advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

করোনায় দেশে ৬২ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৫ মে ২০২১ ২২:৩৯
advertisement

করোনা মহামারীতে দেশের ৬২ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই কাজ হারিয়েছেন গত বছরের এপ্রিল-মে মাসে। একইভাবে এই সময়ে ৮৬ শতাংশ মানুষের আয় কমেছে। ৭৮ শতাংশ মানুষ তাদের খরচ কমিয়েছেন। এর মধ্যে ৫২ শতাংশ মানুষ খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। আবার অনেকের ঋণ বেড়েছে। কেউ কেউ সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে কাজ হারানো মানুষের বড় একটি অংশ যোগ দিয়েছেন কৃষিতে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও অক্সফামের জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বুধবার এক ভার্চুয়াল সংলাপে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংস্থার চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান এবং বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্স ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘এখানে করোনা পরিস্থিতির অভিঘাত নিয়ে গত বছরের বাজেটের সময় সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলেছিলেন, খুব দ্রুতই সমস্যা কেটে যাবে। কিন্তু তারা যে কত বিভ্রান্তির মধ্যে ছিল, এখন তা বোঝা যাচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে মানুষ যেখানে টিকে থাকার লড়াই করছে, সেখানে সরকার কতটুকু সহায়ক- সেটি অবশ্যই বিবেচ্য বিষয়। কারণ ২০ শতাংশ মানুষ বলেছে, তারা সরকারি সহায়তা পায়নি।

ফলে সরকারি সহায়তা কতটা কার্যকর হয়েছে, তা অবশ্যই বিবেচ্য। করোনা সবার ওপরে আঘাত হেনেছে। কিন্তু কারও ওপর এই হারটি খুবই বেশি। সরকারের প্রবৃদ্ধি আসক্তি রয়েছে। কিন্তু এর সমর্থনে কোনো তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এ বিষয় নিয়ে বিতর্ক করা অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার মতো। যে দেশে তথ্য-উপাত্ত নেই, সে দেশে জবাব কার্যকর হয় না। আমরা যেন এমন জাতিতে পরিণত না হই, যেখানে প্রকৃত তথ্য-উপাত্তকে সরকারিভাবে ভয়ের চোখে দেখা হয়।’

তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘যারা চাকরি হারিয়েছেন- তাদের প্রায় ৮৫ শতাংশ এক মাসের বেশি সময় কর্মহীন ছিলেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা যখন জরিপ করি তখন প্রায় সবাই কাজ ফিরে পেয়েছেন। সে হিসাবে মোট কর্মসংস্থান আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। নতুন কর্মসংস্থানটা এসেছে মূলত কৃষি খাত থেকে। এ সময়ে কৃষি খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। সেই তুলনায় কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় জায়গা, সেবা খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শতকরা হারে কমেছে প্রায় দেড় শতাংশ। আবার শিল্প খাতে কর্মসংস্থান প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। আমরা দেখেছি, যেসব কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলো, তার প্রায় ৯০ শতাংশ হয় স্বনিয়োজিত খাতে বা পরিবারকে সহযোগিতা। কেউ কেউ দৈনিক শ্রমিকের কাজ করছেন। ফলে যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, তা মূলত অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে।’ জরিপে কর্মঘণ্টার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দৈনিক প্রায় ৪ শতাংশের মতো কর্মঘণ্টা কমেছে। সব থেকে বেশি কর্মসংস্থান যে কৃষি খাত দিয়েছে, সেখানেও কর্মঘণ্টা কমে গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, যেখানে কম সংখ্যক শ্রমিক দিয়ে কৃষি কাজ করা যেত, এখন সেখানে অধিক হারে শ্রমিক যুক্ত হচ্ছে। আবার কর্মসংস্থান ফিরলেও প্রায় ৪৫ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, আগে তাদের যে আয় ছিল, এখন তা কমেছে। আয় কমার এই হার গড়ে ১২ শতাংশের মতো। এর মধ্যে সব থেকে বেশি আয় কমেছে কৃষি খাতে, প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ। একই সঙ্গে উৎপাদন খাতেও সাড়ে ১২ শতাংশের বেশি আয় কমেছে।

বয়স অনুসারেও মানুষের আয় কমেছে উল্লেখ করে তৌফিকুল ইসলাম খান জানান, ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের আয় কমেছে ১৫ শতাংশের ওপর। ৩০-৪৯ বছর বয়সীদের কমেছে ১০ শতাংশ। ৪২-৪৩ শতাংশ মানুষ জানিয়েছে, তাদের কাজের অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ। প্রায় ৮৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছে, তারা আগের মতো যথেষ্ট আয় করছেন না। আবার নতুন যে কর্মসংস্থান হয়েছে, তার অধিকাংশই যুবক- যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। এই বয়সীদের মধ্যে নতুন কর্মসংস্থান প্রায় ৬৫ শতাংশ। ৩০-৬৪ বছরের বয়সীদেরও মধ্যে নতুন কর্মসংস্থান ৩২ শতাংশ। এদের বড় অংশই নারী। এই নারীদের অনেকে কৃষি খাতেও যুক্ত হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, শ্রমশক্তির যে কাঠামো আছে তাকে ব্যবহার করে ২৬০০ খানার ওপর এই জরিপ পরিচালিত হয়। গত জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এই জরিপ করা হয়েছে। ফলে মার্চের শেষে বা এপ্রিলের শুরু থেকে করোনার যে দ্বিতীয় ঢেউ এসেছে, তার চিত্র এই প্রতিবেদনে নেই।

advertisement