advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সেই কামানটি কেশবপুরে ফিরিয়ে আনার দাবি

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
১৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:৫৯
advertisement

কেশবপুরের অন্যতম প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন মির্জানগর নবাববাড়ির ঐতিহাসিক কামানটি যশোর শহর থেকে যথাস্থানে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে উপজেলার সুধীসমাজ ও মির্জানগরের স্থানীয় বাসিন্দারা। এ জন্য সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করা হয়েছে।

মোগল আমলে নির্মিত মির্জানগর নবাববাড়ি ও এর হাম্মামখানা বর্তমানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ওই আমলে বৃহত্তর যশোর জেলার প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এ নবাববাড়ি। দুটি কামান ও চারদিকে পরিখা খনন করে সুরক্ষিত করে গড়ে তোলা হয়েছিল এসব স্থাপনা। কালের বিবর্তনে দুটি কামানের একটি বর্তমান যশোর জেলা শহরের মণিহার মোড়ে মুক্তিযোদ্ধা বিজয়স্তম্ভে স্থাপন করা হয়েছে। আরেকটির কোনো হদিস জানা যায়নি। নবাববাড়ির অন্যতম প্রতœনিদর্শন কামানটি পুনরায় মির্জানগর নবাববাড়িতে প্রতিস্থাপন করলে ইতিহাসের যথার্থ মূল্যায়ন করা হবে বলে দর্শনার্থী মনে করে। ইতোমধ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বরাবর এমন আবেদন জানিয়েছে স্থানীয়রা।

ইতিহাস অনুসন্ধানে জানা গেছে, স¤্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে কেশবপুর থেকে ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে কপোতাক্ষ ও বুড়িভদ্রা নদীর সঙ্গমস্থল ত্রিমোহিনী নামক স্থানে বৃহত্তর যশোর অঞ্চল শাসনের জন্য নবাববাড়ি নির্মাণ করে সেখানে নুরুল্লা খাঁ নামে একজন ফৌজদার (ডিসি) নিযুক্ত করা হয়। তার পর বাংলার সুবেদার শাহ সুজার শ্যালকপুত্র মির্জা সাফসি খান ১৬৪৯ সালে এই নবাববাড়ির ফৌজদার নিযুক্ত হন। তার নামানুসারে এলাকাটির নাম হয় মির্জানগর। তিনি বুড়িভদ্রা নদীর দক্ষিণে আরেকটি কিল্লাবাড়ি স্থাপন করে সেখানে বসবাস করতেন। এটা পূর্ব-পশ্চিমে দীর্ঘ ছিল এবং চারপাশে ছিল সুবিস্তৃত পরিখা। বেষ্টিত ছিল ১০ ফুট উঁচু প্রাচীরে। এটির নামকরণ করা হয়েছিল মতিঝিল দুর্গ। এর একাংশে ছিল হাম্মামখানা (গোসলখানা)। পূর্বদিকে ছিল সদর তোরণ। দুর্গটি দুটি কামান দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। নবাব ও জমিদারি শাসনামল শেষ হলে ধীরে ধীরে মির্জানগর নবাববাড়িটি ভগ্নস্তূপে পরিণত হয়। ওই সময় কামান দুটি সরিয়ে যশোরে নেওয়া হয়। বর্তমানে মির্জানগর নবাববাড়ির হাম্মামখানা বাদে আজ আর কিছুই অক্ষত নেই। এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের রিজিওনাল ডিরেক্টর আফরোজা খান মিতা বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আলোচনা করে প্রতœতাত্তিক নিদর্শন কামানটি তার প্রকৃত অবস্থান মির্জানগর হাম্মামখানায় স্থাপন করে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

advertisement