advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

যাত্রীর চাপে যানবাহন নিতে পারছে না ফেরি

আমাদের সময় ডেস্ক
৯ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৯ মে ২০২১ ০৫:০৩
মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটের পদ্মা তীরে গতকাল ফেরিতে উঠতে কঠিন লড়াই -সংগৃহীত
advertisement

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ঈদের ছুটিতে কর্মস্থলেই থাকার নির্দেশনা দিয়েছিল সরকার। এর পরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অসংখ্য মানুষ গ্রামের বাড়ির পথে রাজধানী ছাড়ছে। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকলেও গত দুদিন ধরে সড়কগুলোয় বিকল্প বাহনের বাড়তি চাপ দেখা যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি চাপ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়কপথে যোগাযোগের দুটি নৌরুটে। করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত ঠেকাতে গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে দেশের সব ফেরিঘাটে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গত রাতে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সন্ধ্যার পর থেকে ফেরিঘাটে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির পরিচালক (অপারেশনস) লে. কর্নেল ফয়জুর রহমানও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যাপ্ত সংখ্যক বিজিবি সদস্য ফেরিঘাটে দায়িত্ব পালন করবেন।

মুন্সীগঞ্জ থেকে নাদিম হোসাইন জানান, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গতকাল শনিবার শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়াঘাট থেকে অন্তত ৪টি ফেরি ছেড়ে গেছে। লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স পারাপারের নামে ফেরিগুলো ছাড়া হয়। তবে তাতে পারাপারে শামিল হয় হাজার হাজার যাত্রী। বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের এজিএম শফিকুল ইসলাম বলেন, অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ফেরিগুলো শিমুলিয়া ঘাট ছেড়েছে। হাজার হাজার যাত্রীও পারাপারের অপেক্ষা ছিল, এমন পরিস্থিতিতে তাদের তো আর আটকে রাখা যায় না।

ভোর থেকেই শিমুলিয়া ঘাটে দক্ষিণবঙ্গের ঘরমুখো যাত্রীদের ব্যাপক চাপ ছিল। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন তারা। অনেকেই ফেরির অপেক্ষায় ঘন্টার পর ঘণ্টা ঘাটে অবস্থান করেন। এর পর সকাল ৯টার দিকে ফেরি কুঞ্জলতা ছাড়লে তাতে যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। কার আগে কে ফেরিতে উঠবেনÑ তা নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। অনেককে পদ্মায় পানিতে নেমে সাঁতার কেটে ফেরিতে উঠতে দেখা যায়। এর পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফেরি এনায়েতপুরী, পৌনে ১টার দিকে শাহপরান ও বিকাল ৩টার দিকে ছেড়ে যায় ফেরি কুমিল্লা। সেগুলোতেও ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সাফায়েত আহমেদ বলেন, বেশ কিছু লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ছিল। এগুলো পারাপারের জন্যই ফেরি ছাড়া হয়েছে। সঙ্গে যাত্রী উঠলে তো আটকে রাখা যায় না। তিনি আরও বলেন, বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা হয়েছে। এর পর কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুধু লাশ ও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স পারাপারের জন্য ফেরি চলবে।

মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ হিলালউদ্দিন জানান, বিকাল ৪টা পর্যন্ত ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় ছিল ৪ শতাধিক যানবাহন। এর মধ্যে পণ্যবাহী যানবাহনের সংখ্যাই বেশি। অল্পকিছু পিকআপ ও প্রাইভেটকারও রয়েছে।

শিবচর থেকে সম্পা রায় জানান, শুধু অ্যাম্বুলেন্স ও পণ্যবাহীসহ জরুরি যান পারাপারে ফেরি চালানোর কথা থাকলেও বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে যাত্রীর চাপই ছিল বেশি। যাত্রী চাপে গতকাল দুপুরে সীমিত আকারে ফেরি চালু করতে বাধ্য হয় বিআইডব্লিউটিসি। শিমুলিয়া পাড় থেকে ছেড়ে আসা রো রো ফেরি এনায়েতপুরীর একটি ট্রিপেই ৫ হাজারের বেশি যাত্রী পার হয়ে বাংলাবাজার ঘাটে আসেন। যাত্রীর চাপে ওই ট্রিপে কোনো গাড়িই নিতে পারেনি ফেরিটি। এভাবে যাত্রীর চাপে প্রতিটি ফেরিই যানবাহন কম নিয়ে পারাপার করতে বাধ্য হচ্ছে। এনায়েতপুরীর সেকেন্ড মাস্টার ইনচার্জ আমির হোসেন বলেন, আজ শিমুলিয়া থেকে একটি ট্রিপেই ৫ হাজারের বেশি যাত্রী পার করেছি। ওই ট্রিপে কোনো গাড়ি উঠাতে পারিনি।

শিমুলিয়া ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর ফেরিতে পদ্মা পাড়ি দিয়ে বাংলাবাজার ঘাটে এসে কোনো গাড়ি না পেয়ে যাত্রীরা মোটরসাইকেল, ৩ চাকার থ্রি হুইলার, ইজিবাইকে চড়ে কয়েকগুণ ভাড়া গুণে গন্তব্যে রওনা হন। বরিশাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঢাকাগামী এক রোগীর স্বজন হাফিজুল ইসলাম বলেন, ফেরি বন্ধ থাকলেও তো অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি গাড়ি পারাপার করার কথা। কিন্তু আমার অসুস্থ বাবাকে নিয়ে প্রায় ৬ ঘণ্টা বাংলাবাজার ঘাটে বসে আছি এখনো ফেরি ছাড়েনি। কীভাবে ঢাকার হাসপাতালে পৌঁছব বুঝতে পারছি না।

বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ী ঘাট ম্যানেজার সালাউদ্দিন বলেন, যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি থাকায় ফেরিতে যানবাহন পারাপার বিঘœ ঘটছে। শিবচর থানার ওসি মিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী এ নৌরুটের সব ফেরি ও আন্তঃজেলা পরিবহন সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। আমরা সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ঘাট এলাকায় কঠোর অবস্থানে রয়েছি।

মানিকগঞ্জ থেকে আশরাফুল আলম লিটন জানান, মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে গতকাল দুপুর ১টর পর সীমিত পরিসরে ফেরি চলাচল শুরু হয়। বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ি চলমান লকডাউনের শুরু থেকে শুধু অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি পারাপার করা হচ্ছিল। এর পর বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল সকাল ছয়টা থেকে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়। তবে ঈদে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজারো যাত্রী সকাল থেকে ঘাট এলাকায় ভিড় করেন। এ ছাড়া প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত গাড়িরও লাইন দেখা যায় পাটুরিয়ায়। পরে যাত্রীদের ভোগান্তি বিবেচনা করে এবং তাদের দাবির মুখে বাধ্য হয়ে ফেরি চলাচল শুরু হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৯টার দিকে পাটুরিয়া ২ নম্বর ঘাটে একটি লাশবাহী ও তিনটি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি অপেক্ষায় ছিল। অসংখ্য যাত্রীও নদী পারের অপেক্ষায় ছিলেন। অ্যাম্বুলেন্স নিতে মাধবীলতা নামের একটি ছোট ফেরি পন্টুনের কাছে গেলে অসংখ্য যাত্রী ভিড় করেন। এতে ফেরিটি আর পন্টুনে ভেড়েনি। পরে তিন নম্বর ঘাটে শাহ আলী নামের একটি বড় ফেরি পন্টুনে আনা হয়। এ সময় যাত্রীরা এ ফেরিতে উঠে পড়ে। এর পর মাধবীলতা ফেরিটি দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ও কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি পার করা হয়।

অন্যদিকে, দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টা শাহ আলী ফেরিতে উঠে যাত্রীরা নদী পারের অপেক্ষা থাকেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের ফেরি থেকে নামার অনুরোধ করলেও তারা শুনেননি। একপর্যায়ে ফেরি না চালু করায় যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এর পর দুপুর ১২টার দিকে ফেরিটি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পার করা হয়। এর পর থেকে ছয়টি ফেরি দিয়ে সীমিতভাবে যাত্রী ও যানবাহন পার করা হয়।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) জিল্লুর রহমান বিকাল ৩টার দিকে বলেন, এ মুহূর্তে ঘাটে যাত্রীদের ও যানবাহনের চাপ কিছুটা কমেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী সকাল থেকে ফেরি বন্ধ রাখা হয়। তবে দুপুর ১টা থেকে জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স পারাপারের জন্য সীমিতভাবে ফেরি চলাচল শুরু করা হয়।
#

advertisement