advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

খুঁড়তে খুঁড়তে যায় বেলা

ঢাকার রাজপথ থেকে অলিগলিতে যন্ত্রণার শেষ নেই

সানাউল হক সানী
২৪ জুন ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ জুন ২০২১ ০৯:১৩
advertisement

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়কে নানা সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ি যেন নগরবাসীর কাছে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দেখা দিয়েছে। দেখা যায়, আজ এ সড়ক সুন্দরভাবে পিচ ঢালাই করা হয়েছে তো পরের মাসেই সেটিকে খুঁড়ে খানাখন্দ বানিয়ে দিয়েছে অন্য কোনো সংস্থা। বিশেষ করে শীত আর বর্ষা এলেই যেন এই খোঁড়াখুঁড়ির তোড়জোড় আরও বেড়ে যায়। শুরু হয় সড়ক ও ড্রেন উন্নয়নের কার্যক্রম। যার মূল্য নগরবাসীকে দিতে হয় শীতে ধুলায় ধূসরিত হয়ে আর বর্ষাতে কাদাপানি ও জলাবদ্ধতায়। তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়রদ্বয় দায়িত্ব নেওয়ার পর সড়ক কাটাকাটির ক্ষেত্রে নানা নীতিমালা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু তবু চলতি বছরেও বর্ষায় সড়ক উন্নয়নের নামে খোঁড়াখুঁড়ি থামেনি। ফলে সমাধান হয়নি জলাবদ্ধতার। এখনো অনেক সড়কে ফুটপাত ও ড্রেন কাটা থাকায় হেঁটে চলাচল করাও যাচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর ফকিরাপুলের বিভিন্ন অলিগলি ও সড়ক, নয়াপল্টন এলাকার বিভিন্ন অলিগলি, মতিঝিল এলাকার বেশ কয়েকটি সড়ক, পুরান ঢাকার আগা সাদেক রোড, হাতিরপুলের ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, ধোলাইখালের নাসির উদ্দিন সরদার লেন, ওয়ারীর টয়েনবি সার্কুলার রোড, ফকিরাপুল, রাজারবাগ কালীমন্দির ও মুগদা এলাকায় সড়ক খুঁড়ে নর্দমা সংস্কারের কাজ চলছে। এর মধ্যে আগা সাদেক রোডের যে অংশ কাটা হয়েছে, সেদিক দিয়ে স্বাভাবিক অবস্থাতেও হাঁটাচলা করা যাচ্ছে না। বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে অবস্থা হয়ে পড়ছে আরও নাজুক। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে পাশের মাজেদ সরদার রোড, কাজী আলাউদ্দিন রোডসহ অলিগলিতে। একই অবস্থা পুরান ঢাকার ইসলামবাগ এলাকায়। সেখানে বেড়িবাঁধ ঘেঁষে একটি সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের জন্য কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া হাতিরপুলের ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, ধোলাইখালের নাসির উদ্দিন সরদার লেন, ওয়ারীর টয়েনবি সার্কুলার রোড যে অংশের কাজ শেষ হয়েছে, ওই অংশ পুরোপুরি সচল করা যায়নি। ফলে বাসিন্দারা বিপাকে পড়েছেন। এ ছাড়া মিরপুরের কালশীর নান্নু মার্কেট এলাকায় বিভিন্ন সড়ক সংস্কারের জন্য কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। আবার মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় মেট্রোরেলের কাজ চলায় সড়ক অনেকটাই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, আগা সাদেক রোডের প্রায় এক কিলোমিটার অংশের নর্দমা সংস্কারে গত এপ্রিল মাসে একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। মাসখানেক আগে ওই প্রতিষ্ঠানটি সেখানে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শুরু করে। প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে এই কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। তাদের নিজস্ব অর্থায়নে কাজটি শেষ হতে পুরো বর্ষা মৌসুমই লাগবে। এ ছাড়া আজিমপুরের আবদুল আলীম খেলার মাঠের দক্ষিণ পাশের সড়কে উন্নয়ন কাজের জন্য খুঁড়ে রাখা হয়েছে। এই সড়কটিও চলাচলের অনুপযোগী। পুরো সড়কে হেঁটে চলাচলের জায়গাও নেই।

জলাবদ্ধতা নিরসনে মাসখানেক আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বিভিন্ন এলাকায় পাইপ নর্দমা সংস্কারের কাজ শুরু করে। এবারের বর্ষা মৌসুমেই অন্তত ২৫টি এলাকায় রাস্তা কাটার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। ১০৩ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ইতোমধ্যে অন্তত ১০টি জায়গায় সড়ক ও ফুটপাত কাটা হয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমজুড়েই বাসিন্দাদের ভোগান্তি পোহাতে হবে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি সড়ক রয়েছে, সে সব সড়কে দীর্ঘদিন আগেই উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু নানা কারনেই ওইসব কাজ শেষ করা হয়নি। ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হলেও কাদাপানিতে মাখামাখি থাকছে সড়ক। এ ছাড়া বাসাবাড়ির ব্যবহারের পানি ও বৃষ্টির পানি যাতে দ্রুত নিষ্কাশন হয়, এ জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের নর্দমা পরিষ্কার করতে আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও শুরু করেছে ডিএনসিসি। ৩৬ কোটি টাকার এই প্রকল্পের বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে বর্ষা মৌসুমেই। দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডে ৭১৫ কিলোমিটার পাইপ নর্দমা এবং ৪৬৬ কিলোমিটার উন্মুক্ত নর্দমা আছে।

অথচ ডিএসসিসির ‘সড়ক খনন নীতিমালা ২০১৯’ অনুযায়ী অন্য কোনো সংস্থা করপোরেশনের রাস্তা খনন করতে চাইলে বর্ষা মৌসুম তথা মে থেকে সেপ্টেম্বরে যাতে না করে, সেই নির্দেশনা দেওয়া আছে। তবে সংস্থাটির প্রকৌশল বিভাগ বলছে, জলাবদ্ধতা কমাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ওইসব কাজের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুম থেকেই এসব উন্নয়ন কাজের সুফল মিলবে।

মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র হিসেবে ডিএসসিসির দায়িত্ব নেওয়ার পর এবারই প্রথম নিজস্ব অর্থায়নে জলাবদ্ধতা নিরসনের দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২৫টি এলাকা চিহ্নিত করে ১০৩ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের দিকে এমন পরিকল্পনা নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে এই কাজ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে জুন মাসে। তবে সূত্র বলছে, প্রথম অবস্থায় জলাবদ্ধতা হয় এমন ২৫টি এলাকা চিহ্নিত করলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা ৫৭টি এলাকায় পৌঁছেছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ক্রমান্বয়ে এসব এলাকায় উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করা হবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে ১০৩টি এলাকাকে জলাবদ্ধতাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজস্ব অর্থায়নে এই দুটি প্রকল্প বাদেও ডিএসসিসি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনসহ নর্দমা ও ফুটপাতের উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে আরও কয়েকটি এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছে। প্রত্যেক কাউন্সিলরকে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ করতে এক কোটি টাকা করে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, ওই কাজের মধ্যে অনেকেই নর্দমা ও ফুটপাতের সংস্কার করছেন। এসব কাজেও মানুষের ভোগান্তির মাত্রা বাড়বে।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের বলেন, জনভোগান্তি কমাতে আগামী অর্থবছর থেকে বর্ষা মৌসুমে যাতে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করতে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে মেয়র নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রকৌশল বিভাগকে কোন সময়ের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করতে হবে এবং কোন সময়ের মধ্যে সেসব কার্যক্রম শেষ করতে হবে, সেটারও সুনির্দিষ্ট সূচি করে দিয়েছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী, শুকনা মৌসুমে দরপত্র আহ্বান ও চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শেষের পাশাপাশি বর্ষার আগেই রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি শেষ করতে হবে।

advertisement