advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

শনাক্তের হার ২৩ শতাংশ, খালি নেই আইসিইউ

চট্টগ্রাম ব্যুরো
২৩ জুন ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২২ জুন ২০২১ ২৩:৪২
advertisement

চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণের হার বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২২৬ জন। শনাক্তের হার ২৩ শতাংশ। এতেই চট্টগ্রামে আইসিইউ ভরে উঠেছে করোনা রোগীতে। চিকিৎসকরা বলছেন, গত দুই সপ্তাহে যেখানে পরিস্থিতি ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক। সেখানে বর্তমানে প্রায় সব হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডগুলো রোগীতে পরিপূর্ণ। গত দুই সপ্তাহে বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও।

চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান আজ বুধবার থেকে দোকানপাট খোলা নিয়ে ফের বিধিনিষেধ জারি করেছেন। লকডাউন ঘোষণা করেছেন ফটিকছড়ি উপজেলায়। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংক্রান্ত কমিটির সভায় এ ঘোষণা দেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান বলেন, ফটিকছড়িতে করোনা সংক্রমণের হার প্রায় ৩৬ শতাংশ। সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামীকাল (বুধবার) থেকে আট দিনের জন্য ফটিকছড়ি ?উপজেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় ফটিকছড়ির সঙ্গে অন্যান্য উপজেলার যান চলাচল বন্ধ থাকবে। তিনি আরও বলেন, মসজিদে জামায়াতে

নামাজ আদায় করা যাবে। তবে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এ ছাড়া সব হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং সবধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ থাকবে। ওষুধের দোকান ছাড়া মুদি দোকান ও কঁচাবাজার সকাল ৭টা থেকে ১১টা এবং বিকাল ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এ ব্যাপারে তদারকির জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম জেলায় এ পর্যন্ত মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৬ হাজার ৩৯৭ জন। এর মধ্যে নগরে ৪৪ হাজার ৩৫৯ জন। উপজেলায় ১২ হাজার ৩৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৬৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬৩ জন নগরের। বিভিন্ন উপজেলায় মারা গেছেন ১৯৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৯৯০টি নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২২৬ জনের।

এদিকে করোনা শনাক্ত বেড়ে যাওয়ায় নগরীর হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ বেড খালি নেই। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, মা ও শিশু হাসপাতাল, পার্কভিউ হাসপাতালসহ অধিকাংশ হাসপাতালে আইসিইউ সংকট রয়েছে। নগরীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে সব মিলিয়ে আইসিইউ বেড আছে ১১৮টি। এর মধ্যে সরকারি দুইটি হাসপাতালে ১৫টি বেড খালী থাকলেও বেসরকারী কোন হাসপাতালে আইসিইউ বেড খালি নেই।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১৮টি আইসিইউ বেডের মধ্যে খালি আছে ৫টি। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬টি খালি আছে। এ ছাড়া নগরীর মা ও শিশু হাসপাতালে ১৫ দিন আগে ১৫ শয্যার আইসিইউ ওয়ার্ডে রোগী থাকত ৭-৮ জন; কিন্তু গত দুই সপ্তায় এই হাসপাতালের সব বেডে রোগী ভর্তি আছে। একই চিত্র দেখা গেছে বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালে গত ১০ দিনে প্রতিদিনই প্রায় ৭-১০ জন করে নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এই সময় তাদের ১০ শয্যার আইসিইউ ওয়ার্ডের সব বেডে রোগী ভর্তি আছে। অথচ দুই সপ্তাহ আগেও এই চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড ১৯-এর জন্য শয্যা আছে ১৬০০টি। বর্তমানে রোগী ভর্তি আছে ৪৮৮টিতে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা আছে ২৬টি। হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা আছে ১৭১টি। আর অক্সিজেন কনসেনট্রেটর আছে ৮০টি।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, চট্টগ্রামে ভারতীয় ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। এখন তা দ্রুত ট্রান্সমিশন হচ্ছে কিনা সেটি গবেষণার বিষয়। আরও অনেক কারণে করোনা সংক্রমণ বাড়তে পারে।

চট্টগ্রামের জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, এখন সব হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডে রোগীতে ভরে গেছে। এই মুহূর্তে আইসিইউ বেড কোথাও তেমন একটা খালি নেই। তবে আমরা হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা ব্যাবহার করে জটিল উপসর্গের রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছি। তিনি বলেন, আমাদের করোনা চিকিৎসার সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। প্রস্তুতিও বেশ ভালোই আছে।

advertisement