advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ধামইরহাট সীমান্তের বাতিঘর

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি
১১ জুন ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুন ২০২১ ২৩:৩৯
advertisement

ফেসবুক-ইউটিউবের দাপটে যে সময় যুবসমাজ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসে আসক্ত, ঠিক সেই সময় যুবসমাজকে জ্ঞানার্জনে বইমুখী করতে নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ভারত সীমান্ত ঘেঁষে আগ্রাদিগুন গ্রামে এক স্বপ্নবান মানুষ নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত এক গ্রন্থাগার।

স্বপ্নবান মানুষটি হলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও গ্রীন ভয়েস বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আলমগীর কবির। বাবার স্মৃতিকে ধরে রাখতে গ্রন্থাগারটির নামকরণ করেছেন ‘মজিবুর রহমান স্মৃতি গ্রন্থাগার’।

নিয়মিত পাঠঅভ্যাস ও পাঠক তৈরি করতে ইতোমধ্যেই পার্শ্ববর্তী ৪২টি গ্রাম থেকে ১১০ জন পাঠক নিয়ে ১০টি গ্রুপ করা হয়েছে, যারা নিয়মিত গ্রন্থাগারে আসেন এবং ১০টি গ্রুপ কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে অন্যদের বই পাঠে আগ্রহী করছেন। পাশাপাশি বরেণ্য কবি-সাহিত্যিকদের জন্ম-মৃত্যু দিবস পালন ও তাদের জীবন আলেখ্য নিয়ে চলে বিশেষ আলোচনা। ইতোমধ্যে সীমান্ত এলাকার বাতিঘর হয়ে উঠেছে এই পাঠাগার।

গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আলমগীর কবির জানান, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিয়মিত প্রদর্শন করা হবে শিক্ষণীয় বিভিন্ন সিনেমা ও ডকুমেন্টারি। উপজেলার ২৬টি হাইস্কুল থেকে মাসে ১ দিন করে নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীকে শিক্ষণীয় ডকুমেন্টরি প্রদর্শন, বই পড়া, ছড়া-কবিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, গ্রন্থাগার ও বই পাঠের গুরুত্বের বিষয়ে বিনোদনের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে। দিনশেষে মূল্যায়নের মাধ্যমে ভালো ফলকারীদের করা হবে পুরস্কৃত।

গ্রন্থাগার প্রসঙ্গে চকময়রাম সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খেলাল-ই-রব্বানী বলেন, গ্রন্থাগার সৃষ্টি নিঃসন্দেহে মহৎ উদ্যোগ। এই গ্রন্থাগার দেখে আমি নিজেও আমার স্কুলে একটি বড় ধরনের সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার গড়ার পরিকল্পনা করেছি। এর কাজ শুরু হবে আগামী মাস থেকে। ২০২১ সালের মধ্যেই এটি হবে পরিপূর্ণ আধুনিক স্কুল গ্রন্থাগার। আশা করছি এটি বাংলাদেশের সব স্কুলের মধ্যে সেরা গ্রন্থাগার হবে। সাপাহার উপজেলার চৌধুরী চান মোহাম্মদ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. আব্দুল জলিল বলেন, মজিবুর রহমান গ্রন্থাগার তার নিজস্ব স্বকীয়তায় জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে মাদকমুক্ত, প্রতিহিংসামুক্ত, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে সমাজ গঠনে বিশেষ অবদান রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।

ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার গনপতি রায় বলেন, ‘মজিবুর রহমান স্মৃতি গ্রন্থাগার’ প্রত্যন্ত অঞ্চলে যে জ্ঞানের ছড়িয়ে দিচ্ছে, ইউনিয়ন পর্যায় পেরিয়ে ভবিষ্যতে পুরো ধামইরহাট উপজেলায় মানবিক মানুষ তৈরিতে এই গ্রন্থাগার অনন্তকাল ভূমিকা রাখবে এটিই আমাদের প্রত্যাশা।

advertisement