advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

নিভৃতচারী মায়ের স্মৃতি

ড. প্রতিভা রানী কর্মকার
৯ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৮ মে ২০২১ ২৩:৫১
advertisement

অবারিত ধূসর পথে প্রিয়জন হারানোর শোক, অস্ফুট বেদনার রবি অস্তমিত সূর্যালোক, মাতৃহারা সন্তানের বেদনায় অনিঃশেষ স্মৃতিচারণে অশ্রুসজল চোখ। ‘মা’ ছোট্ট-সুন্দর একটি শব্দ হলেও এর ব্যাপ্তি আর অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ গভীর। আমাদের দুই ঠোঁটের একসঙ্গে মিলনে সমোচ্চারিত শব্দ মা। আবার কষ্টে-যন্ত্রণায় সৃষ্টিকর্তার পর যাকে ডেকে উঠি, তিনিও মা। আমাদের অনুভূতিতে যেমন মা পরিচিত একটি শব্দ, তেমনি কল্পনাতেও মায়ের ছবি বা ছোঁয়া দৃশ্যমান। আমাদের সবার কাছে মায়ের মুখ, মায়ের স্মৃতি সবার ওপরে। কর্মজীবন বা ব্যক্তিজীবনে ঘটে যাওয়া নানা কষ্ট, প্রাপ্তি কিংবা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা যে মানুষকে বললে সবচেয়ে বেশি শান্তি পাই মনে- তিনি মা। সন্তানের সুখের কথা ভেবে নীরবে সারাজীবন যিনি কষ্ট করেন, তিনি মা।

১৯১৪ সালের ৮ মে থেকে মাকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা জানানোর জন্য আধুনিক বিশ্বে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারটিকে ‘মা দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। উপহার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সাদা কার্নেশন ফুল। অবশ্য প্রত্যেক নিবেদিতপ্রাণ মাকে প্রতিদিন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো উচিত। আমার মা গীতা রানী কর্মকার নিভৃতচারিণী মা ছিলেন। তিনি গত মাসে (১১ এপ্রিল ২০২১) আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। প্রতিবছর মা দিবসে আমি ভুলে গেলেও মা আমাকে প্রতিদিনের মতোই ফোন করতে ভুলতেন না। তবে তিনি জানতেন না যে, দিনটি মায়েদের জন্য বিশেষ দিন। এবার আর ফোন করবেন না। মাকে যখন মা দিবসের কথা বলতাম, মা হেসে বলতেন- মায়েদের আবার বিশেষ কোনো দিন হয় নাকি? আমি তো তোমাদের সঙ্গে কথা না বলে থাকতে পারি না, চিন্তা হয়। তাই ফোন করি। মা তার জন্মের পর এক বছর বয়স না পেরোতেই মায়ের জন্মদাত্রী মা মানে, আমার শ্রদ্ধেয় দিদা কুসুমি রানী দেবীকে হারিয়েছিলেন। এর পর মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ে হয়। একজন ব্যক্তি- যিনি কোনোদিন নিজের মায়ের যতœ পাননি এবং জানতেন না কেমন ছিলেন তার মায়ের আদরমাখা মুখখানা, তিনি জীবন দিয়ে সংসার আর সন্তানদের ভালোবেসেছেন। সবার চোখে অপরূপা না হলেও আমার চোখে মা ছিলেন অনন্যসুন্দর একজন মানুষ। সারাজীবন স্থির থেকে কর্তব্য পালন করেছেন। প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজের সন্তানদের। একজন নিভৃতচারী মা এভাবে বিদায় নিলেন না ফেরের দেশে। করোনা মহামারী আমাদের অনেকের জীবন থেকে অনেক কিছু নিয়ে গেছে। কিন্তু মায়ের মতো একান্ত আপনজন হারানোর বেদনা বহন যারা করছেন, তারাই হয়তো পুরোটা বুঝতে পারছেন এ কষ্ট কত ভয়াল! তবু চলতে হবে। কারণ মা চলতে শিখিয়েছেন। জীবনকে ভালোবাসতে হবে। কেননা মা ভালোবাসতে শিখিয়েছেন। আজ মা দিবসে পৃথিবীর সব মাকে শ্রদ্ধা।

ড. প্রতিভা রানী কর্মকার : সহযোগী অধ্যাপক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ইংরেজি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

advertisement