advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

প্রকৃতি বাদ দিয়ে বাণিজ্যিক স্বার্থে প্রাধান্য

সুলতানা কামাল সুন্দরবন বিশ্বের সম্পদ। রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ জুলাই ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২১ ১০:৫৭ পিএম
advertisement

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সভাপতি সুলতানা কামাল বলেছেন, ‘সুন্দরবন বিশ্বের সম্পদ। একে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু সুন্দরবনের প্রকৃতির স্বার্থ বাদ দিয়ে সরকার ভূরাজনৈতিক ব্যবসায়িক ও বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে।’ গতকাল সোমবার

সকালে বাপা ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ‘সুন্দরবন বিষয়ে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সাম্প্রতিক সভার সুপারিশ’ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভায় সুন্দরবন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকবে কিনা, সে সিদ্ধান্ত আগামী বছর নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এবার আশঙ্কা ছিল, বাংলাদেশ শর্তগুলো পূরণ না করলে সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্য বা লাল তালিকাভুক্ত করা হবে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সুন্দরবনের আশপাশে নানা স্থাপনা নিয়ে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির উদ্বেগ ছিল। কিন্তু ইউনেস্কোর বিশেষজ্ঞ কমিটি তাদের খসড়া প্রস্তাবে এ বছর সিদ্ধান্ত না নেওয়ার সুপারিশ করে বলেছে- আগামী সম্মেলনের আগে বাংলাদেশকে তার অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। ওই সভায় চীন, রাশিয়া, মিসরসহ নানা দেশ বাংলাদেশের সমর্থনে কথা বলে। ২০২২ সালের জুলাইয়ে রাশিয়ায় বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির আগামী সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশকে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে আগামী বছর ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে।

সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল বলেন, ‘এবারের সভায় সুন্দরবন নিয়ে আমাদের উদ্বেগগুলো লঘু করে দিতে সরকার জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এর পেছনে ভূরাজনৈতিক স্বার্থ কাজ করেছে। তবে আমরা হতাশ নই। সুন্দরবন রক্ষায় লড়াই চালু থাকবে। এখানে দেশের মানুষের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের সমর্থন দরকার। কারণ সুন্দরবন বৈশ্বিক সম্পদ।’

ওয়ার্ড হেরিটেজ ওয়াচের চেয়ারম্যান স্টিফান ডম্পকে বলেন, ‘বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির অধিবেশন চলাকালীন আমরা কার্যত শক্তিহীন ছিলাম। সুতরাং আমাদের জনসাধারণের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা এখন অবশ্য করণীয়। এ বিষয়টি আসন্ন কপ (ঈঙচ)-এ উত্থাপন করা যেতে পারে।’ তবে কয়েক বছর ধরে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভায় রাজনৈতিক প্রভাব প্রকটভাবে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

জেনেভায় জাতিসংঘে আর্থ জাস্টিসের স্থায়ী প্রতিনিধি ইভস লেডর বলেন, ‘জনগণের মতামত এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিরুদ্ধে গিয়ে ইউনেস্কোর মতো বৈশ্বিক মঞ্চে সরকারের পরিবেশবিরোধী কৌশল অবলম্বন করার কারণে বাংলাদেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে রাজনীতি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, আমাদের সবার জন্য ভয়ানক পরিণতি বয়ে আনবে। বিজ্ঞানকে ভিত্তি করেই যেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নিই, সেখানে এ ধরনের বিজ্ঞান অবহেলিত কর্মকা-ের প্রবণতা আমাদের সবার চিন্তার কারণ।’

বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিলের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রহমান; বাপার নির্বাহী সহসভাপতি এবং সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ডা. মো. আবদুল মতিন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবদুল আজিজ; খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল্লাহ্ হারুন চৌধুরী; তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির অন্যতম সংগঠক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বেনের সদস্য অধ্যাপক ড. সাজেদ কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম, বাপার কোষাধ্যক্ষ মহিদুল হক খান এবং পশুর রিভার ওয়াটারকিপার নুর আলম শেখ। #

advertisement