advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

দৈনিক শনাক্তে ঢাকাকে ছাড়াল রাজশাহী-খুলনা

করোনায় দেশে মোট মৃত্যু ১৩ হাজার ছুঁইছুঁই

আমাদের সময় ডেস্ক
১১ জুন ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুন ২০২১ ২৩:০০
advertisement

দেশে আগের দিন সকাল থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু বেড়েছে। এদিন মোট ১৯ হাজার ৪৪৭টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৫৭৬ জন। রোগী শনাক্তের হার ১৩.২৫ শতাংশ। এদিন মারা গেছেন আরও ৪০ জন। এর মধ্যে ৩১ জন পুরুষ এবং ৯ জন নারী। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত ৬১ লাখ ২৬ হাজার ২৩৮টি নমুনা পরীক্ষা করে মোট শনাক্ত হয়েছে ৮ লাখ হাজার ২০ হাজার ৩৯৫ জন রোগী। মোট নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ১৩.৩৯ শতাংশ। মোট মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৯৮৯ জনে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট শনাক্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ রোগী পাওয়া গেছে রাজশাহী বিভাগে। এ বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ হাজার ১১০টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছেন ৮১৫ জন। এরপরে রয়েছে খুলনা বিভাগ। এ বিভাগে এক হাজার ৪৮৫টি নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্ত হয়েছেন ৫৭৮ জন। ঢাকা বিভাগে পরীক্ষা হওয়া আট হাজার ৬৮৭ জনের মধ্যে শনাক্ত হয়েছেন ৫১৩ জন। এর পর রয়েছে

চট্টগ্রাম বিভাগ। সেখানে দুই হাজার ৪০৩টি পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্ত হয়েছে ৩৩৭ জন। রংপুর বিভাগে পরীক্ষা হওয়া ৪১৬টি পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্ত হয়েছেন ১৩০ জন। সিলেট বিভাগে ৫২৪টি নমুনার বিপরীতে শনাক্ত হয়েছেন ৯২ জন। ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৪৪টি পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্ত হয়েছেন ৬২ জন আর বরিশাল বিভাগে ২৬৮টি পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্ত হয়েছেন ৪৯ জন।

এদিকে ঢাকার বাইরে সংক্রমণের নতুন হটস্পট হয়ে ওঠা সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোতে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। কিন্তু সে তুলনায় নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে কম। সরকারের পক্ষ থেকে এসব জেলায় করোনা পরীক্ষার যে ব্যবস্থা রয়েছে তাও পর্যাপ্ত নয়। আবার সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার ভয়, অসচেতনতা, করোনায় বিশ্বাস না করাসহ কয়েকটি কারণও উঠে এসেছে মানুষের পরীক্ষার ব্যাপারে আগ্রহী না হওয়ার নেপথ্যে।

আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, দেশের মধ্যে বর্তমানে উচ্চ সংক্রমণে থাকা রাজশাহীতে সরকারের দেওয়া করোনা বিধিনিষেধ কোনো কাজে আসছে না। আবার খুলনায় কোভিড-১৯ চিকিৎসার একমাত্র সরকারি জায়গা খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শয্যার অভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে রোগী ভর্তি। সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সাতক্ষীরায় লকডাউন আরও সাত দিন বাড়ানো হয়েছে। মৌলভীবাজারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে কঠোর হচ্ছে প্রশাসন। আগের দিন সকাল থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৪ জন। নাটোর সদরেও বেড়েছে সংক্রমণ। দিনাজপুরে এদিন শনাক্ত হয়েছে আরও ৪৩ জন রোগী।

সাতক্ষীরা জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় আরও সাত দিন লকডাউন বাড়ানো হয়েছে। গতকাল ভার্চুয়াল মিটিং শেষে এ ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল। এদিন করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং সদর হাসপাতালে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ বছর বয়সী চার মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূও আছেন। তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটায় মারা যান। গতকাল সকাল আটটা পর্যন্ত এই জেলার ৯৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৫০.৫২ শতাংশ।

রাজশাহীতে করোনার বিস্তার ঠেকাতে রাত্রীকালীন বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল জেলা প্রশাসন। কিন্তু যে হারে করোনা বেড়ে চলেছে তাতে রাত্রীকালীন এই বিধিনিষেধ কোনো কাজে আসছে না বলে মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘লকডাউনে কোনো ফল আসছে না। প্রতিদিন সংক্রমণ বাড়ছে। হাসপাতালেও বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। মনে হচ্ছে, এখন আসলে এই পদ্ধতিতে সংক্রমণ কমানো সম্ভব নয়। আর সংক্রমণ যদি প্রতিরোধ করা না যায়, তবে এত রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এক সময় সম্ভব হবে না। এ জন্য আমার মনে হচ্ছে, কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয়ভাবে লকডাউন দেওয়া প্রয়োজন।

গত বুধবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দুটি পিসিআর ল্যাবে ৪০৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৬৯ জন রোগী শনাক্ত হয়। অর্থাৎ আগের দিনের চেয়ে নতুন রোগী শনাক্ত ১.২২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১.৮৪ শতাংশে। যা আগের দিন মঙ্গলবার ছিল ৪০.৬২ শতাংশ।

গতকাল সিলেট বিভাগে করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ৯২ জন; যার মধ্যে ৫৯ জনই সিলেট জেলার। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৬৭ জন। এ নিয়ে গত বছরের মার্চ থেকে এ বছরের ১০ জুন পর্যন্ত ১৪ মাসে সিলেট বিভাগে করোনায় ৪২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. সুলতানা রাজিয়া স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে।

খুলনা জেলায় কোভিড-১৯ চিকিৎসার একমাত্র জায়গা খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শয্যার অভাবে রোগী ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা ও কোভিড ইউনিটের ফোকাল পারসন সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, তাদের কোভিড ইউনিটে মোট ১০০টি শয্যা রয়েছে। সেখানে ইতোমধ্যেই ১৩০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। এ কারণে নতুন রোগী ভর্তি স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। শয্যা খালি হলে আবার রোগী ভর্তি করা হবে। সুহাস জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের কোভিড ইউনিটে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে আক্রান্ত ছিলেন দুজন। অন্যজন পরীক্ষার আগে উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

মৌলভীবাজারে ঈদের পর করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকার পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি সভা করেছে জেলা করোনা প্রতিরোধ সংক্রান্ত কমিটি। সেখানে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতে বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট দিয়ে অভিযান পরিচালনা এবং জনসাধারণকে সচেতনতা সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে করোনা পরীক্ষা কম হচ্ছে। সাধারণ মানুষ পরীক্ষা করাতে অনীহা প্রকাশ করছেন বলে সভায় অভিযোগ করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮২৩টি নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে নতুন করে আরও ১৫৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছে আরও ৪ জন। নমুনার পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৯.১৯ শতাংশ। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা এখন ২ হাজার ৯৭৬ জন এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩ জনে। সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, করোনায় আক্রান্ত  হয়ে বুধবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১ জন মারা গেছে। এখানকার বাড়িতে বাড়িতে অনেকে জ্বর ও কাশিতে ভুগলেও মানুষ করোনা পরীক্ষার ব্যপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। সামাজিকভাবে হেয় হতে পারেন এমন ভয়ে পরীক্ষা করতে চাইছেন না অনেকে।

নাটোর সদর ও সিংড়া পৌরসভায় লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত ছিল। আগের দিনের চেয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের হার কিছুটা কমলেও সদর উপজেলায় বেড়েছে। নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, আগে এই জেলায় সংক্রমণের হার ৫০ শতাংশ থাকলেও গত ২৪ ঘণ্টায় তা কমে ৩৪ শতাংশ হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে যে ৬২ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এই সময়ে উপসর্গ নিয়ে নাটোরে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের নমুনার ফল এখনো আসেনি।

দিনাজপুরে গতকাল নতুন ৪৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকী জানান, গত সোমবার রাতে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দিনাজপুর সদর আসনের এমপি জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব নুরুল ইসলাম ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করে দিকনির্দেশনা দেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ৮ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত শহরের জনবহুল ও ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে সচেতনতা সৃষ্টি করতে প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। এ ছাড়া প্রশাসনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক টিম শহরের ব্যস্ততম এলাকায় মাস্ক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে। সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুস জানান, গতকাল দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবে ১৪৮ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করে ৪৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার ২৮.৬৬ শতাংশ। হাকিমপুর থানার ওসি ওয়াহিদ ফেরদৌস জানান, গত সাত দিনে ১২২ জন যাত্রী হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছে। তাদের মধ্যে করোনা আক্রান্ত ৩২ জনকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধায়নে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ভারত থেকে আসা প্রত্যেককে হাকিমপুরে ৩টি হোটেলে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

নোয়াখালীতে পৌরসভা ও সদর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে আরও সাত দিন বাড়ানো হয়েছে বিশেষ লকডাউন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব এলাকায় লকডাউন চলাকালে সিএনজি অটোরিকশাসহ সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। দূরপাল্লার বাস চৌমুহনী চৌরাস্তা অতিক্রম করতে পারবে না। লকডাউনকৃত এলাকাগুলোতে ফার্মেসি ছাড়া বন্ধ থাকবে সব দোকানপাট। কাঁচা বাজার খোলা থাকবে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। শর্তসাপেক্ষে খোলা থাকবে খাবার হোটেল। গতকাল জেলা করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

advertisement