advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বিদেশে চিকিৎসায় খালেদার আরও শারীরিক উন্নতি প্রয়োজন

নজরুল ইসলাম
৯ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৯ মে ২০২১ ০৯:১৩
advertisement

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কৃত্রিম অক্সিজেন নির্ভরতা অনেকাংশে কমেছে। তবে তার কিডনিতে সামান্য সমস্যা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসক ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা গত শুক্রবারের তুলনায় গতকাল উন্নতি হয়েছে। কিডনি সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকরা কাজ করছেন।

এদিকে বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড মনে করছে, বিমানে দীর্ঘ সময় যাত্রার ধকল সহ্য করার মতো অবস্থায় নেই খালেদা জিয়া। এ অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যেতে হলে শুধু সরকারের অনুমতিই নয়, তার আরও শারীরিক উন্নতি প্রয়োজন। অন্যথা তাকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়া কঠিন হবে বলেই মনে করছেন তারা।

এদিকে আগে থেকেই আর্থ্রাইটিকস, ডায়াবেটিস ও চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন খালেদা জিয়া। এর সঙ্গে নতুন করে করোনা-পরবর্তী শারীরিক জটিলতায় দলে ও পরিবারে সৃষ্টি হয়েছে নতুন উদ্বেগ।

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়া করোনা

পজিটিভ হন। ২৭ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় নমুনা পরীক্ষা করা হলে এ দফায়ও তার ফল আসে পজিটিভ। এ অবস্থায় তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ভর্তি করা হয়। ৩ মে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত ১০ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড তার স্বাস্থ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোর্ডের এক চিকিৎসক জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা গত শুক্রবারের তুলনায় গতকাল কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তার অক্সিজেনের স্যাচুরেশন মাত্রা ১০০ শতাংশ। শুক্রবার এক লিটার অক্সিজেন লাগলেও গতকাল আরও কম প্রয়োজন হয়েছে। অর্থাৎ অক্সিজেন নির্ভরতা কমেছে খালেদা জিয়ার। তার অবস্থা ক্রিটিক্যাল ছিল ৫ ও ৬ মে। সে অবস্থা পার করেছেন। গত ৭ মে থেকে তার উন্নতি শুরু হয়েছে। এখন তিনি স্থিতিশীল। তবে তার এমন স্থিতিশীলতা আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকা দরকার। যদি তার অবস্থার ধারাবাহিক উন্নতি হয়, তবে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য বিমানে বিদেশ যেতে পারবেন। তার রক্তচাপ স্বাভাবিক ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে, জানান ওই চিকিৎসক।

বিএনপি নেতারা বলেন, সিসিইউতে করোনা আক্রান্ত খালেদা জিয়ার শারীরিক নানা জটিলতা দেখা দেয়। এখন কিছু কিছু ক্ষেত্রে উন্নতি হলেও করোনা-পরবর্তী জটিলতায় রোগীর শারীরিক অবস্থা বিভিন্ন দিকে টার্ন নিয়ে থাকে, সে কারণেই খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে শঙ্কা কাটছে না তাদের। এ কারণে গত বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তার পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতির জন্য। এখন সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে খালেদা জিয়ার পরিবার।

বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতা বলেন, খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে হলে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আন্তরিকতা প্রয়োজন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, সরকারের আন্তরিকতার অভাব থাকলে একজন দ-প্রাপ্ত আসামি প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা করছেন কীভাবে? বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা প্রসঙ্গে মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা কী বলেন, সেটাই মূল বিবেচ্য বিষয়। তার মেডিক্যাল বোর্ড কী ভাবছে- এটা আগে জানতে হবে।

এদিকে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসায় বিদেশে নিয়ে যেতে পরিবারের পক্ষ থেকে করা আবেদন গত বুধবার রাতেই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, শনিবার যেহেতু ছুটির দিন ছিল তাই আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে নথি পাঠানো সম্ভব হয়নি। আমার আইনি মতামতসহ রবিবার (আজ) সকালে কাগজপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেব। তার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে কী মত দেওয়া হয়েছে- জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাল নথি যাবে। কী মত দিয়েছি, সেটা তারাই হয়তো জানাবেন।

জানা গেছে, প্রক্রিয়া অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত নথি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত মত দেওয়ার পর তা ফের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসবে। তার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আজ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মনে করেন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তিনি বলেন, আমরা সোজাভাবে বলি করোনা-পরবর্তীকালে ফুসফুসে কিছু হওয়াটাই একটা ওয়ার্নিং। এটা যে কোনো দিকে যেতে পারে। এ জন্য সরকারের উচিত হবে এ নিয়ে রাজনীতি না করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া।

এদিকে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা তার উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনের একটি বেসরকারি হাসপাতাল এবং সিঙ্গাপুরের দুটি হাসপাতালের সঙ্গে কথা বলেছেন। খালেদা জিয়ার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তারা এখন সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন। অনুমতি পেলে তারা হাসপাতালে ভর্তিসংক্রান্ত প্রক্রিয়াগুলো শেষ করবেন।

খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার অনুমতির জন্য তার ভাই শামীম ইস্কান্দার গত বুধবার রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েকে চিঠি দিয়েছিলেন। তবে গতকাল পর্যন্ত সরকার এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। কারাবাসের আগে খালেদা জিয়া সিঙ্গাপুরে মেডিক্যাল চেকআপ করেছিলেন।

খালেদা জিয়ার পরিবারের এক সদস্য জানান, বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত অনুমতি পেলে খালেদা জিয়ার পাসপোর্টও হাতে পাওয়া যাবে বলে তারা আশাবাদী। এর পর ভিসাসহ আনুষঙ্গিক কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে। যেন যে কোনো মুহূর্তে তাকে বিদেশ নেওয়া যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে যুক্তরাজ্যে নেওয়ার জন্য জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, দলের চেয়ারপারসনের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাজ্যে নেওয়ার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন। সেখানে নিতে আগ্রহী যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত তারেক রহমানও। কিন্তু বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশিদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। সেখানে গেলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। সে ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো দেশ অর্থাৎ যে দেশ থেকে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি, প্রথমে সে রকম একটি দেশে তাকে নেওয়া হতে পারে। পরে সেখান থেকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। লন্ডনের বিকল্প হিসেবে সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব কিংবা থাইল্যান্ডে নেওয়ার বিষয়টিও পরিবারের ভাবনায় রয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি দেশের ঢাকাস্থ কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

দ্রুত বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি ড্যাবের

অযথা কালক্ষেপণ না করে দ্রুত সময়ের মধ্যে খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা ড্যাব। গতকাল শনিবার সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ ও মহাসচিব ডা. আবদুস সালাম এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

advertisement