advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

নাটোর শহরের বাইরে হচ্ছে পাসপোর্ট অফিস

আল মামুন নাটোর
২৩ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ০০:২৭
advertisement

নাটোরে শহরের বাইরে পাসপোর্ট অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কয়েক কর্মকর্তার আপত্তি আমলে নেওয়া হচ্ছে না। সম্প্রতি জেলা মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় তারা এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাদের যুক্তি, জেলা শহরের বাইরে পাসপোর্ট অফিস হলে যাতায়াতে মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হবে।

এদিকে পাসপোর্ট অফিসের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ নীতিমালা অমান্য করে এক ব্যবসায়ীর নির্র্মাণাধীন চারতলা মার্কেট অধিগ্রহণ করছে জেলা ভূমি অধিগ্রহণ শাখা। ওই ব্যবসায়ীর দাবিÑ তিনি ওই জমির ওপর ব্যাংক থেকে ২ কোটি ১১ লাখ টাকা ঋণগ্রহণ করেছেন। এ ব্যাপারে লিখিত আপত্তি জানালেও তা বিবেচনায় নিচ্ছে না জেলা ভূমি অধিগ্রহণ শাখা।

নাটোর শহরের মল্লিকহাটি মহল্লার অধিবাসী ব্যবসায়ী আবদুস সালাম জানান, বেকারিসামগ্রী তৈরির জন্য বড় হরিশপুর ইউনিয়নের বড় হরিশপুর মৌজায় বিভিন্ন সময় তিনি ক্রয় ও এওয়াজবদল করে ১২৫৭, ১২৫৮, ১২৫৯ ও ১২৬০ দাগে মোট ৪১ শতাংশ জমির মালিক হন। এর পর ওই জমির সামনে মার্কেট ও পেছনে কারখানা নির্মাণের জন্য ২০১৭ সালে সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ঋণগ্রহণ করেন। তা বর্তমানে সুদাসলে ২ কোটি ১১ লাখ টাকা হয়েছে। এর পর উপজেলা পরিষদ থেকে নকশা পাস করে সেখানে চারতলা ফাউন্ডেশন দিয়ে মার্কেট নির্মাণ শুরু করেন। সেখানে আন্ডারগ্রাউন্ডসহ দ্বিতল ভবনের দোকান ঘরগুলোর ছাদ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এ অবস্থায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর নাটোর জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে ভবনটির ২৪ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের পত্র পান। এ ব্যাপারে আপত্তি থাকলে ১০ অক্টোবরের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়। তিনি আপত্তি দাখিল করেন। ৫ নভেম্বর এর ওপর শুনানি হয়। পরে জানতে পারেন, ওই জমি হুকুম দখলের জন্য জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।

নাটোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান বলেন, চলতি মাসে জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় প্রস্তাবিত জায়গায় পাসপোর্ট অফিস না করে কালেক্টরেট অফিসের সামনে অথবা শহরের মধ্যে কোনো ফাঁকা জায়গায় করার প্রস্তাব করা হয়। কারণ ফাঁকা জায়গা অধিগ্রহণ করা হলে সরকারের ব্যয় সাশ্রয় হবে। ওই সভায় উপস্থিত জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের অধিকাংশ একমত পোষণ করেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে শহরের বাইরে পাসপোর্ট অফিস নির্মাণের সিদ্ধান্ত আমাদের বোধগম্য নয়।

এ বিষয়ে পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আলী আশরাফ বলেন, আমার আগের কর্মকর্তারা ওই জমি সিলেকশন করে অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন। ওই মোতাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুপারিশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ওই জমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই।

নাটোর ভূমি অধিগ্রহণ শাখা সূত্রে জানা গেছে, যে কোনো সরকারি সংস্থার ভূমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ শাখাকে জানানো হয়। জেলা প্রশাসন জমি নির্ধারণ ও অধিগ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট জমি অধিগ্রহণ করার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছেÑ যা অধিগ্রহণ নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

জেলা প্রশাসক শাহরিয়াজ উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় পাসপোর্ট অফিসের জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে আপত্তি উত্থাপনের কথা স্বীকার করে বলেন, সেখানে অন্যত্র জমি দেখার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু পাসপোর্ট অফিস অনড় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ থাকায় ওই জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

advertisement