advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ভারত থেকে রেলে আসছে ৫০ হাজার টন সিদ্ধ চাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৫ মে ২০২১ ২৩:০৭
advertisement

ভারত থেকে প্রথমবারের মতো রেলপথ দিয়ে ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৩ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

গতকাল বুধবার ভার্চুয়ালসভায় ক্রয় প্রস্তাতগুলোতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভা শেষে অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাবগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. শাহিদা আক্তার।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১৭তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্রয় কমিটির অনুমোদনের জন্য ১৪টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ৫টি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ২টি, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের ২টি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ২টি, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ১টি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের ১টি এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রস্তাবনা ছিল। এর মধ্যে ৮ ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৫৭৭ কোটি ৮৭ লাখ ৪২ হাজার ৯৪২টাকা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে গণপূর্ত বিভাগের যে প্রকল্পগুলো ছিল সেগুলো আমরা বিবেচনা করিনি, কারণ এখন সময় নেই। এ অর্থবছরে কাজগুলো শেষ করা যাবে না। অর্থবছরের সময় আছে মাত্র একমাস। চলতি মাস বাদ দিলে জুন মাস শুধু বাকি আছে। সে জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি গণপূর্ত বিভাগের যেগুলো চলমান কাজ সেগুলো চলবে এবং বিদেশি অর্থায়নের কাজগুলো চলবে। এ ছাড়া নতুন যেসব প্রকল্প যেগুলো লম্বা সময় লাগে কাজ শেষ করতে এবং এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে শেষ করা যাবে না সেগুলো পর কাজ শুরু করতে হবে। আমরা ঠিক করেছি এখন থেকে আগামী জুন পর্যন্ত গণপূর্ত বিভাগের নতুন কোনো প্রকল্প আমরা অনুমোদন দেব না। এটা আমরা পরিষ্কার করে দিয়েছি। এ জন্য আজকের বৈঠকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ৫টি প্রস্তাব জুনের পরে পুনঃরায় উত্থাপনের জন্য বলা হয়েছে। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. শাহিদা আক্তার

অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল আমদানির একটি ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। ভারতের মেসার্স সৌবিক এক্সপোর্টস লিমিটেড এ চাল সরবরাহ করবে।

তিনি বলেন, ভারত থেকে প্রথমবারের মতো রেলপথ দিয়ে চাল আসছে। কলকাতার ছত্তিশগড় রেলস্টেশন থেকে লোড হয়ে বাংলাদেশের বেনাপোল, দর্শনা ও রোহাপুর রেল বন্দর দিয়ে এ চাল দেশে প্রবেশ করবে। প্রতি টনের দাম ৩৮৬ মার্কিন ডলার হিসাবে বাংলাদেশি টাকায় মোট ব্যয় হবে ১৬৩ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রতি কেজি চালেন দাম পড়বে ৩২ দশমিক ৭৩ টাকা।

বৈঠকে অনুমোদিত অন্য প্রস্তাবগুলো হলো

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক ‘সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেসিপ)’ প্রকল্পের আওতায় ৬৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভোকেশনাল শিক্ষা সরঞ্জাম বিতরণের জন্য লট-২, এবং ৪-এর আওতায় যন্ত্রপাতি ২টি লটে সর্বমোট ৫৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৪ হাজার ১১০ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের ২নং লটের ক্রয় প্রস্তাব যাচাই-বাছায়ের জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া বৈঠক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীন বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) কর্তৃক এস্টাব্লিশমেন্ট অব ১৬০ উপজেলা আইসিটি ট্রেইনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন ফেস-২’ প্রকল্পের পূর্ত কাজ, যন্ত্রপাতি/সরঞ্জামাদি ও সেবা কার্যক্রম কোরিয়ার তাইহান কনসোর্টিয়ামের কাছ থেকে ৪৬০ কোটি ৫ হাজার ৭৬৬ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ড. শাহিদা আক্তার বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক তিউনিশিয়া থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। প্রতি টন সারের দাম ৫৬৮ মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ৭২৩ কোটি ৭৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক বেলারুশ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। প্রতিটন সারের দাম ধরা হয়েছে ২৯২ দশমিক ৮৭ মার্কিন ডলার। সে হিসাবে মোট ব্যয় হবে ৪৪৭ কোটি ৮২ লাখ ৭৫ হাজার ১৭০ টাকা। এ ছাড়া সরাসরি ক্রয়ের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব টেবিলে উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবটি হলো শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশের কাছ থেকে ১৪তম লটে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া ক্রয়ের প্রস্তাব। প্রস্তাবটি বৈঠকে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রতিটন সারের দাম ধরা হয়েছে ৩৬২ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার। এতে মোট ব্যয় হবে ৯২ কোটি ৩৮ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ টাকা।

ড. শাহিদা আক্তার বলেন, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অধীন পেট্রোবাংলা কর্তৃক এলএনজি কেনার আরও একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজির প্রতি এমএমবিটিইউ-এর দাম পড়বে ৮ দশমিক ৯৩ মার্কিন ডলার। এ জন্য মোট ব্যয় হবে ২৯৮ কোটি ২২ লাখ ২২ হাজার ৭৯ টাকা। সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সেলারেট এনার্জি এলপি এই এলএনজি সরবরাহ করবে।

advertisement