advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

দেশে ভয়াবহ ভারতীয় ধরন

। দুজন পুরুষের দেহে মিলেছে । তারা সম্প্রতি ভারত থেকে দেশে আসেন । যশোর বিমানবন্দরে কড়াকড়ি, শুরু হয়েছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা । সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে পরামর্শ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের

দুলাল হোসেন (ঢাকা) ও উত্তম ঘোষ (যশোর)
৯ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৯ মে ২০২১ ০৯:৫৪
advertisement

বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানো করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ধরনের (ভ্যারিয়েন্ট) একটি বাংলাদেশেও শনাক্ত হয়েছে। দুই ব্যক্তির শরীরে এর অস্তিত্ব মিলেছে। তারা দুজনই পুরুষ এবং দুজনই সম্প্রতি ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। চিন্তার বিষয় হচ্ছে, দেশে আরও ৪ জনের শরীরে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের কাছাকাছি ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। ভারতে গত ফেব্রুয়ারিতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়। দেশটি কিছুদিন ধরে করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুতে বিশ্বে রেকর্ড গড়ছে। বিশেষজ্ঞরা ভারতের এবারের ধরনটিকে বলছেন খুবই মারাত্মক। বাংলাদেশে যেন এ ধরনটি ছড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে গত ২৬ এপ্রিল থেকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত বন্ধ রয়েছে। ভারতীয় নতুন এ ধরন রোধে যশোর বিমানবন্দরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। সেখানে স্বাস্থ্যগত পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত বন্ধের মেয়াদ গতকাল শনিবার আরও ১৪ দিন বাড়ানো হয়েছে। এমন সব সতর্কতা অবলম্বনের পরও বাংলাদেশে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। বাংলাদেশে ভারতীয় যে ভ্যারিয়েন্ট বা ধরন পাওয়া গেছে তার আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়েছে বি.১.৬১৭। মিউটেশনের কারণে এর তিনটি সাব টাইপ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে পাওয়া গেছে বি.১.৬১৭.২ ধরনটি।

ভারতে প্রথম এ মিউট্যান্ট শনাক্ত হয়। এ কারণেই একে ভারতীয় ধরন বলা হয়ে থাকে। ইতোমধ্যে প্রায় দুই ডজন দেশে করোনা ভাইরাসের এ ধরনটি সংক্রমিত হয়ে গেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

জানা গেছে, আমাদের পাশর্^বর্তী দেশ করোনার ইউকে ভ্যারিয়েন্ট ও ডাবল মিউটেশন ভ্যারিয়েন্ট (ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্ট) একযোগে সংক্রমিত করছে। এ কারণে শিশু, কিশোর, তরুণ, যুবকসহ সব বয়সী মানুষ মারাত্মক করোনা সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ট্রিপল মিউটেশন ভ্যারিয়েন্ট (ই.১.৬১৮)। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে করোনার ট্রিপল মিউটেশন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়। ভ্যারিয়েন্টটির নাম বেঙ্গল স্ট্রেইন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ভ্যারিয়েন্টটি আরও বেশি সংক্রামক, এমনকি মারাত্মকও হতে পারে।

ভারতের নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার পর ওই সময়ে আমাদের দেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, বাংলাদেশে ইউকে ও দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট কমবেশি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাশর্^বর্তী দেশ ভারতে ডাবল ও ট্রিপল ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। পাশর্^বর্তী দেশ হওয়ায় ভারতের নতুন ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশে চলে আসতে পারে। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের বাংলাদেশে প্রবেশ ঠোকাতে সীমান্ত বন্ধসহ সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল শনিবার বাংলাদেশে দুজন ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর প্রকাশ করে। বাংলাদেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ঠেকাতে টিকা নিয়ে গবেষণা, ভারতের সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ, কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি পালন ও চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় এই ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশে ভয়াবহ আকারে সংক্রমণ ছড়াতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। তারা বলছেন, একবার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। হাসপাতালগুলোয় রোগী বৃদ্ধি ও মৃত্যু বেড়ে যেতে পারে। চাপ বেশি বেড়ে গেলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত নিয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, যশোরে ভারতফেরত দুই বাংলাদেশির শরীরে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে নমুনা সিকুয়েন্স করে এটি পাওয়া গেছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে আটজনের নমুনা পরীক্ষা করে দুজনের মধ্যে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে এবং চারজনের মধ্যে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের খুব কাছাকাছি ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে, তবে সেগুলো ডাবল মিউটেশন নয়।

অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, যবিপ্রবি উপাচার্যের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, ভারতফেরত করোনা রোগীর নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। ল্যাবে কিছু সিকোয়েন্স করে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখন পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স করার প্রক্রিয়া চলছে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইডিসিআর) উপদেষ্টা ড. মুস্তাক হোসেন বলেন, ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়লে আমাদের সবার জন্যই তা উদ্বেগের বিষয়। সেটা ভারত থেকে আসুক বা দেশের অভ্যন্তরেই হোক- উদ্বেগ থাকবেই। প্রতিবেশী দেশের ভাইরাস নিয়ে আমাদের উদ্বেগ বেশি। তবে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের বিষয় নিয়ে এখনো গবেষণা করে দেখা হয়নি, কতটা ক্ষতিকর। এটা ঠিক, ভারতে যখন সংক্রমণ বেড়েছে, তখন ভ্যারিয়েন্টটা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, এখন আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। সতর্কতামূলক যেসব বিধি আছে, সেগুলো মেনে চলতে হবে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে যেসব পদ্ধতি রয়েছে, সেগুলো আমাদের পক্ষে মেনে চলা সম্ভব। প্রমাণ হচ্ছে, আমাদের দেশে নভেম্বরে শীতকালে করোনার দ্বিতীয় টেউ আসার কথা ছিল, আমরা শুধু মাস্ক পরিধানের মাধ্যমে সেটি মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। এবার যে বিশাল টেউ উঠেছিল, সেটিও আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। এখন নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসুক আর পুরনো ভাইরাস হোক, তা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম বাংলাদেশের মানুষ।

ড. মুস্তাক হোসেন আরও বলেন, সংক্রমণ প্রতিরোধে তিনটি কাজ করতে হবে। ভারত থেকে আসা বা দেশের অভ্যন্তরের সংক্রমিত, যাই হোক, সবাইকে চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। যারা আক্রান্ত হন তাদের মধ্যে ৫ শতাংশ রোগীর হাসপাতালে যেতে হয়। ৯৫ শতাংশ থাকেন বাসায়। যারা বাসায় থাকেন, তাদের প্রত্যেককে প্রত্যক্ষ বা টেলিফোনের মাধ্যমে হলেও চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। তারা আইসোলেশনে আছেন কিনা, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ সংক্রমিতদের চিহ্নিত করে তাদের মাধ্যমে যেন সংক্রমণ না ছড়ায়, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া অজানা উৎস থেকে সংক্রমণ যেন না ছড়ায়, সেদিকে নজর দিতে হবে।

আইডিসিআরের এই উপদেষ্টা বলেন, আরেকটি হচ্ছে টিকা দেওয়া। আমরা যত বেশি টিকা দিতে পারব, তত বেশি মৃত্যুর হার কমাতে পারব। টিকা দিলে সরাসরি হয়তো সংক্রমণ বন্ধ হবে না, সেই রকম টিকা এখনো বের হয়নি। হাসপাতালে যেন যেতে না হয়, সে জন্য যে কোনো টিকা দিয়ে তা নিশ্চিত করতে হবে। এসব কাজ করা গেলে ভারতের ভ্যারিয়েন্ট, দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট, ইউকে ভ্যারিয়েন্ট ও বাংলাদেশের ভেতরের ভ্যারিয়েন্ট- যাই হোক, এগুলোর সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। কারণ সংক্রমণ যত বাড়বে, তত বেশি ভ্যারিয়েন্ট হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যাবে।

বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে, ভাইরাস মিউটেশন হলে ভ্যারিয়েন্ট হতেই পারে। কোনো ভ্যারিয়েন্ট যদি বিশেষভাবে টিকায় রেসপন্স না করে ও চিকিৎসায় রেসপন্স না করে, সেই ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে গবেষণা হওয়া দরকার। তার পর কোন টিকা কার্যকর সেটিও জানা দরকার এবং সেই টিকা প্রয়োগ করা দরকার। দ্বিতীয় কথা হচ্ছেÑ নতুন ভ্যারিয়েন্টকে এত গুরুত্ব না দিয়ে সামগ্রিকভাবে আমাদের চেষ্টা করতে হবে সংক্রমণ যেন না ছড়ায় সেদিকে দৃষ্টিপাত রাখা। সেটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট হোক কিংবা পুরনোই হোক। সংক্রমণ ছড়ানো যদি প্রতিরোধ করা যায়, তা হলে নতুন ভ্যারিয়েন্টও সংক্রমণ ছড়াবে না। এ জন্য বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই ব্যবস্থার একটি হচ্ছে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া। আর যেখানে রোগী পাওয়া গেছে, সেই এলাকায় পরীক্ষা জোরদার করা, রোগীর সংস্পর্শে কারা এসেছেন, তাদের খুঁজে বের করা। এর পাশাপাশি সেখানকার চিকিৎসাব্যবস্থার মান উন্নত করতে হবে। যাতে সেখানকার রোগী নিজ নিজ এলাকায় চিকিৎসা নিতে পারে। এ জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় অক্সিজেন সরবরাহ, হাইফ্লোন্যাজাল ক্যানুলা ও অক্সিজেন মাস্ক থাকতে হবে। এর পর সেখানকার জেলাগুলোয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশমতো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আইসিইউ ইউনিট প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেখানে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

এদিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের একটি নমুনা পরীক্ষায় করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের খবর প্রকাশ করেছে জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটা (জিআইএসআইডি)। এ বিষয়ে আইডিসিআরের এক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেছেন, করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে বাংলাদেশে। এ তথ্য জিআইএসআইডিতে আপলোড করা হয়েছে। ওখানে আপলোড হওয়া মানে তো বাংলাদেশে পাওয়াই গেছে।

আইডিসিআরের কর্মকর্তা বলেছেন, রাজধানীর বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া স্যাম্পল পরীক্ষা করে এই ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। নমুনাগুলো থেকে জিনোম সিকোয়েন্স করা হয় আইইডিসিআরের ল্যাবরেটরিতে। তথ্য আপলোড করা হয়েছে ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপিং সায়েন্স অ্যান্ড হেলথ ইনিশিয়েটিভসে (আইদেশি)।

জিআইএসআইডির তথ্য বলছে, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বি-১৬১৭ যাদের শরীরে পাওয়া গেছে সেই দুজনের বয়স ৪১ এবং ২৩ বছর। তারা ভারতে ভ্রমণে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের একজন খুলনার এবং একজন ঢাকার। তারা দুজনই পুরুষ। তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয় গত ২৮ ও ২৯ এপ্রিল। তাদের একজনের ভ্যাকসিন নেওয়ার কোনো ইতিহাস নেই। আরেকজনের বিষয়ে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই।

যশোর থেকে প্রতিনিধি জানান, যশোরে ভারতফেরত দুই বাংলাদেশির শরীরে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারে নমুনা সিকুয়েন্স করে শনিবার দুপুরে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। যবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন এবং যবিপ্রবি জিনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক ও অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. ইকবাল কবীর জাহিদ এ তথ্য জানান।

যবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ভারতফেরত করোনা রোগীর নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। ল্যাবে কিছু সিকোয়েন্স করে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখন পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স করার প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি আমরা আইইডিসিআরকে জানিয়েছি। পাশাপাশি যশোর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি অবহিত করেছি।

যবিপ্রবি জিনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক ও অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. ইকবাল কবীর জাহিদ জানান, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল থেকে ভারতফেরত ১৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছেন। আর এদের মধ্যে দুজনের শরীরে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বি-১.৬১৭.২ এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে এটি ডাবল মিউটেশন নয়। তবে যেহেতু একটি এসেছে, ফলে ডাবল মিউটেশন বা অন্য ভ্যারিয়েন্টও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রফেসর ড. ইকবাল কবীর জাহিদ আরও উল্লেখ করেছেন, যদিও শনাক্ত হওয়া ভ্যারিয়েন্টটি ডাবল মিউটেশন নয়। কিন্তু এটিই ভারতে ২০ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ৫৯ শতাংশ ছড়িয়েছে।

প্রফেসর ড. ইকবাল কবীর জাহিদ আরও জানিয়েছেন, কোন রোগীর নমুনায় এই ভ্যারিয়েন্ট এসেছে; তা যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা এই রোগীদের আলাদাভাবে আইসোলেশনে রেখেছে।

জানা গেছে, ভারতে এই ভ্যারিয়েন্ট প্রথমে মহারাষ্ট্রে শনাক্ত হয় গত বছরের ৫ অক্টোবর। সম্প্রতি এটি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রায় প্রতিদিনই রেকর্ড ভাঙছে মৃত্যু ও শনাক্তের। ভারতে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইউকে ভ্যারিয়েন্ট ও ডাবল মিউটেশন ভ্যারিয়েন্ট (ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্ট) একযোগে চালাচ্ছে এই ধ্বংসযজ্ঞ। তরুণ, কিশোর, শিশু কেউ বাদ পড়ছে না মারাত্মক করোনা সংক্রমণের হাত থেকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ট্রিপল মিউটেশন ভ্যারিয়েন্ট (ই.১.৬১৮)। নতুন ভ্যারিয়েন্টটির উৎস পশ্চিমবঙ্গ। ১৩০টি জিনোম সিকোয়েন্স করে ১২৯টি পাওয়া গেছে। এ কারণে ভ্যারিয়েন্টটির নাম বেঙ্গল স্ট্রেইন।

ভারতে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় সারাবিশ্ব ভারতকে রেড লিস্টে রেখেছে। অর্থাৎ এই সংকটকালে সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য ভারত থেকে আগমন-প্রস্থান সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। ভারতের নতুন ভ্যারিয়েন্ট কোনোভাবেই যাতে বাংলাদেশে ছড়াতে না পারে, সে জন্য সীমান্ত ১৪ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ। গত ২৬ এপ্রিল থেকে এই নির্দেশ কার্যকর রয়েছে। তবে যেসব বাংলাদেশির ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, তারা ভারতে বাংলাদেশি দূতাবাসের বিশেষ অনুমতি নিয়ে দেশে ফিরছেন।

গতকাল শনিবার বিকালে এক ওয়েবিনারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন, যশোর বিমানবন্দরে কড়াকড়ি করা হয়েছে। বিমানবন্দরে স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোনো যাত্রী অসুস্থ পাওয়া গেলে তাকে ফ্লাই করা থেকে বিরত রাখা হবে।

মফিদুর রহমান বলেন, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট তো শুধু যশোরে না, দেশের যে কোনো স্থানেই এটি পাওয়া যেতে পারে। তবে যশোর বিমানবন্দরে যাতে এটি না ছড়ায়, সে সম্পর্কে সতর্ক আছে বেবিচক।

advertisement