advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

দিনাজপুরে বোরো সংগ্রহ অভিযানে ধীরগতি

রতন সিং, দিনাজপুর
২৪ জুলাই ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২১ ১১:১০ পিএম
advertisement

জেলার ১৩টি উপজেলায় হাটে-বাজারে ধানের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সরকারি বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানের গতি কমে গেছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণেও সংশয় দেখা দিয়েছে।

খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসএম সাইদুল ইসলাম জানান, দিনাজপুর জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ৪০ টাকা কেজি দরে ৯১ হাজার টন সিদ্ধ চাল, ৩৯ টাকা কেজি দরে ৭ হাজার টন আতপ চাল এবং ২৭ টাকা কেজি দরে ২৪ হাজার টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চাল সংগ্রহের জন্য জেলার ১ হাজার ৮০০ মিল মালিক চুক্তিবদ্ধ হন খাদ্য বিভাগের সঙ্গে। গত বছর ৮ মে সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। গত ১৭ জুলাই পর্যন্ত ২৮ হাজার টন সিদ্ধ চাল ও ৩ হাজার টন আতপ চাল এবং ১৮ হাজার টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৭৩ শতাংশ।

আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত এ অভিযান চলবে। অভিযান সফল হবে বলেও আশা করেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক।

এ দিকে হাট-বাজারে ধানের সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত দুই সপ্তাহ থেকে বাড়ছে ধানের দাম। গত শনিবার দিনাজপুরের অন্যতম বৃহৎ ধানের হাট সদর উপজেলা গোপালগঞ্জে গিয়ে দেখা যায়, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি বস্তা (৭৫ কেজি) ধানের দাম বেড়েছে প্রকার ভেদে আড়াইশ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। দুই সপ্তাহ আগে হাইব্রিড মোটা জাতের ধান (৭৫ কেজি) প্রতি বস্তা ১ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৫০ টাকা, বিআর-২৮ জাতের ধান ২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ২২০ টাকা এবং সম্পা কাঠারী জাতের ধান ২ হাজার ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৬০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা থাকলেও ধানের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে বলে জানান ধান ক্রেতারা।

গোপালগঞ্জ হাটে ধান ক্রেতা ধীমান বসাক জানান, লকডাউন শুরুর আগেও গোপালগঞ্জে প্রতি হাটে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার বস্তা ধান উঠতো। কিন্তু গত শনিবারে যে ধান উঠেছে, তা ৪০০ বস্তার বেশি হবে না। বেশিরভাগ প্রান্তিক কৃষক মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ধান বিক্রি করে দেন। তাই প্রান্তিক ও মাঝারি কৃষকদের কাছে এখন আর তেমন ধান নেই। এখন যে ধান রয়েছে তা শুধু বড় কৃষকদের কাছে। এই কারণে বাজারে ধানের সরবরাহ কমছে। তিনি আরও জানান, হাটে ধানের সরবরাহ এভাবে কমতে থাকলে দাম আরও বাড়তে পারে। বাজারে ধানের দামের এই ঊর্ধ্বগতিতে দিনাজপুর জেলায় সরকারি বোরো সংগ্রহ অভিযান পুরোপুরি সফল হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। একজন মিল মালিক জানান, যেভাবে ধানের দাম বেড়েছে, তাতে এই দামে ধান কিনে খাদ্য বিভাগের কাছে চাল সরবরাহ করতে লোকসান গুনতে হবে। এ জন্য খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেও অনেক মিল মালিক পুরোপুরি চাল দিতে না পারায় এখন রয়েছে সংশয়ের মধ্যে।

উল্লেখ্য, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় গত বোরো ও আমন মৌসুমে দিনাজপুর জেলায় সরকারি খাদ্য সংগ্রহ অভিযান সফল হয়নি। এবার সরকার চাল ও ধানের সংগ্রহ মূল্য বৃদ্ধি করলেও সংগ্রহ অভিযান পুরোপুরি সফল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

advertisement