advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

উন্নতির মধ্যে অবনতি
সুবর্ণজয়ন্তীতে নগরজীবনের মানে অধোগতি কেন

১১ জুন ২০২১ ০০:০০
আপডেট: ১০ জুন ২০২১ ২৩:৩২
advertisement

নগরীর বাসযোগ্যতা বিবেচনায় গতবারের তুলনায় এবার রাজধানী ঢাকার কিঞ্চিৎ উন্নতি হয়েছে- শেষের দিক থেকে মহানগরীর অবস্থান এখন চতুর্থ, সার্বিক বিচারে ১৪০টি শহরের মধ্যে ১৩৭তম স্থানে আছে ঢাকা। অবস্থানের এই সামান্য পার্থক্যকে অবশ্য গুরুত্ব দেওয়ার কারণ নেই। আদতে করোনার কালে সবারই নম্বর কমেছে। বরং বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো সূচকেই পিছিয়ে গেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ খাতে গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশ পিছিয়েছে দেশ- স্বাস্থ্যব্যবস্থায় গত বছর ছিল ২৯.২ নম্বর, চলতি বছর তা নেমেছে ১৬.৭-এ; সংস্কৃতি ও পরিবেশে ছিল ৪০.৪, এবার তা ৩০.৮ এবং শিক্ষায় নম্বর ছিল ৪১.৭, কিন্তু এবার তা ৩৩.৩। সার্বিক বিচারে নাগরিকদের জীবনের মান ও যাপনের স্বস্তি ক্রমান্বয়ে যে নামছে এখানে তারই চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। বলতেই হবে বাসযোগ্যতার বিচারে ঢাকা পিছিয়ে পড়ছে। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো দেশের অন্যান্য নগরীও ব্যাপক হারে বাড়তি মানুষের চাপে এবং অপরিকল্পিত আবাসন ও নগরায়ণের ফলে একই অনাকাক্সিক্ষত পথেই এগোচ্ছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) গবেষণার ভিত্তিতে প্রণীত বিশ্ব বাসযোগ্যতার সূচক-২০২১ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। এবার শীর্ষে উঠে এসেছে নিউজিল্যান্ডের রাজধানী অকল্যান্ড, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপানের শহর ওসাকা- যেটি গতবার শীর্ষ অবস্থানে ছিল। সবার পেছনে ১৪০ নম্বরে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক, তার আগে রয়েছে একে একে নাইজেরিয়ার শহর ল্যাগোস, পাপুয়া নিউগিনির পোর্ট মোরেসবি। একজন নগর বিশেষজ্ঞের অভিমত হলো, যেসব দেশ করোনা পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক জনজীবন ফিরিয়ে আনতে পেরেছে তারাই এই সূচকে ভালো অবস্থানে আছে। বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ না হলেও অদক্ষতা ও দুর্নীতির কারণে চিকিৎসা, নমুনা পরীক্ষা এবং সর্বোপরি টিকা সংগ্রহ ও প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এরই জের ধরে দেড় বছর ধরেই শিক্ষাব্যবস্থা স্থবির হয়ে আছে, স্বাস্থ্যব্যবস্থা বিপর্যস্ত এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গন প্রাণহীনতার অভিশাপ বহন করে চলেছে।

আমাদের নগরগুলোয় বরাবর ট্রাফিকব্যবস্থা দুর্র্বল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অকার্যকর, নর্দমার নিকাশি ব্যবস্থা প্রায় স্থবির এবং পরিবেশের সামগ্রিক দূূষণ ও অপরিচ্ছন্নতার মাত্রা ভয়াবহ পর্যায়ে উঠেছে। বলতে বাধ্য হব, আমাদের নাগরিক পরিসেবার সূচকগুলোয় উন্নতি দেখা যাচ্ছে না, বরং অবনতিই লক্ষ করা যাচ্ছে। ফলে যে কোনো জরিপ বা গবেষণায় আমাদের এ রকম ফলই স্বাভাবিক। কিন্তু স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আর জাতির পিতার জন্মশতবর্ষে এসেও এমনটা তো চলতে দেওয়া যায় না। এবার উন্নতির প্রতিফলন নগর ও নাগরিক জীবনে অবশ্যই পড়তে হবে। সরকারকে করোনা নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে শাসনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও আইনের মান্যতা ফেরাতে এবং প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

advertisement