advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

স্পেনের রাস্তায় চুমু-আলিঙ্গনের অনুমতি

লোকমান হোসেন,স্পেন
২৭ জুন ২০২১ ১২:৩১ পিএম | আপডেট: ২৭ জুন ২০২১ ১২:৩১ পিএম
advertisement

৪০১ দিন পর মাস্ক ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করেছে স্পেন সরকার। এখন থেকে দেশটির রাস্তায় মাস্ক ছাড়া চলাচল করা যাবে। আগের মতো আলিঙ্গন ও চুমুর অনুমতিও দেওয়া হয়েছে, তবে সেটি শুধুমাত্র পরিবারের সদস্য ও নিকট আত্মীয়দের জন্য। অন্যান্যদের দেড় মিটার সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। মানুষের ভিড় আছে এমন এলাকায় মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে। ঘর থেকে বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার না করা হলেও সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্পেনের মনোবিজ্ঞানী নাতালিয়া ওরতেগা মনে করেন, মাস্ক ব্যবহার সম্পূর্ণ উঠিয়ে না দেওয়া হলেও, দীর্ঘ ১৫ মাস অতিক্রম করা মহামারির পর এ শিথিলতা মানুষের মনে কিছুটা হলেও প্রশান্তি দেবে। তিনি বলেন, সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মুখাবয়বের ভাব ও অভিব্যক্তি দেখা মানুষের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ, যা মাস্ক ব্যবহারের কারণে এতদিন ঢাকা ছিল। এখন আমরা কারও মুখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারব।

নাদান স্তগিফেরা নামে এক তরুণী বলেন, দীর্ঘদিন আমি আমার প্রেমিককে প্রকাশ্যে চুমু খেতে পারিনি। এখন আর কোনো বাধা নেই। নাফতালিয়া নামে একজন বলেন, অনেকদিন হয়ে গেছে আমার বন্ধুদের দেখিনি, জড়িয়ে ধরিনি, চুমু খাইনি। আজ বাধামুক্ত হলাম।

ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় মহামারি পরিস্থিতিতে স্পেনের আইনকানুন তুলনামূলকভাবে বেশি কড়াকড়ি ছিল। দেশটির বিশেষজ্ঞরা মাস্ক ব্যবহারের শিথিলতার বিষয়ে পক্ষে বিপক্ষে কয়েক মাস ধরে আলোচনা ও যুক্তি-তর্ক করছিলেন। পরে, গতকাল থেকে কঠোরতা তুলে নেয় সরকার।

স্পেনের মহামারি বিশেষজ্ঞ ও অভিয়েডো বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি ও দুর্যোগ গবেষণা ইউনিটের প্রধান পেদ্রো আরকোস বলেন, যেখানে খোলা পরিবেশে সামাজিক দূরত্ব বজায় ছিল এমন জায়গায় প্রথম থেকেই মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন ছিল না। শুধুমাত্র আবদ্ধ পরিবেশে যেখানে মানুষের ভিড় হয়, এমন স্থানে বাধ্যতামূলক করাটাই যথেষ্ট ছিল। তবে বর্তমান এ উদ্যোগটি স্পেনকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ধাপ বলে মনে করছেন তিনি।

উল্লেখ্য, এক সপ্তাহ আগে দেশটির রাষ্ট্রপতি পেদ্রো সানচেসের দেওয়া ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল শনিবার থেকে মাস্ক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্নভাবে আনন্দ প্রকাশ করেন স্প্যানিশরা। শিথিলতা কার্যকরের আগের রাতে দেশটির বিভিন্ন শহরে মানুষকে আনন্দ উল্লাস করতে দেখা গেছে।

advertisement