advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

রঙিন বলের রঙিন ক্রিকেট
ইতিহাসের সাক্ষী ম্যাচে কিছু অর্জন চাই

২৩ নভেম্বর ২০১৯ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ১২:২৬ এএম
advertisement

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এক ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচের সাক্ষী হয়েছে। ভারতের বিরুদ্ধে চলমান সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচটি কাল শুরু হয়েছে ক্রিকেটবিশ্বের কুলীন মাঠ কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে। এ ম্যাচের বিশেষত্ব এই যে, দুই দেশের জন্য এটিই প্রথম দিবারাত্রির টেস্ট যা খেলা হবে গোলাপি বলে। এ ঐতিহাসিক উপলক্ষটি স্মরণীয় করে রাখার জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বাঙালি সভাপতি ও ভারতীয় দলের সাবেক সফল অধিনায়ক আয়োজনের ত্রুটি রাখেননি। এমনকি ঘণ্টা বাজিয়ে ম্যাচ উদ্বোধনের দায়িত্ব পালন করেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়ামোদী শেখ হাসিনা, তাকে সহযোগিতা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের অপর দুই ফরম্যাটে ভালো মানে থাকলেও এখনো টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারছে না। সিরিজের প্রথম টেস্ট মাত্র তিন দিনের মধ্যেই ইনিংস ও ১৩০ রানের ব্যবধানে হেরেছে। ফলে এত আয়োজনে রাঙানো যে ম্যাচ খেলার আগে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে, যেটি নিয়ে ক্রিকেটভক্তদের এত উৎসাহ, উত্তেজনা তাতে বাংলাদেশ কেমন করবে সেটাই ভাবনা-দুর্ভাবনার বিষয়। ভালো উইকেটেও তারা ভারতীয় বোলারদের সামলাতে পারল না।

গোলাপি এসজি বল ও মৌসুমের এই সময়ে দিবারাত্রির ম্যাচ নিয়ে নানাকথা বলে চলেছেন বিশেষজ্ঞরা। সব আলোচনায় অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেটের এই ম্যাচটি নিয়েও মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। বিসিসিআই সভাপতির আমন্ত্রণে ঐতিহাসিক প্রথম ম্যাচের খেলোয়াড়রা এতে যোগ দিতে এখন কলকাতায়, গান গাইবেন উপমহাদেশের জনপ্রিয় বাংলাদেশি কিংবদন্তি রুনা লায়লা। আবার ভারত তাদের সাবেক অধিনায়ক এবং অন্যান্য খেলার কৃতীদের ম্যাচ দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। পাঁচ দিনের ম্যাচ প্রথমটি তিন দিনের মধ্যে শেষ হওয়া সত্ত্বেও কলকাতার দর্শকরা চার দিনের সব টিকিট কিনে ফেলেছেন। অবশ্য সব দর্শকই কলকাতার নন, নানা রাজ্য এবং বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ থেকেও দর্শক এসেছেন। প্রথম দিনের খেলায় বাংলাদেশ প্রবল চাপের মুখে পড়ে গেছে। যদিও ক্রিকেটকে বলা হয় মহা-অনিশ্চয়তার খেলা, তবু বাংলাদেশ দলের জন্য এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে আমরা মনে করি যেহেতু ক্রিকেটে বাকি দুই ফরম্যাটে বাংলাদেশ বিশ্বের সব শক্তিশালী দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলতে পারে তাই টেস্ট ম্যাচেও সে সামর্থ্য অর্জন কঠিন হবে না। শুধু প্রয়োজন যথাযথ সাংগঠনিক কাঠামো চালু, খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা রাখা। ক্রিকেটের এই দীর্ঘ ফরম্যাটে দেশে আরও একাধিক প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করতে হবে। ক্রিকেটের ইতিহাসের অংশীদার হতে পেরে বাংলাদেশ গর্বিত হয়েছে, তবে সে গর্বকে এখন বাস্তব ভিত্তি দিতে হবে।

advertisement