advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বৈধ ইজারায় চলে অবৈধ স্পিডবোট

শিমুলিয়া বাংলাবাজার নৌরুট

নাদিম হোসাইন, মুন্সীগঞ্জ
৬ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৫ মে ২০২১ ২৩:০৭
advertisement

পদ্মা নদীতে চলাচলরত সাড়ে ৪০০ স্পিডবোটের মধ্যে অধিকাংশের নেই নিবন্ধন। এর চালকদের বেশিরভাগই অদক্ষ। তাদের কারোরই নেই লাইসেন্স। তবু অবৈধভাবেই চলছে নিবন্ধনহীন স্পিডবোটগুলো। আবার অবৈধ স্পিডবোট চলাচলে দেওয়া হচ্ছে ঘাটের ইজারা। দক্ষিণবঙ্গের শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়ায় স্পিডবোট ঘাটের বৈধ ইজারায় চলাচল করছে অবৈধ এ স্পিডবোট। গত সোমবার এ নৌরুটে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী ঘাটসংলগ্ন পদ্মায় বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষে স্পিডবোটের ২৬ যাত্রীর প্রাণহানির ঘটনার পর বৈধ ইজারায় অবৈধ স্পিডবোট চলাচল নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে চলছে আলোচনা-সামালোচনা।

এদিকে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ঘাটের ইজারা দিয়ে আসছিল মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদ। তবে বর্তমানে ঘাটের ইজারা দিচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ- এসব তথ্য জানিয়েছেন জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আকরাম আলী। তিনি বলেন, জেলা পরিষদ সর্বশেষ ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৪ কোটি টাকায় এ ঘাটের ইজারা দেয়। ইজারা পায় স্থানীয় সিরাজ মেম্বার নামে এক ব্যক্তি। অন্তত ১০ বছর এ নৌরুটে স্পিডবোট ঘাটের ইজারা দিয়েছে জেলা পরিষদ। তিনি আরও বলেন, বিআইডব্লিউটিএ ঘাট ইজারা দিলে প্রতি বছর জেলা পরিষদের ফান্ডে এক কোটি টাকা দেওয়ার কথা। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো বছরই বিআইডব্লিউটিএ সেই টাকা জেলা পরিষদকে দেয়নি।

অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ স্পিডবোট ঘাটের ইজারা দেওয়া শুরু করে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে। এ সময়ে বিআইডব্লিউটিএর কাছ থেকে ১ কোটি ৪ লাখ টাকায় ঘাটের ইজারা নেয় হামিদুল ইসলাম। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪ কোটি টাকায় ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেন খান নিজেই এ ঘাট ইজারা নিয়েছিলেন। এর আগে ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরেও তিনিই ঘাটের ইজারা নেন। চলতি অর্থবছরে ১ কোটি ৬৯ লাখ ২০ হাজার টাকায় ঘাট ইজারা পেয়েছেন জেলার লৌহজং উপজেলার মেদেনীম-ল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেন খানের ভাই শাহ-আলম। এ প্রসঙ্গে আশরাফ হোসেন খান

সাংবাদিকদের বলেন, ঘাটের ইজারাদারের কাজ হচ্ছে স্পিডবোটের সিরিয়াল দেওয়া। যাত্রীদের কাছ থেকে টিকিট কাটা। কোনো স্পিডবোটের নিবন্ধন রয়েছে কিনা তা আমাদের দেখার বিষয় নয়। চালকদের লাইসেন্স আছে না নেই কিংবা অদক্ষ চালকের বিষয়ে দেখার কাজও নয় আমাদের। স্পিডবোটের নিববন্ধন ও চালকদের লাইসেন্স রয়েছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএর।

বিআইডব্লিউটিএর শিমুলিয়া ঘাটের বন্দর কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের জানান, স্পিডবোটের নিবন্ধন প্রক্রিয়ার কাজ নৌপরিবহন অধিদপ্তরই করে। বোট চালকদের কারও লাইসেন্স নেই। তবে তাদের যোগ্যতা সদন দেওয়া হয়। যেমন যিনি সুকানি তাকে সুকানির, যিনি মাস্টার তাকে মাস্টারের সনদ দেওয়া হয়। তবে স্পিডবোটের নিবন্ধনের কোনো সুনির্দিষ্ট তালিকা বিআইডব্লিউটিএর কাছে নেই। ওই কর্মকর্তা বলেন, আগে এ ঘাট ইজারা দেওয়া হতো জেলা পরিষদ থেকে। ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে ঘাট ইজারা প্রদানের দায়িত্ব পায় বিআইডব্লিউটিএ। স্পিডবোট চলাচলের ক্ষেত্রে তদারকির দায়িত্ব হচ্ছে নৌপুলিশের। স্পিডবোটে যাত্রীদের পরনে লাইফ জ্যাকেট রয়েছে কিনা কিংবা অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া হচ্ছে কিনা- তা নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব নৌপুলিশের।

advertisement