advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

দিনাজপুর জেলে স্বাধীনতার পর প্রথম ফাঁসি

দিনাজপুর প্রতিনিধি
১১ জুন ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুন ২০২১ ২৩:০৮
advertisement

দিনাজপুর জেল কারাগারে স্ত্রীকে হত্যা মামলায় দ-িত এক ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। তার নাম আবদুল হক। গত বুধবার রাত ১২টা ১ মিনিটে তার ফাঁসি কার্যকর হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এটিই দিনাজপুর কারাগারে প্রথম কোনো আসামির ফাঁসি কার্যকরের ঘটনা বলে জানান কর্মকর্তারা।

দিনাজপুর জেল সুপার মোকাম্মেল হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কারাগারের সামনে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফাঁসি কার্যকর হওয়া আসামির লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ফাঁসি কার্যকর হওয়া আবদুল হক রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ভক্তিপুর চৌধুরীপাড়া এলাকার মৃত আছির উদ্দীনের ছেলে। ২০০২ সালের ২৮ আগস্ট থেকে তিনি স্ত্রী হত্যার মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাগারে বন্দি ছিলেন। আদালতের রায়ে তার মৃত্যুদ- হলে হাইকোর্টে বিবাদীপক্ষ আপিল করেন। আপিলেও মৃত্যুদ-ের আদেশ বহাল থাকে।

এর পর রায় কার্যকর করতে আবদুল হককে রংপুর কারাগার থেকে গত ২৬ মে দিনাজপুর কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে গত বুধবার বিকাল ৪টায় পরিবারের ১৫ সদস্য আবদুল হকের সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎ করেন এবং খাবার খাইয়ে ঘণ্টাখানেক অবস্থান করে চলে যান। পরে রাত ১২টা ১ মিনিটে তার ফাঁসি কার্যকর হয়।

ফাঁসির রায় কার্যকর করার সময় রংপুর জেল কারাগারের ডিআইজি (প্রিজন) আলতাফ হোসেন, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকী, পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. আবদুল কুদ্দুছ, চিকিৎসকসহ প্রশাসন ও জেলা কারাগারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২০০২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আবদুল হক তার স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেন। পরদিন ৯ ফেব্রুয়ারি তার শাশুড়ি বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পাঁচ বছর পর ২০০৭ সালের ৩ মে রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের বিচারক আসামি আবদুল হককে মৃত্যুদ- দেন। পরে আবদুল হকের পরিবার হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টে আপিল করে। সেখানে সাজা বহাল থাকে।

সর্বশেষ আবদুল হক রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন। গত ১৮ মে মামলার যাবতীয় তথ্য বিবেচনায় রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষার আবেদন নামঞ্জুর করলে ফাঁসি কার্যকরের উদ্যোগ নেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

advertisement