advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

৭ দিনের লকডাউনে ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
২৩ জুন ২০২১ ১৯:৩৪ | আপডেট: ২৩ জুন ২০২১ ১৯:৪৫
advertisement

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ঠাকুরগাঁও জেলায় সাত দিনের সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে আগামী ৩০ জুন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত লকডাউন চলবে। আজ বুধবার বিকেলে লকডাউনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান। এর আগে দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অনলাইনে আলোচনায় যুক্ত হন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব শরিফা খান। এ ছাড়া সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১৬ জুন থেকে সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটি। কঠোরবিধি নিষেধ আরোপের আজ ছিল শেষ দিন।

গত বছরের ১১ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রথম করোনায় সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এ পর্যন্ত জেলায় ১১ হাজার ৭২১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ৫৩২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ পর্যন্ত (২২ জুন) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬০ জন।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সাত দিনের লকডাউন চলাকালে জেলার সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শপিং মল, রেস্তোরাঁ, ও চায়ের দোকান বন্ধ থাকবে। তবে মুদি দোকান, কাঁচাবাজার, মাছের বাজার ও ফলের দোকান খোলা থাকবে। এ ছাড়া জেলার পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

বন্ধ থাকবে সাপ্তাহিক হাট ও গরুর হাট। জেলার ভেতরে ও আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার সব ধরনের গণপরিবহন, ইজিবাইক, থ্রি-হুইলারসহ সব যান্ত্রিক যানবাহন বন্ধ থাকবে। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে জরুরি পরিষেবা, চিকিৎসাসেবা, কৃষিপণ্য, খাদ্য সরবরাহ ও সংগ্রহ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন, ইন্টারনেট, ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, ওষুধ শিল্পসংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরা এর আওতাবহির্ভূত। এ আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজার রহমান সরকার বলেন, সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের শুরুতে জেলায় ৮২১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। আর করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩৩০ জনের শরীরে। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৪০ দশমিক ১৯ শতাংশ। এ সময়ে মারা গেছেন ৯ জন।

তিনি বলেন, বর্তমানে ঠাকুরগাঁওয়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ লেগেছে। যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে জেলার করোনা পরিস্থিতি অনেক খারাপ। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১৭ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত জেলায় সাত দিনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ৩০ জুন সন্ধ্যা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও জেলায় সর্বাত্মক লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান বলেন, জেলায় কঠোর বিধিনিষেধ থাকার পরও করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। তাই আজ কঠোরবিধি নিষেধের শেষ দিনে জরুরি ভিত্তিতে করোনা প্রতিরোধ সংক্রান্ত কমিটির সভা ডাকা হয়। জেলার মানুষদের কথা চিন্তা করে সভায় উপস্থিত সকলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আগামী ৭ দিনের কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, লকডাউনে বেঁধে দেওয়া শর্তাবলী সকলেই মেনে চলবেন। অযথা ঘরের বাইরে বের হবেন না। যারা শর্তাবলী ভঙ্গ করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাই আসুন নিজে সুস্থ থাকি ও পরিবার তথা সমাজকে সুস্থ রাখি। সবাই একসাথে করোনা ভাইরাসকে মোকাবিলা করি।

advertisement