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। প্রতিষ্ঠার আট বছরের মধ্যেও এ সংকট কাটেনি। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত চাকরি বিধিমালা চূড়ান্ত না হওয়া, বিধিমালার খসড়ায় আত্তীকরণের বিষয়ে কিছু না থাকা এবং কর্মরতদের সরকারি চাকরির বয়স পেরিয়ে যাওয়ার কারণে চাকরি স্থায়ী করা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সংস্থায় অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত প্রায় অর্ধশত কর্মকর্তা-কর্মচারী। অন্যদিকে বিধিমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় নতুন করে জনবলও নিয়োগ দিতে পারছে না সংস্থাটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইডিআরএ সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে বর্তমানে কর্মরত কর্মচারীদের নিয়ে। দীর্ঘ সময় ধরে সংস্থায় তারা অস্থায়ীভাবেই কর্মরত রয়েছেন। অরগানোগ্রামের অভাবে তাদের কারও চাকরিই স্থায়ী হয়নি। এর মধ্যে তাদের অনেকেরই চাকরির বয়স পার হয়ে গেছে। কিন্তু নতুন বিধিমালায় আইডিআরএ কর্মরতদের আত্তীকরণের বিষয়টি খসড়া প্রবিধানে সংযোজন করা হয়নি। খসড়া প্রবিধানটি সচিব কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত হলেই কেবল নতুন করে জনবল নিয়োগ দিতে পারবে আইডিআরএ। কিন্তু সেখানে পুরনোদের ব্যাপারে কোনো কিছু বলা হয়নি। জানা গেছে, বর্তমানে

আইডিআরএতে ৫৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে কর্মকর্তার সংখ্যা মাত্র ৩২ জন। আর দেশে বর্তমানে বীমা কোম্পানির সংখ্যা ৭৯টি। তাই মাত্র ৩২ জন কর্মকর্তা নিয়ে এত বীমা কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর চাকরি স্থায়ী করা না হলে আদালতের দ্বারস্ব হওয়ার কথা জানিয়েছেন পুরনো কর্মকর্তরা। ফলে আইডিআরএর নতুন নিয়োগও আটকে যেতে পারে। ফলে দ্রুত বিষয়টি সুরাহার পরামর্শ দিয়েছেন বীমাসংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন বলেন, আমরা শক্তিশালী আইডিআরএ চাই। এ ক্ষেত্রে জনবলসহ যেসব সুবিধা দরকার তা দেওয়া প্রয়োজন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, তারা নতুন বিধিমালার আলোকে আরডিআরএতে জনবল নিয়োগ দেবে। তবে এরই মধ্যে যাদের চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে, তাদের ব্যাপারে কিছু করার নেই।

২০১১ সালের ২৬ জানুয়ারি আইডিআরএ আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু করে। ২০১২ সালে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির ১৭টি পদের বিপরীতে ১৯৫ জনকে নিয়োগের অনুমতি দেয় তৎকালীন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়। অনুমোদনের প্রায় তিন বছর পর ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অর্থ মন্ত্রণালয় আবার সংস্থাটিতে জনবল কমিয়ে ১৭ পদে ১৫৫ জনকে নিয়োগের অনুমতি দেয়। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আমলে নেননি সংস্থার তৎকালীন চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ অ্যাকচ্যুয়ারি। বিষয়টি ‘পুনর্বিবেচনা’ করে জনবল বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে ওই বছরের ১০ মে আইডিআরএ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। জনবলের সংখ্যা নিয়ে আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটির জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে যায়। ২০১৬ সালের ৩০ জুন পদ ও জনবলের সংখ্যা অপরিবর্তিত রেখেই আইডিআরএর ‘জনবল কাঠামো’ অনুমোদন দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।

২০১২ সালে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে জনবল কাঠামো প্রাথমিক অনুমোদনের পরই কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি সংক্রান্ত প্রবিধান তৈরির উদ্যোগ নেয় আইডিআরএ। কিন্তু পরপর চার বছরেও ওই প্রবিধান চূড়ান্ত হয়নি। ২০১৬ সালে জনবল কাঠামো পাওয়ার পরও চাকরি বিধিমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় আবারও থমকে যায় সংস্থাটিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া। সেই সঙ্গে কর্মরতদের বয়স ও আত্তীকরণ নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়। ২০১৭ সালে পুনর্গঠনের পর আত্তীকরণের বিষয়টি যুক্ত করা হয় খসড়া নিয়োগ বিধিমালায়। এরপর খসড়া চাকরি বিধিমালা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেয় আইডিআরএ। কিন্তু কর্মরতদের আত্তীকরণের বিষয়ে মন্ত্রণালয় নেতিবাচক অবস্থান নেয়।

আইডিআরএ সদস্য গকুল চাঁদ দাস বলেন, কর্মরতদের চাকরি স্থায়ী হলে কাজের গতি বাড়বে। এ ছাড়া দীর্ঘ সময়ে তারা কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। নতুন করে কর্মকর্তা নিয়োগ দিলে তাদের দক্ষতা অর্জনে সময় লেগে যাবে।

advertisement