advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

চট্টগ্রামে ঘরমুখো মানুষের চোর-পুলিশ খেলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো
১২ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১১ মে ২০২১ ২২:৪৭
advertisement

চট্টগ্রাম শহর থেকে বের হওয়ার প্রধান পথ দুটি- শাহ আমানত সেতু ও সিটি গেট। পুলিশ পালা করে এই দুই ফটকে পাহারা বসিয়েছে, যাতে বাইরে থেকে মানুষ আসতে না পারে আবার শহর থেকেও বের হতে না পারে; কিন্তু নানা ভোগান্তি মাথায় নিয়ে, কিছু পথ হেঁটে আবার কিছু পথ গাড়ি চড়ে স্বজনদের কাছে ছুটছে মানুষ। পুলিশের পাহারা শিথিল হলেই গন্তব্যে ছুটছে মানুষ। দূরপাল্লায় বেশিরভাগ ব্যবহার করা হচ্ছে মাইক্রোবাস ও ছোট ট্রাক। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) শ্যামল কুমার নাথ আমাদের সময়কে বলেন, গত দুদিনে নগরীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় যাত্রী বহনকারী ৩০১টি মাইক্রোবাস ও পিকআপ আটক করা হয়েছে। এর ৯০ শতাংশই মাইক্রোবাস। এর মধ্যে রবিবার ১৩৩টি এবং সোমবার ১৬৮টি গাড়ি আটক করা হয়। এগুলো ভাড়ায় চলছিল। সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এসব গাড়ি চলছিল। তিনি বলেন, পুলিশ শতভাগ পাহারা দিতে পারছে না। প্রধান ফটকগুলোতে পাহারা দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা।

গতকাল নগরীর শাহ আমানত সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এর পরও নিয়মিত বিরতিতে কিছু গাড়ি ছেড়ে যাচ্ছে। জেলার ভেতরে চলাচলকারী গাড়িগুলো পুলিশের সামনেই চলছে। ফলে সেগুলো নিয়ে পুলিশের খুব একটা মাথা ব্যথাও দেখা যায়নি; কিন্তু যখনই কোনো পিকআপ, ছোট ট্রাক বা মাইক্রোবাস দেখা যায়, সেটি নিয়েই পুলিশের যত আগ্রহ। আগেরদিন রাতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) শাকিলা সুলতানার নেতৃত্বে ওই এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। কক্সবাজার থেকে আসা অনেক মাইক্রোবাস তখন পুলিশ আটক করে। চট্টগ্রাম থেকে বাড়ির উদ্দেশে বের হওয়া এবং বাইরে থেকে শহরে আসা একাধিক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকে নিরুপায় হয়েই কর্মস্থল থেকে স্বজনদের কাছে চলে যাচ্ছেন। এজন্য তাদের দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভোগান্তি তো আছেই। পুলিশের অভিযানের মুখে অনেক মানুষ কৌশল বদল করে ঘরমুখো হয়েছেন। শাহ আমানত সেতু এলাকায় দেখা যায়, লোকজন গাড়িতে করে সেতুর কাছে নেমে যাচ্ছে। এর পর সপরিবারে, কেউ একা একা হেঁটে সেতু পার হচ্ছেন। তার পর মইজ্জারটেক গিয়ে পুনরায় গাড়িতে উঠে রওনা হচ্ছেন। এর পরও শেষমেশ অনেকেই পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে। জানা যায়, গত দুদিনে যেসব যানবাহন আটক করা হয়েছে, সেগুলো ঈদের পরই ছাড়া হবে। এ নিয়ে নতুন ভোগান্তিতে রয়েছেন ওইসব গাড়ির মালিক ও চালকরা। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) শ্যামল কুমার নাথ বলেন, যারা হেঁটে পথ পাড়ি দিচ্ছে আমরা তো আর তাদের আটকাতে পারি না। জেলার ভেতরেও যানবাহন চলাচলের অনুমতি আছে।

এ নিয়মের ব্যত্যয় হলেই কেবল ধরা হচ্ছে।

advertisement