advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

দেড় হাজার কোটি টাকা আত্মসাতে হচ্ছে ২০ মামলা

পিকে হালদার ও তার সহযোগিদের লুটপাট

দুলাল হোসেন
৬ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৬ মে ২০২১ ১২:০৬
advertisement

ঋণের নামে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে বিদেশে পালিয়ে থাকা এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালাদারসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ২০ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

শিগগিরই এসব মামলার অনুমোদন দিতে কমিশনে সুপারিশসহ প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান। গতকাল বুধবার দুদক থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড থেকে পিকে হালদার ও তার সহযোগীরা ঋণের নামে ওই টাকা আত্মসাৎ করে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিল করতে উপপরিচালক মো. গুলশান আনোয়ারকে প্রধান করে টিম গঠন করে কমিশন। দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ফাস ফাইন্যান্সের এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য-উপাত্ত। এসব অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে পিকে হালদারের হাতে তৈরি ২২ প্রতিষ্ঠান জড়িত। এর মধ্যে ২০ প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব নেই। ঋণগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরাও তাদের বাসায় থাকে না, কেউ কেউ আবার বিদেশে পলাতক। সবার মোবাইল নম্বরও বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের
বিপরীতে কোনো মর্টগেজও নেই। ফলে ঋণের টাকা আদায়ের আর কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে যে দুটি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, সেগুলোও বন্ধ রয়েছে।

অনুসন্ধানী টিমের তথ্যানুযায়ী, পিকে হালদার প্রায় চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ ও পাচার করেছেন। এ কাজে তিনি তার আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের ব্যবহার করেছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের বিভিন্ন কাগুজে প্রতিষ্ঠানের মালিক বানিয়ে ঋণ নিলেও তারা ছিল তার বেতনভুক্ত কর্মচারীর মতো। ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের এমডি মো. রাশেদুল ইসলাম ও পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তারা সবাই পিকে হালদারের বেতনভুক্ত কর্মচারী ছিলেন বলে জানিয়েছেন।

পিকে হালদার যেসব অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ নিউটেক এন্টারপ্রাইজ, নিউট্রিক্যাল লিমিটেড, এসএ এন্টারপ্রাইজ, সুখাদা প্রপার্টিজ লিমিটেড, নেচার এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড, উইনটেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, বর্ণ, সন্দ্বীপ করপোরেশন, আনান কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এন্ডবি ট্রেডিং, আরবি এন্টারপ্রাইজ, দেয়া শিপিং লিমিটেড, ইমার এন্টারপ্রাইজ, জিঅ্যান্ডজি এন্টারপ্রাইজ, হাল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, কণিকা এন্টারপ্রাইজ, মেরিন ট্রাস্ট লিমিটেড, মুন এন্টারপ্রাইজ, এমটিবি মেরিন লিমিটেড ও পিঅ্যান্ডএল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা ফাস ফাইন্যান্স লিমিটেড থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। ঋণ নেওয়া হলেও ঋণের টাকা এসব প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা হয়নি বরং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হয়েছে।

বেশিরভাগ ঋণের ক্ষেত্রে মর্টগেজ ছিল না; থাকলেও তার পরিমাণ খুবই নগণ্য। কিছু ক্ষেত্রে মর্টগেজ নেওয়ার কথা থাকলেও পরে তা নেওয়া হয়নি। অথচ ঋণ হিসাব থেকে সব টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের বোর্ড অব ডিরেক্টরস ও চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক কোনোভাবেই দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।

জানা গেছে, পিকে হালদারের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে গত ১৪ জানুয়ারি দুদক সচিব মু আনোয়ারুল হাওলাদার বলেন, হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত পিকে হালদারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতায় এ ৬২ জনের নাম পেয়েছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা। পিকে হালদারের বিষয়টি এখন অনেক বড়। দেখা যাচ্ছে, তার বিভিন্নজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে। আমরা ইতোমধ্যে অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। মোটামুটি জানা গেছে, ৬২ ব্যক্তির সঙ্গে তার লিঙ্ক বা সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। এই ৬২ জনের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত দুদক এক হাজার ৫৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা জব্দ করেছে।

দুদকের জনসংযোগ শাখা জানায়, ২০১৯ সালের ৮ জানুয়ারি পিকে হালদারের বিরুদ্ধে ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করে কমিশন দুদক। এজাহারে বলা হয়েছেÑ তার নামে-বেনামে ঢাকায় ফ্ল্যাট, বাড়ি ও গাড়িসহ আরও সম্পদ থাকার পাশাপাশি তিনি অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। মামলার তদন্তকালে আরও কোনো অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেলে তা আমলে নেওয়া হবে। এর পর গত ২১ মার্চ ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে ঋণের নামে প্রায় ৪৯৪ কোটি ছয় লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ছয়টি মামলা করা হয়।

advertisement