advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

করোনা ও বস্তিবাসী
স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে

২৪ জুন ২০২১ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২১ ১১:৩৬ পিএম
advertisement

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি বা আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র দেশের করোনা সংক্রমণ নিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরের বস্তি অঞ্চলে জরিপ কাজ চালিয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, ঢাকার বস্তিবাসীদের ৭১ শতাংশ এবং চট্টগ্রামের ৫৫ শতাংশের শরীরে করোনা অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অর্থ হলো এসব ঘিঞ্জি বসতি এলাকায় করোনার সংক্রমণ ঘটেছিল- তবে সংক্রমণের ব্যাপকতা থাকলেও তার তীব্রতা কম ছিল। তাই বেশিরভাগ আক্রান্ত ব্যক্তি হয় সাধারণ সর্দি-জ্বরের ওষুধ সেবন করেছেন অথবা ওষুধ ছাড়াই সুস্থ হয়েছেন। কারণ অ্যান্টিবডির উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, এদের মধ্যে গড়ে ৬৮ শতাংশ মানুষ করোনার সংস্পর্শে এসেছেন কিন্তু এখানে মৃত্যুহার কম, এমনকি অসুস্থতার প্রকোপ অত বেশি না হওয়ায় করোনা হিসেবে ভাবার প্রয়োজনও পড়েনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। তাতে বোঝা যায়, বস্তিবাসীরা দরিদ্র হলেও তাদের জীবনযাপনের কোথাও থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জন্মাচ্ছে। সাধারণত যে ধারণাটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত তা হলো এসব গরিব মানুষ রোদের মধ্যে থাকেন বেশি, তাই তারা প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন-ডি পান এবং তাতে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি তৈরি হয়।

এই জরিপ দুঃসময়ে একটি ভালো বার্তা দিল আমাদের। আর তা হলো করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ লড়াইয়ে কেবল টিকা নয়, জীবনব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা যায়। সবটা না হলেও অনেকটাই যাবে বলে মনে করা যায়। বাংলাদেশে সব মানুষের জন্য টিকা কবে কতদিনে মিলবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। স্পষ্ট হলো এ বিষয়ে সরকার কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি এবং এ নিয়ে মানুষের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ চরম আকার ধারণ করছে। তাই এই সময়ে এই জরিপ ও তার ফল সবার জন্যই আশার সুবাতাস বয়ে এনেছে।

আমরা জানি আমাদের শহরগুলো ক্রমেই ইট-সিমেন্ট আর লোহালক্কড়ের ঘিঞ্জি বস্তি হয়ে উঠছে, এতে মানুষের বাসস্থান যেন এক একটি খাঁচায় পরিণত হয়েছে। আর বন্দি মানুষ প্রকৃতির আলো-বাতাস, রোদ-বৃষ্টি থেকে আজ গা বাঁচিয়ে চলতে অভ্যস্ত। অনভ্যাসে তারা প্রাকৃতিক পরিবেশে অসুস্থ হয়ে পড়েন, ঢুকতে হয় আরও শক্ত খাঁচায়- হাসপাতালে, কেবিনে, আইসিইউতে! এহেন মানুষ সংখ্যায় সারাবিশ্বে বাড়ছে। আর বাড়ির কর্তা-কর্ত্রী ও সামাজিক ব্যবস্থার ফলে জন্ম থেকে শিশুরাও এই বন্দিদশায় জীবন কাটায়, কাটাতে বাধ্য হয়- ঘরে, স্কুলে, কোচিংয়ে। শহরে মাঠে নেই খেলার সুযোগ, পার্ক নেই, থাকলেও যাওয়ার ফুরসত নেই। এ জীবন করোনার ও অন্যান্য রোগের স্বাভাবিক উর্বর আবাসস্থল। আইসিডিডিআরবির জরিপ থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া জরুরি এবং এ শিক্ষা থেকে নগরায়ণ, জীবনশৈলী ও বাসস্থান পরিকল্পনার মৌলিক নীতি-কৌশল নির্ধারণ জরুরি। শোনা যায় এক কোভিড ১৯-এ এই নতুন মারীর শেষ হবে না, নতুন নতুন ভাইরাস আসতেই থাকবে। তাই আমাদের জন্য নির্ভরযোগ্য একমাত্র জায়গা হবে স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন।

advertisement