advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

মাগুরায় সেই সুরাইয়া বেড়ে উঠছে নানা প্রতিবন্ধকতায়

মোখলেছুর রহমান, মাগুরা
২৪ জুলাই ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২১ ১১:০৯ পিএম
advertisement

ছয় বছর পূর্ণ করে সাতে পা রাখল ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় মাগুরা শহরতলীর দোয়াপাড় এলাকায় সংঘর্ষকালে মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ সুরাইয়া। গতকাল শুক্রবার ছিল সুরাইয়ার ষষ্ঠ জন্মদিন। চা বিক্রেতা বাবার পক্ষে ঘটা করে জন্মদিন পালন করা সম্ভব হয়নি। তবে এলাকার মসজিদে দোয়ার আয়োজন করেছিলেন বলে জানান সুরাইয়ার বাবা বাচ্চু ভূঁইয়া। সুরাইয়ার মা নাজমা বেগম বলেন, সুরাইয়া সবার আদরে ভালোভাবে বেড়ে উঠলেও এখনো দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারে না। ইতোমধ্যে ডান চোখটি গুলির আঘাতে নষ্ট হয়ে গেছে পাশাপাশি ডান হাত কাজ করে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সুরাইয়াকে উন্নত চিকিৎসা দিতে পারলে অনেকটা স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেত। স্বামীর চা দোকানের সামান্য আয়ে সংসারই ভালোভাবে চলে না, সেখানে উন্নত চিকিৎসা করাবেন কীভাবে। স্থানীয়ভাবে ফিজিওথেরাপি দেওয়া হচ্ছিল তাও করোনার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় মাগুরা শহরতলীর দোয়াপাড় এলাকায় অধিপত্য নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেই সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন সাড়ে সাত মাসের গর্ভবতী গৃহবধূ নাজমা বেগম ও বৃদ্ধ আবদুল মোমিন ভূঁইয়া। এ সময় তার গর্ভের শিশুটিও গুলিবিদ্ধ হয়। ওই রাতে মাগুরা সদর হাসাপতালের চিকিৎসকরা ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্রোপচার করে মা ও গর্ভের শিশুটির জীবন বাঁচান। অন্যদিকে গুলিবিদ্ধ আবদুল মোমিন ভূঁইয়া ২৪ জুলাই রাতে মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সুরাইয়ার বাবা বাচ্চু ভূঁইয়া বলেন, খুব কষ্টের মধ্যে দিন কাটছে। কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাহায্য পাইনি। আজও শুরু হয়নি ওই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ। আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সাক্ষীরা যাতে সঠিকভাবে সাক্ষ্য দিতে না পারে সে জন্য আসামিরা বিভিন্ন সময় মিটিংও করছে।

অন্যদিকে মামলার বাদী ঘটনার দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মোমিন ভূঁইয়ার ছেলে রুবেল ভূঁইয়া হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘মামলায় চার্জ গঠন হয়েছে কয়েক বছর আগে। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি। মামলার ধার্য তারিখে আদালতে গেলে পিপি জানান বিচারক নেই। এভাবে চললে আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হব। তিনি মামলাটি দ্রুত সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে শেষ করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।’

পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এস্কেন্দার আজম বাবলু জানান, এ ঘটনায় নিহত মোমিন ভূঁইয়ার ছেলে রুবেল ২০১৫ সালের ২৬ জুলাই মাগুরা সদর থানায় ১৬ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। পুলিশি তদন্তে আরও ৩ জনের নাম নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হয়। ওই বছরই ৩০ নভেম্বর মোট ১৭ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। মামলাটি মাগুরার অতিরিক্ত দায়রা আদালতে ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ইতিপূর্র্বে ওই আদালতের বিচারক না থাকায় এবং করোনা পরিস্থিতির কারণে সাক্ষ্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে এখন বিচারক আছেন। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে মামলাটির বিচার শেষ হবে।

advertisement