advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

স্রষ্টা যেমন পরম দয়ালু, ঠিক তেমন ন্যায় বিচারকও

সাইফুল্লাহ সাইফুল
২৩ এপ্রিল ২০২১ ২০:২৭ | আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২১ ২০:২৭
সাইফুল্লাহ সাইফুল। শিক্ষার্থী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
advertisement

মা, তার সন্তানের জন্য আনন্দে জীবন উৎসর্গ করেন। সবসময় সন্তানের কল্যাণের কথা চিন্তা করেন। লক্ষ্য করলে দেখা যায় একজন পাগল মা- বাবাও সন্তানের ভালোবাসা বোঝেন, দয়া করে থাকেন। শুধু মা- বাবাই নয় পশু পাখিদের মাঝেও পরম ভালোবাসা লক্ষ্য করা যায়।

এ তো গেল দয়া ও ভালোবাসার কথা। অন্যদিকে শিশুরা মা-বাবার অবাধ্য হলে অন্যায় কাজ করলে মা-বাবা বিচারও করে থাকেন। তাই বলে মা-বাবাকি পাষান?  আরেকটু পরিষ্কার করা যাক- ধরুন একজন বাবার দুটো সন্তান। দুই সন্তানের প্রথমজন দ্বিতীয়জনকে বিনা কারণেই ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিলো। যাকে ধাক্কা দিলো সে মাটিতে পড়ে খুব ব্যথা পেল এবং চিৎকার করে কেঁদে উঠল। এখন বাবা এসে যদি প্রথমজনকে তার অন্যায়ের জন্য শাস্তি না দেন, তাহলে সেটা তার দ্বিতীয় সন্তান, যে নিষ্পাপ, তার প্রতি কি অন্যায় করা হবে না? আল্লাহ তাআয়ালার নিরানব্বই ভাগ দয়া আর পৃথিবীর সমস্ত মা-বাবার দয়া একভাগ। 

আল্লাহ তাআয়ালা জান্নাত ও জাহান্নাম দুটোই তৈরি করে রেখেছেন। আমাদের কর্মফলই নির্ধারণ করে দেবে আমাদের গন্তব্যস্থল। এতে কোনো দুই নম্বরি হবে না। কারও সাথে চুল পরিমাণও অন্যায় করা হবে না। স্রষ্টা আামাদের একটা স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। সাথে পাঠিয়েছেন একটা গাইডবুক। এখন এই স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগ করেই আমরা সিদ্বান্ত নিই যে, আমরা তার দেখানো পথে চলব, নাকি চলব না। যদি চলি, আমরা জান্নাতে যাব। যদি না চলি, আমরা জাহান্নামে যাব।

ধরুন, আপনি গভীর সাগরে জাহাজ থেকে পানিতে পড়ে গেলেন। পানিতে আপনি হাঁসফাঁস করছেন। একটু পরেই সাগরের অতলে তলিয়ে যাবেন। এখন ধরুন, আপনাকে উদ্ধার করার জন্য আমি একটি লাইফ জ্যাকেট আপনার দিকে বাড়িয়ে দিলাম। সেই মুহূর্তে আপনার কাছে দুটো অপশন। হয় লাইফ জ্যাকেটটি নিয়ে নিজের প্রাণ বাঁচাবেন নয়তো, আমাকে প্রত্যাখ্যান করবেন আর অতল সাগরে তলিয়ে যাবেন এবং মৃত্যুবরণ করবেন।

খেয়াল করুন, এখানে লাইফ জ্যাকেটটি হলো বাঁচার বা মুক্তির উপকরণ। তেমনি মহান আল্লাহ তাআয়ালা জাহান্নাম থেকে বাঁচার উপকরণ আমাদের জন্য পাঠিয়েছেন। তাই আসুন, আল্লাহর কোরআনকে মেনে চলি ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর আদর্শে জীবনটাকে গড়ি। তাহলেই মুক্তি আশা করা যায়। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের কবুল করুন। আমিন।

লেখক : সাইফুল্লাহ সাইফুল

বিবিএ (অনার্স), এমবিএ ব্যবস্থাপনা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

advertisement