advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

মাদককারবারিদের নয়া কৌশল
বেদের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচার

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৫ মে ২০২১ ২২:৩৯
advertisement

মাদক পরিবহনের ক্ষেত্রে দেশে কখনো কোনো চক্র এমন অদ্ভুত কৌশল ও অভিনব রুট ব্যবহার করেনি। এই প্রথম এমন কৌশলের মুখোমুখি হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এমনটাই জানিয়েছে র‌্যাব, গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এ সময় বলা হয়, বেদে দলের ছদ্মবেশে টেকনাফ থেকে রাজধানীতে গোপনে ইয়াবা নিয়ে আসা একটি চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। র‌্যাব ২-এর একটি আভিযানিক দল গত মঙ্গলবার মোহাম্মদপুর থানার বসিলা মধ্যপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গতকাল বুধবার বিকালে কারওয়ানবাজারের র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব ২-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার জানান, মূলত ভাসমান বেদে দলের ছদ্মবেশ ধারণ করে তারা মাদক পাচার করে থাকে। বেদে দল হিসেবে তাদের সঙ্গে রান্নার জন্য টিনের তৈরি যে চুলা রয়েছে, বহনযোগ্য সেই চুলার ভেতরে বিশেষ কায়দায় তারা ইয়াবা নিয়ে আসে। বেদেবেশী মাদককারবারিদের এমন চুলার নিচের অংশ কেটে ভেতর থেকে ৭৭ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। চক্রটির কাছ থেকে ছদ্মবেশ ধারণের সরঞ্জামাদি, রান্নার হাঁড়ি-পাতিল, বালতি, বহনযোগ্য ডিসপ্লে র‌্যাক এবং বিভিন্ন ধরনের ইমিটেশন অলংকার উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে নিয়মিত কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকা ও সমুদ্রপথে বাংলাদেশে আসা ইয়াবা ট্যাবলেট রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃত মাদককারবারিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে অভিনব কায়দা হিসেবে বেদের ছদ্মবেশ ধারণ করে মাদক বহন করে নিয়ে

আসত। মাদক পরিবহনের জন্য টিনের তৈরি সহজে বহনযোগ্য রান্না করার চুলার মধ্যে বিশেষ কায়দায় ইয়াবা লুকিয়ে তা আবার ঝালাই করে জোড়া লাগিয়ে দিত। তারা মাদকের চালান কক্সবাজার এলাকা থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে কখনই মহাসড়ক ব্যবহার করত না।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা আরও জানায়, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত আসার ক্ষেত্রে তারা মহাসড়ক ব্যবহার না করে বিকল্প হিসেবে গ্রামের ভেতরের রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন ইজি বাইক/সিএনজি/টেম্পো ব্যবহার করে পথ পাড়ি দিত। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসার ক্ষেত্রে তারা চট্টগ্রাম সিটি গেটসহ বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট এড়াতে প্রথম ধাপে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে হাটহাজারী-মানিকছড়ি-গুইমারা-রামগড় হয়ে ফেনী আসত। সেখান থেকে তারা নোয়াখালী-চৌমুহনী-সোনাইমুড়ী এবং চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ হয়ে মতলব লঞ্চঘাট পর্যন্ত আসত। দ্বিতীয় ধাপে তারা সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে মুন্সীগঞ্জ হয়ে বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করত। এতে করে তাদের ৪/৫ দিন অথবা কোনো কোনো সময় এক সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যেত বলে জানায়। এই দীর্ঘসময় তারা বেদেদের মতোই জীবনযাপন করত এবং সাধারণ মানুষের সন্দেহ দূর করতে পথের মাঝে বিভিন্ন মনিহারি দ্রব্য যেমন- চুড়ি, কড়ি, চুল বাঁধার ফিতা, শিশুদের কোমরে বাঁধার ঘণ্টা, চেইন, সেফটিপিন, বাতব্যথার রাবার রিং ইত্যাদি বিক্রি করত। মাদক পরিবহনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের কৌশলের মুখোমুখি ইতিপূর্বে কখনো হয়নি এবং তারা যে রুটটি ব্যবহার করছে তা একেবারে নতুন বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।

advertisement