advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সময় কাটুক দোয়ায় রত থেকে

মাওলানা এম এম আহমদ
১১ জুন ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুন ২০২১ ২৩:৩২
advertisement

সব কল্যাণ যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে আসে- তেমনি বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্টও একমাত্র তিনিই দূর করেন। রাসুলুল্লাহ (স) যখনই কোনো কঠিন সমস্যা বা বিপদের সম্মুখীন হতেন, তখনই তিনি আল্লাহর কাছে একান্তভাবে দোয়া প্রার্থনা করতেন। মহানবী (স) দোয়া করতেন, ‘আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাজাবিহি ওয়া ইকাবিহি ওয়া শাররি ইবাদিহি ওয়া মিন হামাজাতিশ শায়াতিনি আই ইয়াহজুরুন।’ অর্থ- আমি আল্লাহতাআলার পরিপূর্ণ বাক্যের মাধ্যমে তার ক্রোধ ও আজাব থেকে, তার বান্দার শত্রুতা থেকে এবং শয়তানের প্ররোচনা থেকে সুরক্ষার জন্য আল্লাহতাআলার আশ্রয় প্রার্থনা করছি- যেন তারা আমার কাছেই না আসতে পারে (সুনানে আবু দাউদ)। রাসুলুল্লাহ (স) দোয়া করতেন, “আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন জাহদিল বালায়ি ওয়া দারকিশ শিকায়ে ওয়া সুয়িল কাজায়ি ওয়া শামাতাতিল আ’দায়ি।” অর্থ- হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় ভিক্ষা করছি বিপদ-আপদের দুর্বিষহ অসুবিধা থেকে, দুর্ভাগ্যের করালগ্রাস থেকে, ভ্রান্ত সিদ্ধান্ত থেকে এবং শত্রুর আনন্দ থেকে (বুখারি)।

বালামুসিবত থেকে মুক্ত থাকতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতিছোট্ট একটি দোয়া সব সময় পড়তেন। দোয়াটি হলো- ‘ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ুমু বিরাহমাতিকা আস্তাগিছ।’ অর্থ- ‘হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী! আপনার রহমতের মাধ্যমে আপনার কাছে সাহায্য চাই’ (তিরমিজি, মুসতাদরেকে হাকেম, মিশকাত)। বর্তমান করোনার পরিস্থিতিতে এ দোয়াটি আমাদের সবার প্রতিনিয়ত পাঠ করা উচিত। তিনিই ভালো জানেন, কার দোয়া তার দরবারে কখন গৃহীত হয়ে যায়। তাই আমাদের কাজ হচ্ছে দোয়া করতে থাকা। কবুল করার মালিক তিনি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দেখতেন কোনো মানুষ বিপদ বা সমস্যায় পড়েছে, তখন তিনি (স) তাদের বিপদ-আপদ থেকে মুক্তির জন্য এ দোয়া করতেন। হজরত ওমর (রা.) বলেন, “রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, কেউ বিপদগ্রস্ত লোক দেখলে এ দোয়া পড়বে- ‘আলহামদুলিল্লা হিল্লাজি আফানি মিম্মানিবতালাকা বিহি, ওয়া ফাদ্দালানি আলা কাছিরিম মিম্মান খালাকা তাফদিলা।’ অর্থ- সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য- যিনি তোমাকে বিপদাক্রান্ত করেছেন, তা থেকে তোমাকে নিরাপদ রেখেছেন এবং তোমাকে তিনি তার সৃষ্টি থেকে সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন’ (তিরমিজি)। এ ছাড়া মহানবী (স) বিভিন্ন ধরনের আজাব থেকে রক্ষার জন্য এ দোয়াও পড়তেন- ‘আল্লাহুম্মা লা তাকতুলনা বিগাজাবিকা ওয়ালা তুহলিকনা বিয়াজাবিকা ওয়া আফিনা কাবলা জালিকা।’ অর্থ- হে আল্লাহ! তুমি আমাদের তোমার ক্রোধ দ্বারা হত্যা করো না আর তোমার আজাব দিয়ে ধ্বংস করো না, বরং এর আগে তুমি আমাদের ক্ষমা করো (মুসনাদ আহমদ তিরমিজি)।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের সবাইকে দোয়ার ওপর বেশি দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। আল্লাহতাআলা আমাদের ক্ষমা করে তার দয়ার চাদরে আবৃত করে নিন। আমিন।

মাওলানা এম এম আহমদ : ইসলামি গবেষক

advertisement