advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ঈদ জামাত উন্মুক্ত স্থানে করার আহ্বান

কোলাকুলি বা হাত মেলানো যাবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১১ মে ২০২১ ২২:২৮
advertisement

পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত উন্মুক্ত স্থানে করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। যদিও গত ২৬ এপ্রিল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ঈদগাহ বা খোলা মাঠে নয়, ঈদের জামাত হবে শুধু মসজিদে। কাতারে দাঁড়াতে হবে দূরত্ব রেখে। নামাজ শেষে কোলাকুলি বা হাত মেলানো যাবে না। সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা জীবনে আরও অনেকগুলো ঈদ উপভোগ করতে চাই। কিন্তু এখন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে নেই। সুতরাং এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যে ঈদ সামনে

এসেছে, সেটাকে যদি আমরা ঘরের মধ্যে সীমিত আকারে উদযাপন করি তা হলে আমাদের জীবনে আরও অনেক ঈদ উপভোগ করার সুযোগ আসবে। তা না হলে যেভাবে সংক্রমণ ছড়াবে তাতে দেশ রোগীর চাপ নিতে পারবে না। দেশের প্রস্তুতিরও কিন্তু সব সময় একটা সীমাবদ্ধতা থাকবে। সেদিক থেকে রোগীর সংখ্যা যাতে কোনোভাবে বৃদ্ধি না পায়, সেদিকে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে।’ তিনি আবারও বলেন, ‘আমাদের ঈদের এই যাত্রা বন্ধ করে নিজেদের ঘরের মধ্যে থেকে ঈদ উদযাপন নিজেদের মধ্যেই যাতে সীমাবদ্ধ রাখি, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানাব।’

অধ্যাপক সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘ঈদ জামাত কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে উন্মুক্ত জায়গায় আয়োজন করা যায়, সেই বিষয়টিকে লক্ষ রাখার জন্য জনসাধারণকে এবং মসজিদসংশ্লিষ্ট আলেম-ওলামা যারা আছেন তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বিকল্প পদ্ধতিতে ঈদ জামাত আয়োজন করার জন্য বলছি। ঈদ জামাত-পরবর্তী সময়ে আমাদের একটা রীতি হচ্ছে কোলাকুলি করা কিংবা হাত মেলানো। সেটাও কিন্তু সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণ। সুতরাং এ ক্ষেত্রে ঈদের সময় আমরা কোলাকুলি না করি, হাত না মেলাই সেই বিষয়ে যেন আমরা লক্ষ রাখি।’

সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশিদ আলম বলেন, ‘সামনে তৃতীয় ঢেউ আসবে কিনা এটা নিয়ে আমরা শঙ্কিত। ঈদ উৎসব কেন্দ্র করে জনসমাগম এবং মানুষের চলাচল যেভাবে বেড়েছে তাতে আমরা অত্যন্ত শঙ্কিত। যারা ঢাকা ছেড়ে গেছেন, পরবর্তী সময়ে তারা যখন ফিরে আসবেন তখন আমাদের করোনার সংক্রমণ বাড়ে কিনা, তা নিয়ে আমরা চিন্তিত।’ মহাপরিচালক বলেন, ‘এরই মধ্যে আমাদের সক্ষমতা অনেকখানি বেড়েছে। আমাদের করোনা হাসপাতালগুলোর অধিকাংশ বেড এখন খালি। আমাদের দ্বিতীয় ঢেউ যেটা এসেছিল, সেটা অনেকখানি নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। কিন্তু আমরা শঙ্কা প্রকাশ করছি, আগামীতে না আমরা আরেকটা ঢেউয়ের সম্মুখীন হই।’

ডা. এবিএম খুরশিদ আলম বলেন, ‘ভারতে যে সংক্রমণ হয়েছে সেটার ভয়াবহতা আমরা দেখেছি। আমি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সবার কাছে বিনীত অনুরোধ জানাই, মানুষের সচেতনতা বাড়াতে আমরা সবাই মিলে যেন চেষ্টা করি। করোনা মহামারী কবে পৃথিবী থেকে যাবে আমরা জানি না। সে ক্ষেত্রে পৃথিবী থেকে এটা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের নিজেদের সর্বনাশ যদি নিজেরা ডেকে আনি, তা হলে এটা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া খুব মুশকিল।’

সংবাদ সম্মেলন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

advertisement