advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

জ্যোতির উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প

লেখক ও সাংবাদিক
১৮ জুলাই ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২১ ০৯:১৩
অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি
advertisement

জ্যোতিকা জ্যোতি সফল অভিনেত্রী। এপার-ওপার- দুই বাংলায় তিনি সমান জনপ্রিয়। ইদানীং তিনি উদ্যোক্তা হিসেবেও যাত্রা শুরু করেছেন। তার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প শোনাচ্ছেন লাবণ্য লিপি

করোনা পাল্টে দিয়েছে মানুষের জীবনধারা। বদলে যাওয়া এই জীবনে বদলে গেছে মানুষের চিন্তাচেতনাও। জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে মানুষের পেশাও বদলে গেছে। উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন অনেক গৃহিণী ও শিক্ষার্থীও। তাদের প্রত্যেকেরই উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পেছনে একটি করে গল্প আছে। তেমনি গল্প আছে জ্যোতির উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পেছনেও।

জ্যোতি বলেন, সুস্থ ও সুন্দর জীবনের প্রথম শর্ত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ সুষম খাবার। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, সম্প্রতি খাবারে বিভিন্ন রকম বিষাক্ত রাসায়নিকের প্রয়োগ, হাইব্রিডজাতীয় পণ্যের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও অন্যান্য ভেজালের ভিড়ে আমাদের শুদ্ধ খাবার হারিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, খাবারে মেশানো এই বিষ মানুষের শরীরে ঢুকে তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মানুষ নানা রকম জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আর এ কাজটি করছে কতিপয় লোভী মানুষ। তারা তাদের স্বার্থের জন্য এই সর্বনাশা খেলায় মেতে উঠেছে। অনেকে আবার এটি বুঝেও মানুষকে অন্য এক কৌশলে ঠকাচ্ছে। ভেজালমুক্ত অর্গানিক পণ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারাও রাসায়নিকযুক্ত পণ্যই মানুষকে সরবরাহ করছে অধিক মূলে। সত্যি বলতে কীÑ এসব দেখে-শুনে কেন জানি না মনে হলো, আমি একটু চেষ্টা করলে কেমন হয়? দেখি সত্যিই ভেজালমুক্ত খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন করা সম্ভব কিনা। ওই চিন্তারই ফসল ‘খনা অর্গানিক।’ এটা মূলত খাদ্যপণ্য সরবরাহকারী একটা উদ্যোগ।

কৃষিপণ্য নিয়েই আমাদের আপাতত আয়োজন। খনা অর্গানিক শুরু হয়েছে মূলত ২০২০ সালের জুন থেকে। তবে আমরা সেল শুরু করেছিলাম ২০১৯ সালের নভেম্বর থেকেই। শুরুতে মাত্র ছয় কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। বর্তমানে প্রায় ৩০ জনের বেশি কাজ করছেন। যেহেতু করোনাকালে আমরা কাজ শুরু করেছি, সেহেতু মূলত হোম ডেলিভারির মাধ্যমেই গ্রাহককে আমাদের পণ্য পৌঁছে দিচ্ছি। প্রথমে আমরা মাঠপর্যায় থেকে পণ্য সংগ্রহ করে ঢাকায় নিয়ে আসি। তার পর সেগুলো গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী তাদের ঘরে পৌঁছে দিই। আমরা সাধারণত কাঁচামাল আগে সংগ্রহ করি না। অর্ডার পেলেই সেগুলো খামার থেকে আনা হয়।

যেহেতু আমাদের নিজস্ব কোনো যানবাহন নেই, সেহেতু সেটির পরিবহনসহ অন্যান্য খরচের পর ওই অর্থে লাভ তেমন থাকে না। তবু আমরা কাজটা করে যাচ্ছি। কারণ কাজটা শুধুই ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি নিয়ে করা হয়নি। এটা একটা মিশন। চাইলে এই ভেজালের সময়েও বিশুদ্ধ পণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভবÑ এ উদ্দেশ্য থেকেই খনা অর্গানিকের জন্ম। এত অল্প সময়েই আমরা খুব সফল বা সাফল্য পাচ্ছিÑ এমনটা প্রত্যাশাও করি না। আপাতত কাজটাই করে যাচ্ছি। এত স্বল্প উদ্যোগে ক্রেতাদের যে সাড়া পাচ্ছি, আপাতত এতেই আমরা খুশি। কাজটা চালিয়ে নিতে আমাকে বেশ বেগ পেতেও হচ্ছে। বিশ্বস্ত ও ভালো উদ্যোগের সহযাত্রী হওয়ার মতো মন-মানসিকতাসম্পন্ন মানুষ পাওয়াই তো খুব মুশকিল। মাঠপর্যায়ে বেশ কয়েকজন নারীকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। এটারও একটা উদ্দেশ্য আছে। আমি চাই, এই নারীরাÑ যারা আগে অর্থ উপার্জনের জন্য তেমন কোনো কাজ সরাসরি করতেন না, তারা স্বাবলম্বী হোন। আমাদের ইচ্ছা আছে শিগগিরই ঢাকায় একটা শপ নেওয়ার। এতে ক্রেতা দেখে-শুনে তার প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারবেন।

advertisement