advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ভার্চুয়াল সংলাপ
শিক্ষায় বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি

৩০ এপ্রিল ২০২১ ১১:২৭ এএম
আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২১ ১১:২৭ এএম
advertisement


করোনা সংক্রমণজনিত ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিক্ষা খাতে বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বরাদ্দ বৃদ্ধি করে শিক্ষার্থীদের সর্বজনীন উপবৃত্তি, স্কুল ফিডিং, ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিতের দাবি জানান তারা। পাশাপাশি বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে সঠিক পরিকল্পনা ও যথাযথ ব্যবহারেরও আহ্বান জানানো হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার গণসাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত ‘করোনায় বিপর্যস্ত শিক্ষা : কেমন চাই বাজেট’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সংলাপে বক্তারা এ দাবি জানান।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, আগামী বাজেটে অর্থনীতি, কৃষি, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়ন গুরুত্ব পেলেও শিক্ষাকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। এটিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে মোট বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ দিয়ে শিক্ষার্থীদের সর্বজনীন উপবৃত্তি, স্কুল ফিডিং, ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে হবে। বক্তারা বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে টিভি, অনলাইন, রেডিও মাধ্যমে ক্লাস চালু করলেও তা সর্বস্তরে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে অনেকে পিছিয়ে পড়েছে। এর ফলে বাল্যবিবাহ, পরিবারে অশান্তি তৈরি হয়েছে। তারা আরও বলেন, করোনার মধ্যে সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা
নিয়মিত বেতন পেলেও নন-এমপিওরা বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ কারণে অনেকে পেশা পরিবর্তন করেছেন।
আলোচনায় পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, দেশে সাক্ষরতার হার নিয়ে নানা সমস্যা রয়েছে। সাক্ষরতার সঠিক ব্যাখ্যা তৈরি করা প্রয়োজন। ফ্রি ইন্টারনেট প্রদানের বিষয়ে তিনি বলেন, ফ্রি ইন্টারনেট দিয়ে বিনোদন করবে নাকি শিক্ষার কাজে ব্যবহার করবে সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আমরা কোথায়, কাকে ফ্রি দেবÑ তা আগে সুনিশ্চিত হতে হবে। ফ্রি ইন্টারনেট পেয়ে নাটক-সিনেমা দেখবে, তা হতে পারে না।
অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে ক্ষতিপূরণ বাজেট নির্ধারণ করতে হবে। শুধু বরাদ্দ বাড়ালে চলবে না। বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করতে হবে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বিশেষ বরাদ্দের আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, শিক্ষার ব্যয়ের জন্য অনেকে বাজেট বৃদ্ধির সুপারিশ করেন। বাজেট বৃদ্ধিতে সব সমস্যা সমাধান হয় না, এটির ব্যবহারে সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা তৈরি বড় বিষয়। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ২৩ মে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সঞ্চালকের বক্তব্যে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, করোনা মহামারীতে শিক্ষার কী ধরনের বাজেট হওয়া উচিত তা আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। মাঠপর্যায়ে বাজেট সংক্রান্ত সংলাপ ও আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি ও দাবির বিষয়টি জানার চেষ্টা করা হয়েছে। এর আলোকে মোট বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। আরও বক্তব্য রাখেন মঞ্জুরুল আহমেদ, শিক্ষক নেতা কাজী ফারুক বক্তব্য রাখেন।

advertisement