advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মত
ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন মালিকানা অপরাধ নয়

২৮ জুলাই ২০২১ ০২:২০ এএম
আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২১ ০২:২০ এএম
advertisement



ক্রিপ্টোকারেন্সির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সর্বশেষ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি এ সংক্রান্ত দুটি মামলার মধ্যে একটির তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্রও জমা দিয়ে দিয়েছে। এরই মধ্যে ভার্চুয়াল এ মুদ্রা নিয়ে নতুন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তদন্তের প্রয়োজনে সিআইডির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতামত জানতে চেয়ে পাঠানো একটি চিঠির জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সির মালিকানা, সংরক্ষণ বা লেনদেন অপরাধ নয়।
গত ১৮ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের সহকারী পরিচালক শফিউল আজম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ে ব্যাংকের অবস্থান জানান সিআইডিকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তরফে পাঠানো চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেনÑ ক্রিপ্টোকারেন্সির মালিকানা, সংরক্ষণ বা লেনদেন স্বীকৃত না হলেও এটিকে অপরাধ বলার সুযোগ নেই মর্মে প্রতীয়মান হয়। চিঠিতে আরও বলা হয়Ñ ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেনের ফল হিসেবে দ্বিতীয় পর্যায়ে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭; সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর আওতায় অপরাধ হতে পারে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনুসন্ধান করে দেখতে পারে সিআইডি।
র‌্যাব-১ গত জানুয়ারি মাসে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে রায়হান হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। সে সময় র‌্যাব জানিয়েছিল, বাংলাদেশে বিটকয়েন প্রতারণা চক্রের মূল হোতা রায়হান। এক মাসে তিনি ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার লেনদেন করেছেন। অডি গাড়ি কিনেছেন ১ কোটি ৭ লাখ টাকা দিয়ে। প্রায় একই ধরনের অভিযোগ তোলা হয় ইসমাইল হোসেন ওরফে সুমনের বিরুদ্ধে। গত ২ মে রাতে বাড্ডার ইকবাল ভিলা থেকে ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।
এখন পর্যন্ত বিটকয়েন লেনদেন ও প্রতারণার অভিযোগে বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। এ ছাড়া বগুড়া জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে, ঢাকায় সিআইডির পরিদর্শক মো. ইব্রাহীম হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় অভিযোগপত্রও জমা দিয়েছে সিআইডি।
সিআইডি জানায়, স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে পাবনার এক ব্যক্তি ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন। তিনি একটি ক্যাসিনোতে কাজ নিয়েছিলেন। ওই ক্যাসিনোর মালিক হামকে তিনি বিটকয়েন কেনাবেচার জন্য বাংলাদেশের জাকারিয়ার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। একপর্যায়ে হাম দাবি করেন, তিনি বিটকয়েন দিয়েছেন, কিন্তু অর্থ পাননি। এ বলে তিনি পাবনার ওই ব্যক্তিকে পুলিশে ধরিয়ে দেন। পরে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ তাকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। অনুসন্ধানকালে জাকারিয়ার লেনদেনের বিষয়ে নিশ্চিত হয় সিআইডি। আহ্ছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জাকারিয়াকে আসামি করে পরে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের পরিদর্শক মো. ইব্রাহীম হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামতের দুটি অংশ রয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সিআইডি অনুসন্ধান করে দেখতে পারে বলে বলা হয়েছে। জাকারিয়ার মামলাটি হয়েছিল বিশেষ ক্ষমতা আইনে। তার ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এ কারণে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি এই অভিযোগপত্রের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ক্রিপ্টোকারেন্সি এক ধরনের ভার্চুয়াল মুদ্রা। ইন্টারনেটের মাধ্যমে লেনদেন হওয়া এ ধরনের মুদ্রার সংখ্যা এখন আট হাজারের বেশি। তবে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় বিটকয়েন। ২০০৮ সালের শেষভাগে জাপানি নাগরিক সাতোশি নাকামোতো নামের একজন বা একদল সফটওয়্যার বিজ্ঞানী এই ‘ক্রিপ্টোকারেন্সির’ উদ্ভাবন করেন। কয়েন মার্কেট ক্যাপের তথ্য অনুযায়ী, ১ বিটকয়েনের বিনিময়মূল্য ৩৩ হাজার ৮০৫ দশমিক ৩১ ডলার। বাংলাদেশে অবশ্য বিটকয়েনের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন অপরাধ হিসেবেই বিবেচনা করে আসছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

advertisement