advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে বেড়েছে চলাচল : রাজধানীতে গ্রেপ্তার ৩৮৩ : ৪৪১ গাড়িকে পৌনে ১১ লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ জুলাই ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২১ ১১:৪৩ পিএম
advertisement

সর্বোচ্চ কঠোরতার ঘোষণা দিয়ে শুরু হওয়া লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে গতকাল শনিবার রাজধানীর সড়কে যান ও মানুষের চলাচল আগের তুলনায় বেশি দেখা গেছে। গণপরিবহন না থাকলেও ব্যক্তিগত গাড়ি চলেছে অবাধে।

রাজপথ ছিল রিকশার দখলে। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া বেশিরভাগ মানুষকেই গতকালও গন্তব্যে যেতে হয়েছে হেঁটে। আর রিকশায় বা ভ্যানে উঠলে গুনতে হয়েছে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া। গতকাল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী,

মিরপুর, পল্লবী, রামপুরা, খিলগাঁও, গাবতলী, টেকনিক্যাল, আদাবর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, গুলশান, মহাখালী, মালিবাগ, বাড্ডা, প্রগতি সরণি, নতুনবাজার, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ জানিয়েছে, গতকাল রাজধানীতে বিধিনিষেধ অমান্য করায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ

আদালত পরিচালনা করে ১৩৭ জনকে ৯৫ হাজার ২৩০ টাকা জরিমানা করা হয়। আর ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ৪৪১টি গাড়িকে ১০ লাখ ৮৩ হাজার টাকা জরিমানা করে।

বিধিনিষেধ কার্যকর করতে র‌্যাবের নিয়মিত টহল ও চেকপোস্টের পাশাপাশি ছিল অতিরিক্ত টহল ও চেকপোস্ট। গতকাল সারাদেশব্যাপী র‌্যাবের ১৮০টি টহল ও ১৮৬টি চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সারাদেশে

২১২ জনকে এক লাখ ৯১ হাজার ৪৭০ টাকা জরিমানা করেন র‌্যাবের ২৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উদ্বুদ্ধকরণে বিনামূল্যে দেড় হাজারের বেশি মাস্ক এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে হ্যান্ড

স্যানিটাইজার সরবরাহ করেন র‌্যাব সদস্যরা।

করোনাকালীন বিধিনিষেধ লঙ্ঘনে গতকাল ডিএমপি অধ্যাদেশ আইনে ৯৭ জনকে বিভিন্ন পরিমাণ টাকা জরিমানা করেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। জরিমানার টাকা দেওয়ার পর হাজতখানা থেকে তাদের

ছেড়ে দেওয়া হয়। আদালতের হাজতখানার কর্মকর্তা পুলিশের এসআই শহিদুল ইসলাম বলেন, অধিকাংশকেই ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে সরকার ঘোষিত দুই সপ্তাহের কঠোর লকডাউনে বিধিনিষেধ মানাতে গতকাল সকাল থেকে বেশিরভাগ সড়কে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরব উপস্থিতি। পুলিশ, র‌্যাব,

বিজিবির সঙ্গে মাঠে ছিল সেনাবাহিনীও। বিভিন্ন মোড়ে পুলিশের তল্লাশি চৌকি থাকলেও সেগুলোর বেশিরভাগেই তেমন কড়াকড়ি ছিল না। যদিও একটু পর পর টহল দিয়ে যাচ্ছিল বিভিন্ন বাহিনীর গাড়ি। কোনো কোনো

এলাকায় লোকজনকে নির্বিঘেœ ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। কোথাও আবার অলিগলির রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশন করতেও দেখা গেছে।

মানুষের চলাচল বাড়লেও গতকালও বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বেরিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জেরার মুখে পড়তে হয়েছে অনেককেই। জরুরি প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উপস্থাপন করতে পারলেই ছাড় পেয়েছেন তারা। তবে

যৌক্তিক কারণ দেখাতে না পারলে গুনতে হয়েছে জরিমানা; মুখোমুখি হতে হয়েছে মামলার।

গতকাল গাবতলী ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, কিছু দূর পর পর দেওয়া হয়েছে ব্যারিকেড। কোথাও পুলিশ দাঁড়িয়ে গাড়ি থামিয়ে চেক করছে। জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হওয়া মানুষজনকে

ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। যারা উপযুক্ত প্রমাণ হাজির করতে পারছেন না, তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে যেদিক থেকে এসেছেন সেদিকে। অপ্রয়োজনে বেরিয়ে কয়েকজনকে গুনতে হয়েছে জরিমানা। সকাল ১০টার দিকে গাবতলীতে

ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা আটক করে ডাম্পিংয়ে দেয় ট্রাফিক পুলিশ।

কাঁচাবাজারগুলো খোলা থাকলেও ক্রেতা ছিল তুলনামূলক কম। প্রধান সড়কে দোকানপাট বন্ধ থাকলেও অলিগলিতে দোকানে কেনাবেচা হতে দেখা যায়। পুরান ঢাকার, আজিমপুর, লালবাগ কেল্লার মোড়, বকশীবাজার ও

পলাশীর অলিগলিতে মানুষ, ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা প্রথম দিনের চেয়ে বেশি চলাচল করতে দেখা গেছে। অলিগলিতে ভ্যানগাড়িতে ফল আর সবজির পসরার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে মানুষের আনাগোনা। তবে মহল্লার

অনেক খাবারের হোটেল ছিল বন্ধ।

দুপুরে বাবুবাজার ব্রিজের মুখে ছিলেন পুলিশ, বিজিবি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই পথে মিটফোর্ড যাচ্ছিলেন ওষুধ দোকানের কর্মচারী বাদশা। দোকানের কর্মচারীর কার্ড দেখাতে না পারায় তাকে গুনতে হয়েছে ৫০০ টাকা

জরিমানা। ঢাকায় প্রবেশের অন্যতম স্থান গাবতলী দিয়ে গতকালও ঢাকায় প্রবেশ করেন মানুষজন। তাদের মধ্যে ব্যাংক ও ওষুধ কোম্পানির লোকজন বেশি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হলেও যারা বেশি গাদাগাদি করে

বা মাস্ক ছাড়া ছিলেন তাদের মামলার মুখোমুখি হতে হয়।

আমিনবাজার ব্রিজের মুখে চেকপোস্টের পুলিশ সদস্যরা জানান, ট্রাফিক বিভাগ বড়জোর গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা ও জব্দ করতে পারে। কিন্তু হেঁটে আসা মানুষদের আটকানোর এখতিয়ার তাদের নেই। থানা ৬পুলিশ বা

মোবাইল কোর্ট থাকলে ব্যবস্থা নিতে পারত। একজন পুলিশ সদস্য বলেন, বিগত দিনের তুলনায় আজকে (শনিবার) কম মানুষ আসছেন। যারা আসছেন, তাদের মধ্যে ব্যাংক ও ওষুধ কোম্পানির লোকজন বেশি। এ ছাড়া

চিকিৎসার জন্যও অনেক মানুষ আসছেন।

ফার্মগেট মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিকের সার্জেন্ট শফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টির কারণে পুলিশ সদস্যরা রাস্তার পাশে সরে আসেন। বৃষ্টি কমে গেলে পুলিশের তৎপরতা শুরু হবে। বাংলামোটরেও চোখে

পড়ে একই দৃশ্য। সেখানে পুলিশের কোনো সদস্যকে দেখা মেলেনি। অনেকটা অবাধেই চলতে দেখা যায় ব্যক্তিগত যানবাহন। তবে কারওয়ানবাজার ও শাহবাগ এলাকায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে পুলিশের চেকপোস্ট ছিল চোখে পড়ার

মতো। কারওয়ানবাজার মোড়ে বিভিন্ন দিক থেকে আসা গাড়িগুলো পুলিশের চেকপোস্টের মুখোমুখি হতে হয়।

শাহবাগে দায়িত্বরত এসআই রাজীব জানান, শুক্রবারের চেয়ে গাড়ি চলাচল যেমন বেড়েছে তেমনই বেড়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি। যারা বাইরে বের হচ্ছেন তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছেন। জেল-জরিমানা করেও মানুষের চলাচল

নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের এডিসি ইফতেখায়রুল ইসলাম বলেন, করোনার সংক্রমণ রোধে দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ নিশ্চিতে রাজধানীজুড়েই সক্রিয় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানীতে

সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে অকারণে ও নানা অজুহাতে ঘর থেকে বের হওয়া এবং লকডাউনেও প্রতিষ্ঠান খোলা রাখায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

advertisement