advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও সব পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ০২:০৭
advertisement

আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ প্রচুর থাকলেও সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে শাকসবজির দাম বেড়েছে। এ ছাড়া আটা-ময়দার পাশাপাশি আবারও ডিমের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বের বাড়তি দামে চাল বিক্রির পাশাপাশি এখন ক্রয়সীমার বাইরে পেঁয়াজের দাম। সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। গতকাল রাজধানীর কাওরানবাজার, হাতিরপুল বাজার ও পলাশী বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গিয়েছে।

শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেশি থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবে দাম কমে আসার কথা। কিন্তু গত সপ্তাহের তুলনায় শাকসবজিতে কেজিপ্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। বাজারে বেশিরভাগ সবজি ৫০ টাকার ওপরে। আর ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হয়েছে টমেটো, উচ্ছে, শসা ও নতুন আলু। বাজারে প্রতিকেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। শসা বিক্রি হচ্ছে একই দামে। আর নতুন আলু ও উচ্ছে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা। প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বেগুন, চিচিঙ্গা, করলা, ধুন্দল, পটোল ও মুলা। আর বাজারে গাজর ও বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে শাকসবজির দাম বাড়ার পেছনে পরিবহন ধর্মঘটকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। কাওরানবাজারের সবজি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পাইকারি বাজারে শাকসবজির সংকট থাকায় আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। গত সপ্তাহের থেকে সব সবজিতেই পাঁচ থেকে দশ টাকা বেড়েছে বলে তিনি জানান। এ ছাড়া ট্রাক খরচও বেশি হয়েছে। আর একদিনের পুরনো সবজি আনার কারণে অনেক পণ্যই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এজন্য দাম একটু বাড়তি।

বাজারে চায়না ও মিসরের পেঁয়াজের দাম কিছুটা কম হলেও ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে দেশি পেঁয়াজ। চায়না থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১১০ টাকা ও আর মিসরের পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

হঠাৎ করে যেন বেড়েছে ময়দার দাম। প্রতিকেজি খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি। যা গত সপ্তাহে ছিল ৩২ টাকা কেজি। প্রতিকেজি আটাতেও দাম বেড়েছে ২ থেকে ৩ টাকা। ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ার পেছনে কানাডা থেকে গম আমদানি কম হওয়াকে দায়ী করেন। কানাডায় গমের দাম বেড়ে গেছে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।

কিছুদিন থেকে বাজারে বেড়েছে চালের দাম। প্রতিকেজি মিনিকেট সাধারণ মান ৪৮ থেকে ৫৩ টাকায় ও ভালো মানের চাল ৫৩ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর মোটা চাল অর্থাৎ স্বর্ণা, চায়না, ইরি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে। অথচ মাসের প্রথম সপ্তাহেও এই মোটা চাল বিক্রি হয়েছে ২৮ থেকে ৪০ টাকা দরে। এমনকি মিনিকেট ছিল ৪৫ থেকে ৫৬ টাকার মধ্যে। চালের দাম বাড়ার পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ দেখছেন না ব্যবসায়ীরা।

এদিকে এ মাসের শুরুতে বেড়েছে সয়াবিন তেলের দামও। প্রতিকেজি খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ২ থেকে ৩ টাকা। আর ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম। খুচরা বাজারে এখন খোলা সয়াবিন ৮০-৮৪ টাকা ও পাম অয়েল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে। আর বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১০২ থেকে ১১০ টাকায়।

গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। যেখানে গত সপ্তাহে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়।

এদিকে সব কিছুর দাম যখন নাগালের বাইরে তখন কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

advertisement