advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ভারত ফেরত ১৩ জনের করোনা শনাক্ত : বেনাপোল ইমিগ্রেশন

আজিজুল হক, বেনাপোল (যশোর)
৯ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৮ মে ২০২১ ২৩:৫১
advertisement

ভারত ফেরত বাংলাদেশি যাত্রীদের মধ্যে দিন দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ১২ দিনেই শনাক্ত হয়েছেন ১৩ জন। আক্রান্তরা বর্তমানে স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে যশোরে রয়েছেন। এদিকে ভারতে করোনার নতুন ধরনে দেশটিতে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বেড়েই চলেছে। তাই দেশটি থেকে ফেরত যাত্রীদের মাধ্যমে যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য বাংলাদেশ সরকার গত ২৬ এপ্রিল ভারতের সঙ্গে স্থলপথে যাত্রী যাতায়াত বন্ধ ঘোষণা করে। তবে যাদের দূতাবাসের ছাড়পত্র থাকবে তারা ফিরতে পারবেন।

সে অনুযায়ীই অনেকে দেশে ফিরছেন। আবার বাংলাদেশে যেসব ভারতীয়রা নিষেধাজ্ঞার আগে এসে আটকা পড়েছিলেন তারাও ফিরছেন নিজ দেশে।

জানা যায়, যাদের ভিসার মেয়াদ নিষেধাজ্ঞার ১৪ দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে তাদেরই কেবল দেশে ফেরার সুযোগ পাওয়ার কথা। অথচ মাসের অধিক সময় ভিসার মেয়াদ আছে- মেডিক্যাল ও বিজনেস ভিসার এমন যাত্রীরাও নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিক থেকে দেশে ফিরছেন। আর সম্প্রতি যেসব বাংলাদেশি ভারত থেকে ফিরছেন তাদের অনেকেই করোনাক্রান্ত। তাই এমন অবাধ যাতায়াতের সুযোগে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট প্রবেশের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করেন সচেতন মহল। যদিও এরই মধ্যে ভারত থেকে দেশে ফেরা দুজনের দেহে করোনার সেই ধরন পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা পড়েছে।

যশোরের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইউছুফ আলী জানান, ভারত ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে গত ২৬ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত ভারত থেকে ফিরেছেন ২ হাজার ৪৭৫ বাংলাদেশি। এদের মধ্যে ১৩ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। আক্রান্তরা ভারতে গিয়ে সংক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। এ ছাড়া ভারত ফেরত সন্দেহভাজন যাত্রীদের নমুনা পরীক্ষা করেও করোনা পজিটিভ ধরা পড়ছে। আক্রান্ত যাত্রীদের যশোর সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের রেড জোনে রাখা হয়েছে। অনান্য যাত্রীদের রাখা হয়েছে বেনাপোল, যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন আবাসিক হোটেলের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে। জটিল মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে কোয়ারেন্টিন সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ১৪ দিন পর কোনো উপসর্গ না থাকলে তারা বাড়ি ফিরতে পারবেন। কোয়ারেন্টিন খরচ যাত্রীদেরই বহন করতে হচ্ছে।

ভারত বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট যদি কোনোভাবে দেশে প্রবেশ করে তার ফল হবে ভয়াবহ। সুতরাং সতর্কতামূলক ব্যবস্থাই পারে এ মহামারীর হাত থেকে আমাদের বাঁচাতে।’ বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আবদুল জলিল বলেন, ‘প্রতিদিন ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের চারশ থেকে সাড়ে চারশ ট্রাক বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করছে। তবে এ চালকদের মাধ্যমে যাতে করোনা ছড়াতে না পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি আহসান হাবিব জানান, ভারতের করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট প্রবেশ রোধে বাংলাদেশ সরকার গত ২৬ এপ্রিল থেকে সীমান্ত পথে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ সময় নতুন করে কোনো পাসপোর্টধারী যাত্রী দুদেশের মধ্যে যাতায়াত করেনি। তবে নিষেধাজ্ঞার আগে যারা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আটকা পড়েছিলেন তারাই কেবল দুদেশের দূতাবাসের ছাড়পত্র নিয়ে দেশে ফিরছেন।

advertisement