advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বিকল্প বাহনে ঝুঁকি নিয়ে ঈদযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৯ মে ২০২১ ০০:২৪
advertisement

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ঈদে বাড়ি ফেরা নিরুৎসাহিত করতে দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ রেখেছে সরকার। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। করোনা সংক্রমণে ঊর্ধ্বগতি থাকার পরও ঈদুল ফিতরের ছুটির আগেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন নগরবাসী। মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেলে করে মানুষ যাচ্ছে গ্রামের বাড়িতে। বিকল্প বাহনে গাদাগাদি করে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ঢাকা ছাড়ছেন তারা। কয়েকদিন ধরেই দুই ফেরি রুটে উপচেপড়া ভিড়।

এমন অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে দূরপাল্লার সব গণপরিবহন চালুর দাবি জানিয়েছে পরিবহন মালিক শ্রমিক সমিতি। গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সব ধরনের গণপরিবহন চালু করে ৫ দফা দাবি পেশ করে মালিক শ্রমিক সংগঠনগুলো। অন্যথায় ঈদের নামাজ শেষে সারা দেশের মালিক-শ্রমিকরা নিজ নিজ এলাকার বাস ও ট্রাক টার্মিনালে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। এর পর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা, মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রমেশচন্দ্র ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক আবু রায়হান।

এক প্রশ্নের জবাবে শাজাহান খান বলেন, লকডাউন সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞরা মাঠের সেন্টিমেন্ট বোঝেন না। শ্রমিকের সেন্টিমেন্ট বোঝেন না। এ জন্যই ফেরিতে মানুষ গাদাগাদি করে যাচ্ছে। শ্রমিকরা না খেয়ে থাকছে। তিনি আরও বলেন, আমরা এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। সরকার যেসব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়েছে, তাদের নয় বরং আমাদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

দূরপাল্লার বাস চালুর বিষয়ে সরকার কোনো আশ্বাস দিচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি সাক্ষাৎ দেননি। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বলেছেন। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি, কিন্তু এখনো কোনো ফল পাইনি। কয়েক দিন ধরে ফেরি ও দূরপাল্লার কিছু বাস কীভাবে চলছে জানতে চাইলে শাজাহান খান বলেন, এটা প্রশাসনের দায়িত্ব। আমরা কী করব?

গতকাল সকালে সায়েদাবাদ জনপথ মোড়ে গিয়ে দেখা যায় মানুষ ঢাকার বাইরে রওনা হচ্ছেন। কেউ কেউ মোটরসাইকেলে ভাড়ায় চলে যাচ্ছেন কুমিল্লা, নরসিংদী, চাঁদপুরে। কিছু ৮ সিটের মাইক্রোবাসে ১৬ জন যাত্রী টানা হচ্ছে। ভাড়াও নেওয়া হচ্ছে অনেক বেশি। স্বাস্থ্যবিধি মানার স্বার্থে দূরপাল্লার গাড়ি বন্ধ রেখেছে সরকার। অথচ বিকল্প বাহনে আরও বেশি গাদাগাদি করে মানুষ যাচ্ছেন ঢাকার বাইরে। আর এক জেলার গাড়ি অন্য জেলায় ঢুকতে পারবে না- এ নিষেধাজ্ঞারও বাস্তবায়ন নেই। নরসিংদী, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ, মেঘনা, ইলিয়টগঞ্জসহ বিভিন্ন গন্তব্যের গাড়ি যাচ্ছে কাঁচপুর ব্রিজ এলাকা থেকে। এভাবে ভেঙে ভেঙে ঢাকা ছাড়তে গিয়ে গাড়ি বদল ও বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগই শোনা যাচ্ছে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি থাকছে উপেক্ষিত।

গাবতলী পেরিয়ে আমিনবাজার ও সালেপুর থেকে শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের ঢল আর তীব্র গাড়ির জটলা। কেউ কেউ দলবেঁধে যাচ্ছেন মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে। কেউ কেউ যাচ্ছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানগাড়িতে করে। এভাবে ভেঙে ভেঙে যাত্রা করেছেন অনেকে। আবার যাত্রীদের মধ্যে দেখা যায় কেউ মাস্ক পরেছেন, কেউ পরছেন না। মাস্ক পরতে বললে কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গাবতলী থেকে আরিচা ঘাট পর্যন্ত জনপ্রতি ৪০০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আরোহীরা।

উত্তরাঞ্চলের পথে ভিড়

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকলেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না মানুষের চলাচল। ঈদ সামনে রেখে এ মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মতো। দূরপাল্লার বাস না চললেও পিকআপ, প্রাইভেট কার, অটোরিকশা আর মোটরসাইকেলে ভেঙে ভেঙে বাড়ি যাচ্ছেন অনেকেই। গতকাল সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় দেখা গেছে এ চিত্র। এমন যাত্রায় ভাড়া লাগছে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। কিন্তু মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি।

মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের নজরদারি নেই বললেই চলে। সালনা হাইওয়ে (কোনাবাড়ি) থানার ওসি মীর গোলাম ফারুক বলেন, চন্দ্রা এলাকায় পর্যাপ্ত ফোর্স থাকবে। টাঙ্গাইলের গাড়ি কালিয়াকৈর আসতে পারবে না। কোনো গাড়ি স্টেশনে থাকবে না।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকালে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানবাহনের ভিড় দেখা যায়। নির্দেশ অমান্য করে চলছে দূরপাল্লার বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাও। মহাসড়কের ঘারিন্দা, কান্দিলা, রাবনা, বিক্রমহাটি, রসুলপুর ও এলেঙ্গা এলাকায় এমন দৃশ্য দেখা যায়। এ ছাড়া ট্রাক ও মাছবাহী গাড়িতে জীবনের ঝুঁঁকি নিয়ে যাত্রা করতেও দেখা গেছে। বাস, প্রাইভেট কারেও গাদাগাদি করে চলাচল করছে সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়াসির আরাফাত বলেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে সকালে একটু চাপ ছিল। নির্দেশ অমান্য করায় কয়েকটি দূরপাল্লার বাসকে মামলা দেওয়া হয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আর দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল করছে না।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকালে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে কর্মজীবী নারী-পুরুষের ভিড় দেখা গেছে। অটোরিকশা, ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, ট্রাকসহ ছোট ছোট যানবাহনে এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনে গাড়ি পরিবর্তন করে বাড়ি ফিরছে শ্রমজীবী মানুষ। অসংখ্য যাত্রীকে হেঁটে যেতে দেখা গেছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু গোল চত্বর থেকে হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি শাহজাহান আলী বলেন, উত্তরবঙ্গমুখী মানুষের চাপ আছে। ছোট যানবাহনে মানুষ আসছে। তাদের আটকে দেওয়া হচ্ছে। গণপরিবহন বা বড় যানবাহন এলে আটকে দেওয়া হচ্ছে।

advertisement