advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বিদ্যুতে ২৬ হাজার কোটি টাকার বাজেট আসছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৯ মে ২০২১ ০০:৩৭
advertisement

২০২১-২২ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাতে ২৬,১১৮ দশমিক ৭৬ কোটি টাকার বাজেট আসছে। এবার অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সঞ্চালন, বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এমন তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।

ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) গতকাল ‘আসন্ন জাতীয় বাজেট ২০২১-২২, বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সঞ্চালন ব্যবস্থা টেকসই করতে দ্রুততার সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটানো আবশ্যক।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৯-১০ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপিতে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২,৬৪৪ দশমিক ২৬ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ২৪,৭৬৮ দশমিক ২২ কোটি টাকা। আগামী বাজেটে বিদ্যুৎ বিভাগ ২৬ হাজার ১১৮ দশমিক ৭৬ কোটি টাকা পেতে পারে। অর্থাৎ বিদ্যুতের গুরুত্ব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও গুরুত্বও বাড়ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার

বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ১৯৯৬ সালে বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন নীতিমালা গ্রহণ করেছিল। যার ফলে আজ বেসরকারি উদ্যোগে ৯১টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ৯ হাজার ৪৭৩ মেগাওয়াট হয়েছে, যা মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৪৩ শতাংশ।

ওয়েবিনারে বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসেসিয়েশনের (বিআইপিপিএ) পক্ষে সংস্থাটির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. মোজাম্মেল হোসেন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বিদ্যুৎ খাতে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের অবদান উল্লেখ করে স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফি, অগ্রিম কর, এইচএফওর ওপর ৩৪ শতাংশ আমদানি শুল্ক, বিলম্বে বিল প্রদান, পরিবেশগত সনদপত্র, স্টোরেজ ট্যাংকের ভাড়া ইত্যাদি বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, আইপিপি ইউনিটে গত বছর প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়েছে ৭ টাকা, রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের খরচ পড়েছে ৮ টাকা ৩৪ টাকা এবং ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে খরচ পড়েছে ৬ দশমিক ১ টাকা। আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো লোড সেন্টারের কাছে যা নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

মূল প্রবন্ধে আরও বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ করা হচ্ছে না। বিলম্বে বিল পরিশোধ না করায় উদ্যোক্তাদের সমস্যা হচ্ছে। অমীমাংসিত বিষয়গুলো দেখার কথা বিইআরসির ট্রাইব্যুনালের। কিন্তু বিইআরসি যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারছে না।

ওয়েবিনারে বিআইপিপিএর উল্লিখিত সমস্যাগুলো বিদ্যুৎ বিভাগ, এনবিআর ও বিআইপিপিএ মিলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকার ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। এ সাফল্যের ইতিবাচক প্রচারে এফইআরবি কার্যকর অবদান রাখতে পারে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ক্রয় ও বিক্রয়ে ১ দশমিক ১৬ টাকা ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পিডিবিকে দক্ষতার সঙ্গে এ ঘাটতি কমিয়ে আনতে হবে এবং ধীরে ধীরে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। বছরে ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকার যে ঘাটতি হয়, সেটা কমিয়ে আনতে হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই হিটওয়েভে আমরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পেরেছি। এটি বিশাল স্বস্তির খবর।

পিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারের (আইপিপি) মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা বলছেন, আমাদের প্ল্যান্ট পুরনো হয়নি। কিন্তু তাদের মনে রাখতে হবে, সরকার দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে আপনাদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ নিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের পর এগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে, সেই বিবেচনা মাথায় রেখেই আপনারা ব্যবসায় এসেছেন। এখন এগুলো চালু রাখতে বলা অযৌক্তিক।

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, আমাদের জেনারেশন ৭ হাজার মেগাওয়াট সারপ্লাস। তার পরও আমাদের লোডেশেডিং হয়। কোনো কোনো জায়গায় আমাদের বটমলেক রয়ে গেছে। মোটা দাগে কাজ হয়ে গেছে। এখন ফাইন টিউনিংটা করা দরকার।

এফইআরবি চেয়ারম্যান অরুণ কর্মকারের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক শামীম জাহাঙ্গীরের সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল এ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিআইপিপিএ সভাপতি ইমরান করিম সংযুক্ত থেকে বক্তব্য রাখেন।

 

 

advertisement