advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

শিপার সঙ্গে বাসায় দেখা করতেন মাহির

সিলেট ব্যুরো
১১ জুন ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুন ২০২১ ২৩:০৮
advertisement

সিলেট জেলা বারের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন হত্যার পূর্বেই জেলা ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান চৌধুরী মাহির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন শিপা বেগম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাদের দুজনের পরিচয়। কয়েকদিন মোবাইলফোনে কথা বলার পর দুজনের সাক্ষাত হয়। আইনজীবী আনোয়ার হোসেন প্রতিদিন সকালে আদালতে যাওয়ার পর মাহি তার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। রিমান্ডে থাকা শিপা বেগম পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। শিপার পাঁচদিনের রিমান্ডের গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ জুন) ছিল দ্বিতীয় দিন।

সিলেট সদর উপজেলার শিবের বাজারের দীঘিরপাড় গ্রামে মূল বাড়ি অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেনের। নগরীর তালতলায় নিজের বাড়িতেই দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে বাস করতেন। গত ৩০ এপ্রিল রমজানের দিনে বিকাল ৩টায় স্ত্রী শিপা বেগম স্বজনদের ফোন করে আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর খবর জানান। শিপার বাড়ি গোলাপগঞ্জ উপজেলার রণকেলী গ্রামে। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি স্বজনদের জানিয়েছিলেন, ডায়াবেটিস নীল হয়ে তার স্বামী মারা গেছেন। স্ত্রীর কথা বিশ্বাস করে স্বজনরা মৃত্যু নিয়ে কোনো সন্দেহ না করে আনোয়ার হোসেনের লাশ গ্রামের বাড়িতে সমাহিত করেন। খটকা লাগে আনোয়ারের মৃত্যুর এক মাস না যেতেই স্ত্রীর বিয়ের খবরে।

আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর ১০ দিনের মাথায় শিপা বেগম শাহজাহান চৌধুরী মাহিকে বিয়ে করেন। মাহির বাড়ি কানাইঘাটের ঝিঙ্গাবাড়ির উপরপাড়া গ্রামে। শিপা স্বজনদের জানান, তিনি মাহিকে দীর্ঘদিন ধরে ভালোবাসেন, তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এরপর থেকে আইনজীবী স্বামী আনোয়ার হোসেনের রেখে যাওয়া বাসাতেই তিনি নতুন স্বামী মাহিকে নিয়ে বসবাস করছিলেন।

বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে হত্যামামলা দায়ের করেন নিহত আনোয়ার হোসেনের ভাই মনোয়ার হোসেন। এ ঘটনায় শিপা গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছেন

বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

এ দিকে আনোয়ার হোসেনের ময়নাতদন্তের জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) ইয়াছিন আলী আদালতে লাশ কবর থেকে উত্তোলনের জন্য আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আদেশ হয়নি বলে গতকাল জানান তিনি। ইয়াছিন বলেন, আদালতের আদেশ পেলে আনোয়ার হোসেনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হবে। এছাড়াও রিমান্ডে থাকা শিপা বেগম পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে তিনি জানালেও তদন্তের স্বার্থে তিনি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, মামলার অগ্রগতি হচ্ছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া শিপা ও মাহির কললিস্ট সংগ্রহের জন্য পুলিশ আবেদন করেছে। কললিস্ট পেলে অনেক কিছুই পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

মাহি ও শিপা ছাড়া মামলার আসামিরা হলেন শিপার মা গোলাপগঞ্জের রণকেলী গ্রামের আজমল আলীর স্ত্রী রাছনা বেগম, কোতোয়ালি থানার রায়নগর ১০৪ নম্বর বাসার মোতাহির আলীর ছেলে এনামুল হাসান, জৈন্তাপুরের হরিপুর গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে এসএম জলিল, বিমানবন্দর থানার কালাগুল এলাকার মৃত কালা মিয়ার ছেলে জাকির আহমদ, গোয়াইনঘাটের ছোটখেল গ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে ফয়সল আহমদ ও সুবিদবাজার এলাকার লন্ডনী রোডের নাইমার।

advertisement