advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

অপহরণ ও হত্যার পর নিখোঁজের মাইকিং ঘাতকের

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
৬ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৫ মে ২০২১ ২২:৪২
advertisement

প্রথমে অপহরণ। এর পর হত্যা করে লাশ গুম। পরে আবার মোবাইলে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণও দাবি করেন। এতসব কিছুর পর আবার নিজেই এলাকায় নিখোঁজের মাইকিং করেন। যাতে করে পরিবার ও পুলিশের সন্দেহের তীরটি তার দিকে না যায়। পরিপূর্ণ সন্দেহের বাইরে থাকতে নিজের কর্মস্থলের এক সহকর্মীর মোবাইল চুরি করে মুক্তিপণ দাবি করেন সেই মোবাইল দিয়েই। এতকিছুর পরও শেষ রক্ষা হলো না। অবশেষে পুলিশের হাতে ধৃত ঘাতক। গ্রেপ্তারকৃত সুজন মিয়া (২৮) গাইবান্ধা জেলার মিয়া গ্রাম এলাকার কোরবান আলীর ছেলে। সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের চর সিমুলপাড়া এলাকায় বসবাস করেন তিনি। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক শওকত জামিল বলেন, ২৮ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় শিশু রিয়াদের বাবা রাজু বাদী হয়ে নিখোঁজের একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এর আগে ২৪ এপ্রিল ইফতারের পর সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী সোনামিয়া বাজার এলাকার ভাড়াবাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হয় রিয়াদ। এরই মধ্যে একটি মোবাইল নাম্বার থেকে রিয়াদের বাবার মোবাইলে ছেলেকে ফিরে পেতে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে একটি ফোন আসে। পরে সেই মোবাইলের কললিস্টের সূত্র ধরে আমরা তদন্ত শুরু করি। একপর্যায়ে আমরা অপহরণকারীকে শনাক্ত করি। পরে বুধবার ভোরে সিদ্ধিরগঞ্জের চরসিমুলপাড়া এলাকা থেকে অপহরণকারী নিহত রিয়াদের দূরসম্পর্কের খালু সুজনকে (২৮) আটক করি এবং তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জালকুড়ির তালতলা এলাকার একটি ডোবা থেকে শিশু রিয়াদের (৭) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত শিশু রিয়াদ সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের চরসিমুলপাড়ার স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। সে তার মা-বাবার কনিষ্ঠ সন্তান। আদমজী সোনামিয়া বাজার এলাকায় করিম মিস্ত্রির ভাড়া বাসায় বাবা-মায়ের সাথে থাকত শিশু রিয়াদ। রিয়াদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের মিয়া গ্রামে। নারায়ণগঞ্জের অতিরক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানায়, শিশু রিয়াদ হত্যাকা-ের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আমরা একজনকে আটক করেছি। প্রাথমিকভাবে আমরা এই হত্যাকা-ের সাথে আরও একজনের জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছি। তবে তদন্তের কারণে আমরা এখনি তার নাম বলতে পারছি না। হত্যাকা-ের ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

advertisement