advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ভূমিকম্পের ভয় ‍: সিলেটে এখনই খুলছে না ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট

সজল ছত্রী,সিলেট ব্যুরো
১১ জুন ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১১ জুন ২০২১ ১০:৫৯
প্রতীকী ছবি
advertisement

১০ দিনে ১০ বারের বেশি ভূমিকম্পের কারণে আতঙ্কে আছেন সিলেট নগরীর বাসিন্দারা। ২৯ ও ৩০ মে প্রায় ৮ বার ভূমির ঝাঁকুনির পর পরবর্তী ১০ দিনের প্রাথমিক সতর্কতা হিসেবে বন্ধ করা হয় নগরীর ৬টি ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট। সেই মেয়াদ শেষের আগেই গত ৪ জুন আবারও দুই দফা ভূমিকম্পে বেড়েছে আতঙ্ক। তবে হুট করে মার্কেট বন্ধ করায় বেকায়দায় পড়েন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবির মুখে নিষেধাজ্ঞা সরালেও এখনই মার্কেট না খোলার নির্দেশনা দিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।

সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল আলিম শাহ জানান, নগরীর প্রায় ২৩টি সরকারি-বেসরকারি ভবন অনেক বছর ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত। বারবার তাগিদেও এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্টরা। লাগাতার ভূমিকম্পের কারণে এর মধ্যে ৬টি ব্যস্ত মার্কেটকে ১০ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাদের বিশেষজ্ঞ দিয়ে যাচাই ও সংস্কার করে মার্কেট খোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নগরভবন সূত্র জানায়, এখনই এই ভবনগুলো খোলা যাবে না। বিশেষজ্ঞ টিম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন জমা দেবে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই ভবনগুলো খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।

গত ৭ জুলাই সন্ধ্যায় সিলেটে দুই দফা ভূমিকম্প হয়। মাত্র ৩.৮ মাত্রার এই ভূমিকম্পেই ফাটল দেখা দেয় নগরের বন্দরবাজার এলাকার রাজা জিসি স্কুলের একটি ভবনে। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ মে সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টার মধ্যে সিলেটে অন্তত পাঁচটি ভূকম্পন অনুভূত হয়। পরদিন ভোরে আবার ভূমিকম্প হয়। যার সবগুলোর কেন্দ্রস্থল সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকায়।

২৯ ও ৩০ মের ভূমিকম্পের পর কিছুটা নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ৩০ মে নগরের ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে ৬টি ভবনকে ১০ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় সিসিক।

এরপর বুধবার শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সিসিক কর্তৃপক্ষের বৈঠকে নগরের সবগুলো ভবন নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিরীক্ষায় নামেন বিশেষজ্ঞরা। দুপুরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃথক দুটি বিশেষজ্ঞ দল নগরীর মধুবন সুপার মার্কেট, মিতালি ম্যানশন, সমবায় ভবন, সিটি সুপার মার্কেটসহ চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি ভবন পরিদর্শন করে।

পর্যবেক্ষণের পর বিশেষজ্ঞরা জানান, বন্ধ থাকা ৬টি মার্কেটের গুরুত্ব বিবেচনায় এগুলো দিয়েই তারা ভবনগুলোর সক্ষমতার

বিষয়ে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছেন। আরও বিভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ভবনগুলোর সক্ষমতা নিয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

দুই বিশেষজ্ঞ দলের নেতৃত্বে রয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম ও স্কুল অব এপ্লাইড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোশতাক আহমদ।

প্রথমদিনের পর্যবেক্ষণ শেষে অধ্যাপক মোশতাক আহমদ বলেন, আমরা পর্যায়ক্রমে নগরীর সব ভবন সার্ভে করে ঝুঁকি নির্ণয় করব। এরপর এই ভবনগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সিটি করপোরেশন।

অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের ভেতর যতগুলো ভবন আছে সবগুলো পরীক্ষা করা হবে। এটা আমাদের পক্ষে একা করা সম্ভব নয়। তাই সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও ছাত্রদেরও নেওয়া হবে। সবাই মিলে কাজটি করব। এ ক্ষেত্রে সব ভবন পরীক্ষা শেষ করতে হয়তো ৬ থেকে ৮ মাস লাগতে পারে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের হিসাবে সিলেটে প্রায় ৭০ হাজার হোল্ডিং আছে। এর মধ্যে সাততলার ওপরে ভবন আছে অন্তত ৪০০টি।

বন্ধ থাকা মার্কেটগুলো এখনই খুলছে না জানিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন জমা দেবেন। তাদের দেওয়া প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমরা এই ভবনগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।

জানা যায়, গত ২৯ মে কয়েক দফা ভূমিকম্প পরবর্তী সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে নগরের ৬টি মার্কেটসহ ৭টি ভবন বন্ধ করে দেয় সিসিক। গত ৩১ মে সকাল থেকে বন্ধ ঘোষিত হয় এসব মার্কেট। মার্কেটগুলো হলো- মিতালি ম্যানশন, সিটি সুপার মার্কেট, মধুবন সুপার মার্কেট, রাজা ম্যানশন, সমবায় ভবন ও সুরমা মার্কেট। এই ৬টি ভবন (মার্কেট) আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় ছিল বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশন। এ ছাড়া নগরীর পনিটুলা এলাকায় সামান্য হেলে থাকা ভবন বন্ধ ঘোষণা করে ভবনের বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

 

 

 

 

advertisement