advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সুপ্রিমকোর্ট বার সমিতি
আমিন উদ্দিনকে সভাপতি ঘোষণা নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৫ মে ২০২১ ২২:৩৯
advertisement

অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিনকে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ঘোষণার ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে সমিতির আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবী নেতারা। সমিতির বিএনপি সমর্থক ফোরামের সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, সমিতির শূন্যপদ পূরণে ডাকা বিশেষ সাধারণ সভা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর আগেই ওই সভা স্থগিত করা হয়েছে। কোনো ধরনের আলোচনা বা সেখানে সভাপতি পদে কোনো নির্বাচন হয়নি। অন্যদিকে, সমিতির আওয়ামী সমর্থক নেতারা দাবি করেছেন, গণতান্ত্রিকভাবে এবং সর্বসম্মতিক্রমে বিশেষ সাধারণ সভা থেকে এএম আমিন উদ্দিন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

গতকাল বুধবার দুপুরে আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে প্রথমে সংবাদ সম্মেলন করেন সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, সমিতির গঠনতন্ত্রের ১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি পদ পূরণের বিধান রয়েছে। সে লক্ষ্যে ওই পদ পূরণের জন্য করণীয় ঠিক করার জন্য সুপ্রিমকোর্ট

আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৪ মে সমিতির অডিটোরিয়ামে বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়েছিল। ওই সভায় সভাপতির অনুপস্থিতিতে সিনিয়র সহসভাপতি মো. জালাল উদ্দিন সভাপতিত্ব করবেন- এটি ছিল স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সমিতির অপর সহসভাপতি মুহাম্মদ শফিক উল্যা সভাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিজেকে বিশেষ সাধারণ সভার সভাপতি হিসেবে দাবি করলে উপস্থিত সদস্যরা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব কে করবেন- বিষয়টি সুরাহা করে সভা শুরুর জন্য সম্পাদককে অনুরোধ জানান। এ পর্যায়ে সভাপতিত্ব কে করবেন- এ বিষয় নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে মতবিরোধ হওয়ার কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সভার কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। কোনো আলোচনা ও সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভার কাজ মুলতবি করা হয়। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, সভা মুলতবি করার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি, সম্পাদকসহ সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করে করণীয় নির্ধারণ করে নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতির পদ পূরণ করব।

তিনি বলেন, কিন্তু আমরা দুর্ভাগ্যজনকভাবে লক্ষ্য করলাম, কার্যকরী কমিটির সহসভাপতি মুহাম্মদ শফিক উল্যা পরবর্তী সময়ে অতি উৎসাহী হয়ে সমিতির সভাপতির কক্ষে নিজেই সমিতির সদ্য সাবেক সভাপতিকে ২০২১-২২ সালের বাকি মেয়াদের জন্য সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন। যা সমিতির গঠনতন্ত্রবিরোধী। ব্যারিস্টার কাজল বলেন, ‘বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়েছিল সভাপতি পদপূরণে করণীয় নির্ধারণের জন্য, নির্বাচনের জন্য নয়। তাই এ ঘটনা প্রমাণ করে ভোটবিহীন ক্ষমতা দখলের যে চর্চা বর্তমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাসীনরা চালু করেছে, গত মঙ্গলবারের ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এর মাধ্যমে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতিতে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হলো। যেটি সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী হিসেবে কখনই আমাদের কাম্য ছিল না।’

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল আরও বলেন, ‘কোনো অনির্বাচিত ব্যক্তির মাধ্যমে সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত হবে- এটি কোনো সদস্য প্রত্যাশা করে না। সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতির শূন্যপদ নির্বাচনের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির বিজ্ঞ সদস্যরা আমাদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করেছেন। নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে অনির্বাচিত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে আমরা কাজ করি কিংবা সমিতি পরিচালনায় সম্পৃক্ত হই- এমনটি কেউ প্রত্যাশা করে না। এ পরিস্থিতিতে আমরা মনে করি, ভোটারদের ভোটের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা আমাদের সিনিয়র আইনজীবী, সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকদের সাথে মতবিনিময় করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব। আমরা সিনিয়রদের অনুরোধ করব- এই অচলাবস্থা নিরসনের জন্য তারাও এগিয়ে আসবেন। তারা সকলে গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে আমাদের সভাপতির পদপূরণসহ সমিতির কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে সহায়তা করবেন।’

এর পরই পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন সমিতির আওয়ামী লীগের প্যানেল থেকে নির্বাচিত সহসভাপতি মুহাম্মদ শফিক উল্যা। তিনি বলেন, বারের গঠনতন্ত্র ১৬ ধারা অনুযায়ী সভাপতি পদে যেভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে তা যথাযথ। বিশেষ সাধারণ সভায় এএম আমিন ?উদ্দিনের নাম প্রস্তাব করা হয়, সেখানে অন্য কারও নাম উচ্চারণ না হওয়ায় তিনি সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। সভাপতি পদে নতুন করে ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরাসরি এ পর্যায়ে ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সুযোগ গঠনতন্ত্রে নেই। এ সময় আওয়ামীপন্থি প্যানেল থেকে নির্বাচিত সমিতির ছয় জন কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, গত ১০ ও ১১ মার্চ দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সমিতির ২০২১-২০২২ সেশনের এ নির্বাচনে কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতিসহ আটটি পদে জয়ী হন সরকার সমর্থক সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ (সাদা)। অপরদিকে, সম্পাদকসহ বাকি ছয়টি পদে জয়ী হন বিএনপি সমর্থক জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল)। সভাপতি পদে সাদা প্যানেলের প্রার্থী আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু নির্বাচিত হন। সম্পাদক পদে নীল প্যানেলের ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল নির্বাচিত হন। এ ছাড়া সহসভাপতি পদে বিএনপি সমর্থক প্যানেলের মো. জালাল উদ্দিন ও আওয়ামী সমর্থক প্যানেলের মুহাম্মদ শফিক উল্যা নির্বাচিত হন। এই নবনির্বাচিত কমিটি দায়িত্বগ্রহণ করেন গত ১২ এপ্রিল। নবনির্বাচিত সভাপতি আবদুুল মতিন খসরু করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ এপ্রিল মারা গেলে সভাপতির পদ শূন্য হয়।

এরপর সভাপতির শূন্যপদ পূরণের জন্য বিশেষ ৪ মে বেলা ২টার সময় সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে বিশেষ সাধারণ সভার জন্য সাধারণ আইনজীবীরা জড়ো হন। এরপর বিশেষ সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব নিয়ে শুরুতেই হট্টগোল শুরু হয়। এরই মধ্যে আওয়ামী সমর্থক সহসভাপতি মুহাম্মদ শফিক উল্যা দাঁড়িয়ে ঘোষণা দেন তিনি সভায় সভাপতিত্ব করবেন। এ সময় ব্যারিস্টার কাজল বলেন, ওনাকে সভাপতিত্ব করার কোনো কার্যবিবরণী পাস হয়নি। তা ছাড়া সিনিয়র আরেকজন সহসভাপতি হচ্ছেন জালাল উদ্দিন। তিনি সবচেয়ে বেশি সদস্যের ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নিজেও সভাপতিত্ব করার জন্য দাবি করেছেন।

তখন শফিক উল্যা বলেন, আমি আজকের সভার সভাপতি। এই সভা থেকে ঘোষণা করছি, আজ থেকে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিন। তখন আওয়ামী সমর্থক আইনজীবীরা তাকে সমর্থন দেন। বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করতে থাকেন। তারা চিৎকার করে বলতে থাকেন, কণ্ঠভোট নয়, নির্বাচন চাই। একপর্যায়ে মিলনায়তনের বৈদ্যুতিক সংযোগ ও মাইকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। মঞ্চের ওপর ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। তখন সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সাধারণ সভা করার মতো পরিবেশ-পরিস্থিতি না থাকায় সভা মুলতবি করা হলো। বিশেষ সাধারণ সভা প- হওয়ার পর সহসভাপতি শফিক উল্যার নেতৃত্বে আওয়ামীপন্থি কার্যনির্বাহীর সদস্যরা সমিতির সভাপতির কক্ষে হাজির হন। সেখানে বসে রেজুলেশন পাস করে এমএ আমিন উদ্দিনকে সভাপতি ঘোষণা করেন।

advertisement