advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

করোনাকালে কেমন আছেন অসহায় মা-বাবারা

মো. হাবিবুর রহমান, রাউজান (চট্টগ্রাম)
৬ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৫ মে ২০২১ ২২:৩৯
advertisement

আবু আহম্মেদ। গায়ে আগের মতো বল নেইে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ। ইফতারের আগ মুহূর্তে ডায়াবেটিসের ইনসুলিন নিয়ে ব্যস্ত তিনি। নিজের শরীরে ইনসুলিন পুশ করতে হবে নিজেকেই। কিন্তু কেন? কেউ কি নেই তার আপনজন, ছেলে-মেয়ে? আছে, সবই আছে, আবার নেইও। কাছে নেই, তার পাশে কেউ নেই। ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনিদের পাশে একটু ঠাঁই হয়নি তার। তার মতো আপন মানুষগুলোর ভালোবাসা কিংবা যত্নবঞ্চিত অনেক বাবা-মায়ের ঠিকানা রাউজানের আমেনা-বসর বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্র। এই

করোনাকালে কেমন আছেন সেখানকার অগ্রজরা। ২০১৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় প্রায় ৪ একর জমির

ওপর বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় এই বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখানে কয়েক শ’ মানুষের শেষ ঠিকানা হলেও এখন এর বাসিন্দা ২৫ জন। কঠিন এই বাস্তবতাকে মেনে অনেক বৃদ্ধ বাবা-মা আশ্রয় নেন সেখানে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের মতো বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহের দিকে গেলে সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে পড়বেন প্রবীণ ব্যক্তিরা। তবে আমেনা-বসর বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে এখনো পর্যন্ত কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হননি। উপসর্গ না থাকায় করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনাও দেননি কেউ। এমনকি এখন পর্যন্ত কেউ করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন গ্রহণ করেননি।

শিশুকালে সন্তানকে ঘুম পাড়ানির গান গেয়ে ঘুম পাড়াতেন বাবা-মা। গল্প শোনানোর পাশাপাশি ভীত ছেলে-মেয়েদের বুকে আগলে সাহসও দিতেন তারা। কিন্তু এই বৈশ্বিক মহামারীর সময় একাকী নিঃসঙ্গ মানুষগুলোর পাশে নেই কেউ। এমন কি ‘ইনসুলিন’ পুশ করার মতো কোন আপনজনও কাছে নেই। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখার পাশাপাশি তাদের ওষুধ, খাবারসহ সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করছেন বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়করা। অথচ বৃদ্ধ বয়সে প্রতিটি মানুষ তার সন্তান, নাতি-নাতনিদের সঙ্গে একই ছাদের নিচে থাকতে চান। শেষ বয়সে আপন মানুষগুলোর সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে চান।

বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে আশ্রয়, বিনোদন, সঙ্গী-সাথী সবই পাওয়া যায়। কিন্তু শেষ জীবনের পরম আরাধ্য- আনন্দটুকু পাওয়া যায় না, যার জন্য এই সময়টাতে প্রবল মানসিক যন্ত্রণা আর ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠেন তারা। যে বাবা-মা এক সময় নিজে না খেয়েও সন্তানকে মুখে তুলে খাইয়ে দিতেন- আজ কোথায়, কীভাবে, কেমন আছেন, করোনা আক্রান্ত হলেন কিনা, টিকা নিয়েছেন কিনা- সেই খবর নেওয়ার সময় নেই সন্তানদের।

আমেনা-বসর বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রের বাসিন্দা চাঁন্দপুরের সিরাজুল ইসলাম বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে আমরা ভালো আছি। কেউ আক্রান্ত হননি।

শফি নামে আরেক বৃদ্ধ জানান, তার ভাইয়েরা এখানে দিয়ে গেছেন। প্রায় তিন বছর ধরে তিনি এখানে বসবাস করছেন।

আবু আহমেদ বলেন, আমার ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি সবই আছে। কপাল খারাপ তাই এখানে থাকতে হচ্ছে। শরীরে নানা রোগ বাসা বেঁধেছে। ওষুধ সেবন করছি। আপন মানুষগুলোকে কাছে পাচ্ছি না, আমার ঘরে আমি থাকতে পারছি না- এই যন্ত্রণা আমাকে কুঁড়ে খাচ্ছে।

আমেনা-বসর বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. ফারুক আমাদের সময়কে বলেন, আল্লাহর রহমতে আমাদের বৃদ্ধাশ্রমে এখন পর্যন্ত কেউ আক্রান্ত হননি। উপসর্গ না থাকায় করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনাও দিতে হয়নি। রেজিস্ট্রেশন করলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে টিকা দিতে হবে। সে কারণে আমাদের এখানে আশ্রিত কোন বৃদ্ধ করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণ করেননি। বয়স্কদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে পুনর্বাসন কেন্দ্রের বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে টিকা প্রদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীরা এখানে এসে টিকা দিলে ভালো হবে।

এই প্রসঙ্গে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দ্বীন বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন না করলে টিকা কীভাবে গ্রহণ করবে?’ বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা টিকা দিয়ে আসতে পারবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন আর প্রথম ডোজ নেওয়ার সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে প্রথম ডোজ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত প্রথম ডোজ প্রদান কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তাই এই মুহূর্তে তাদের টিকা দেওয়ার ব্যাপারে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

advertisement