advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
চালু হবে কারিগরি ডিপ্লোমা

এম এইচ রবিন
২৪ জুলাই ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২১ ০৯:৪৭ এএম
advertisement

দেশের সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়খ্যাত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজগুলোয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা যে কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি। যদিও এখানে প্রচলিত অনার্স-মাস্টার্সের অনেক কোর্সই বাস্তব কর্মমুখী নয়। তাই সনদসর্বস্ব অনার্স-মাস্টার্স ডিগ্রিধারী তৈরির চেয়ে কর্মদক্ষতা সম্পন্ন ডিপ্লোমা সনদধারী শিক্ষিত যুবক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেই পরিকল্পনা থেকে গতানুগতিক অনার্স-মাস্টার্স কোর্স বাদ দিয়ে কর্মমুখী বাজার উপযোগী ডিপ্লোমা কোর্স চালু করা হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে একবারেই ঢেলে সাজানোর একটি চেষ্টা চলছে। আশা করি সবার সহযোগিতা পাব। আর কলেজগুলোতে অনার্স-মাস্টার্স নিয়ে কথা উঠেছে, এটি নিয়ে ২০১৯ সাল থেকে কাজ করছি। এলাকার মানুষের চাপে আমরা কলেজগুলোয় অনার্স-মাস্টার্স খুলি। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ কলেজের বেশিরভাগ শিক্ষক অনার্স-মাস্টার্স স্তরের নন, বেশিরভাগ শিক্ষার্থীও অনার্স-মাস্টার্সের নয়। সবার জন্য তো অনার্সের প্রয়োজন নেই। এত অনার্স-মাস্টার্স করে তার পর তারা কী করবেন? কাজেই যে দক্ষতাগুলো প্রয়োজন সেগুলো পাচ্ছে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৯ সাল থেকেই অনার্স-মাস্টার্স স্তরের অনুমোদন দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। যেসব জায়গায় (বেসরকারি কলেজে) অনার্স-মাস্টার্স রয়েছে পর্যায়ক্রমে সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হবে। তার পরিবর্তে কলেজগুলোয় বিভিন্ন ধরনের শর্ট কোর্স পড়ানো হবে। কলেজগুলো থেকে যারা বিএ, বিএসসি ও বিকম পাস করবেন তাদের বিভিন্ন ধরনের শর্ট কোর্সগুলো যা থাকবে সেগুলোই শিক্ষকরা (অনার্স-মাস্টার্স স্তরের) পড়াবেন। কাজেই অনার্স-মাস্টার্স স্তরের কোনো শিক্ষক চাকরি যাওয়ার ভয় পাবেন না। যারা ইচ্ছুক হবেন, তাদের আমরা প্রশিক্ষণ দেব। তারা বিভিন্ন শর্ট কোর্স যেগুলো হবে সেগুলো পড়াবেন।’

সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও এটি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ আছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, মানসম্পন্ন শিক্ষার অন্যতম শর্ত দক্ষ শিক্ষক এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। চলমান মহামারীর মতো সংকটে সাধারণ ধারায় শিক্ষায় যখন মান নিশ্চিত করা যায়নি, সেখানে কারিগরি ডিপ্লোমা চালু করলে আরও চ্যালেঞ্জ থাকবে মান নিশ্চিতের ক্ষেত্রে। এ উদ্যোগ সফল না হলে বেকার সমস্যা দূর হবে না। আবার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাবে না সনদ থাকা সত্ত্বেও। অর্থনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সাবেক গবেষক রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, ‘এমনিতে উচ্চশিক্ষা ভালো জিনিস, যদি তা সনদসর্বস্ব না হয়। প্রকৃত অর্থে দেশের সব মানুষ উচ্চশিক্ষিত হলে সমাজের চেহারাই পাল্টে যেত। কিন্তু শিক্ষার সঙ্গে যখন জীবিকার সম্পর্কটাই প্রধান বিবেচ্য, তখন উচ্চশিক্ষার ডিগ্রিধারী লোকের সংখ্যা বছরে বছরে কয়েক লাখ করে বাড়তে থাকলে বেকারত্ব চরম হতাশাজনক পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বেকারত্ব কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে, কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলোর চিত্র সে রকম নয়। বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে চিত্রটা অনেকটাই বিপরীত। এ দেশে শিক্ষিতদের বেকার হওয়ার আশঙ্কা অশিক্ষিতদের তুলনায় বেশি। কৃষকের সন্তান অনার্স-মাস্টার্স পাস করে কৃষিকাজে হাত লাগাতে লজ্জা পায়, কিন্তু সে সম্মানজনক কোনো চাকরিও পায় না।’

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের অনেক ফারাক রয়েছে। দেশে একদিকে যেমন যোগ্যরা চাকরি পাচ্ছে না অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলো যোগ্য লোক খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থা কাটাতে হলে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষাব্যবস্থা সাজাতে হবে। দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ এবং নিশ্চিত করতে হবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, গতানুগতিক ধারা পরিবর্তন করে কর্মমুখী এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মিল রেখে দ্রুত কর্মসংস্থানমুখী একটি কারিকুলাম তৈরি করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগসহ সরকারি চার সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সেখান থেকে শিক্ষার দুই বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ রপ্তানি অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত যুগোপযোগী কারিকুলামের পরিকল্পনা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স পড়ানো হয়, সেটা গতানুগতিক। এটাকে কর্মমুখী ও চাহিদাভিত্তিক করা দরকার। যাতে বর্তমান চাকরির বাজার চাহিদার সঙ্গে মানানসই হয় সে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, উচ্চশিক্ষার কোর্সগুলোকে পেশাভিত্তিক ও কর্মমুখী করার উদ্যোগ নিয়েছি। কোর্স কারিকুলাম যুগোপযোগী করা হচ্ছে। এ নিয়ে কমিটি কাজ করছে।

জানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম কর্মমুখী করতে গত ১ এপ্রিল শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিস্তারিত আলোচনা শেষে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে কর্মমুখী ও পেশাগত শিক্ষাকার্যক্রম প্রবর্তনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটির সদস্য ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন (শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা) অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম রিভাইস করা হচ্ছে। তাতে কয়েকটি কোর কোর্স এবং কয়েকটি অপশনাল কোর্স থাকবে। চার বছর মেয়াদি অনার্স কোর্স বা তিন বছরের কোর্সে শিক্ষার্থীরা যে বিষয়ে পড়বেন, সেটির সঙ্গে টেকনিক্যাল অথবা জব ওরিয়েন্টেড সাবজেক্টের একটি পুল অব কোর্স সংযুক্ত থাকবে। সেখান থেকে দুই বা তিনটি অপশন শিক্ষার্থীদের তৃতীয় বা চতুর্থ বর্ষে দেওয়া হবে। রিভাইসড কারিকুলামে বৃত্তিমূলক বা প্রফেশন ওরিয়েন্টেড কোর্স মূল ডিসিপ্লিনের সঙ্গে পড়ে ডিপ্লোমা করা যাবে। এভাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামকে কর্মমুখী ও চাকরির বাজার উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

advertisement