advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আমাকে পুনর্জন্ম দেন খান আতা : শবনম

আহমেদ তেপান্তর
১ ডিসেম্বর ২০১৯ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১ ডিসেম্বর ২০১৯ ০১:৩৬ এএম
প্রয়াত খান আতাউর রহমান ও শবনম
advertisement

আজ ১ ডিসেম্বর খান আতাউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী। এ মাসের ১১ তারিখে তার জন্মবার্ষিকী। মৃত্যুবার্ষিকীর কথা স্মরণ করিয়ে দিলে অতীত স্মৃতি নিয়ে নস্টালজিক হয়ে পড়েন অভিনেত্রী শবনম।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন- আমার আগমন শ্রদ্ধেয় গুরু এহতেশামুলের (এহতেশাম) হাত ধরে হলেও আজকের যে সুপারস্টার শবনমকে মানুষ মনে রেখেছে তার নেপথ্য অবদান খান আতাউর রহমানের। তার মতো মহীরুহ যুগে যুগে জন্মায় না। আমি বলব, বাংলাদেশ ধন্য তার মতো ক্ষণজন্মা এক সুপুরুষকে পেয়ে। যিনি প্রতিভার মূল্যায়ন করতেন অকৃপণভাবে।

advertisement

অতীত স্মৃতি ঘেঁটে শবনম বলেন, জন্ম, বেড়ে ওঠা সবই পুরান ঢাকায়। স্কুল বা নাচের চর্চা সেটা খুব কাছাকাছি। পুরান ঢাকার জনসন রোডে তখন পুরো ফিল্মপাড়া। এখন যেমন কাকরাইল। খান আতা ছিলেন প্রবল গানের মানুষ। সেই থেকে তার সঙ্গে বাবার সখ্য। সেই থেকে তাকে ‘চাচা’ বলেই সম্বোধন করি। এ সময় আমার গুরু এহতেশামের ছবিতে কাজের সুযোগ আসে। লুফে নিই। তাদের দুই ভাইয়ের সঙ্গে বাংলা-উর্দু মিলিয়ে বেশ কয়েকটা ছবি করি। এর মধ্যে হারানো দিন, রাজধানীর বুকে, চান্দা, তালাশ অন্যতম। ছবিগুলো অবিভক্ত পাকিস্তানে বেশ ব্যবসাসফল হয়।

অপরদিকে জহির রায়হানের সঙ্গে ‘কখনো আসেনি’, এসএম পারভেজের ‘কারাবান’, সাদিক খানের ‘ক্যায়সে কাহু’ করি। তবে চান্দা, তালাশের কল্যাণে আমার জনপ্রিয়তা পশ্চিম পাকিস্তানে তখন আকাশছোঁয়া। তাই এহতেশাম আমাকে নিয়ে ছবি করতে চাইলে ২৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দাবি করি। তিনি এ টাকা দিতে রাজি হলেন না। আগের ছবিগুলোয় সর্বোচ্চ আড়াই হাজার টাকা তিনি দিয়েছেন। সে সময় ইন্ডাস্ট্রির মোস্ট পাওয়ারফুল এহতেশাম ভাইদ্বয়ের ভয়ে তটস্থ। কেউ কাজে ডাকছে না।

পরিবারের সঙ্গে আলাপ করে ঘোষণা দিলাম, ২৫ হাজার টাকার নিচে কাজ করব না। এর ফলে অলিখিত নিষেধাজ্ঞার খড়গে পড়লাম। ঘোষণা দিলাম, আর ছবিই করব না। তখনই আমার সহশিল্পী খান আতা ঘোষণা দিলেন, ‘রাজা সন্ন্যাসী’ ছবিতে আমাকে নেবেন। এ নিয়ে তখন অনেকের সঙ্গে তার মতবিরোধ তুঙ্গে। কিন্তু বহুগুণের প্রবল ব্যক্তিত্ব খান আতার সিংহসম গর্জনে সবাই চুপ। আমাকে রাজি করাতে শাশুড়ি-ভাসুর (অশোক ঘোষ-খান আতা বন্ধু) তাদের কাছেও গেলেন। জানলেন, আমি অবসর নিয়ে ফেলেছি। কিন্তু তিনি নাছোড়বান্দা। বললেন, আমার এ চিত্রনাট্যে শবনমকে চাই। এজন্য যদি পঞ্চাশ হাজার টাকাও দিতে হয় আমি দেব, না হলে চিত্রনাট্য এখানেই ছিঁড়ে ফেলব।

পরে এক প্রকার ভাসুর অশোক ঘোষের হুকুমে আজিমের বিপরীতে ফিরলাম। এছাড়াও ‘জোয়ার ভাটা’তেও খান আতার পরিচালনায় কাজ করলাম। রাজা সন্যাসীর পর ডজনখানেক প্রযোজক তখন পাকিস্তানের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক দিয়ে আমাকে নিতে থাকে। সেদিন যদি খান আতা ওভাবে আমাকে না নিতেন তা হলে আমি অবসরে চলে গিয়েছিলাম। অথচ তিনি আমাকে পুনর্জন্ম দিলেন। আমি বেঁচে আছি তিনি আজ লোকান্তরের স্থায়ী বাসিন্দা। ভালো থাকুন চাচা।

advertisement