advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

‘বেশি চাল’ রান্না করায় অন্তঃসত্ত্বাকে পিটিয়ে হত্যা

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
২৮ জুলাই ২০২১ ১৯:৫৪ | আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২১ ০০:৩৫
ছবি : আমাদের সময়
advertisement

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বেশি চাল রান্না করায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাবোলা হলদার পড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই গৃহবধূর নাম সীমা। তিনি ভাঙ্গুড়ার পৌর এলাকার মাবোলা হলদার পাড়া গ্রামের ঝাড়ু হলদারের ছেলে সুব্রত হলদারের স্ত্রী এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পাশ্চিম বালিঘাটা গ্রামের পরিমলের মেয়ে। মেয়েকে হত্যার অভিযোগে ভাঙ্গুড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন পরিমল।

নিহতের প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা জানায়, তিন বছর আগে সুব্রত হলদারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে হয় সীমার। বিয়েতে কোনো ধরনের যৌতুক দিতে পারেননি সীমার বাবা পরিমল। এ কারণে বিয়ের কিছু দিন পর থেকেই নির্যাতন শুরু হয় সীমার ওপর। স্বামী সুব্রত, শ্বশুর ঝাড়ু হলদার, শ্বাশুড়ি অলোকার নানা নির্যাতন সহ্য করতেন গৃহবধূ সীমা। মাঝে মধ্যে গৃহবধূর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে গেলে বাড়ির প্রধান গেট বন্ধ করে দিতেন অভিযুক্তরা।

তারা আরও জানায়, গতকাল মঙ্গলবার সকালে শাশুড়ি অলোকা বাড়ির পাশে বেড়াতে গেলে হাঁড়ি থেকে চাল নিয়ে ভাত রান্না করেন সীমা। কিছু সময় পর অলোকা ফিরে এসে জানতে পারেন, সীমা ‘একমুঠ চাল বেশি’ দিয়ে ভাত রান্না করেছেন। এ ঘটনার পরে অন্তঃসত্ত্বা সীমাকে সকালের খাবার না দিয়ে পরিবারের লোকজন গালিগালাজ করেন। স্বামী সুব্রত বাড়ি ফেরার পর ঘটনা শুনে সীমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ সময় পাশের এক বাড়িতে আশ্রয় নেন সীমা।

এদিকে, ঘটনাটি শুনে স্থানীয় কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম বিকেলে গৃহবধূ সীমাকে পাশের বাড়ি থেকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে দিয়ে আসেন। কিন্তু কাউন্সিলর চলে যাওয়া মাত্রই আবারও সবাই মিলে সীমাকে লাঠিপেটা করেন। এ সময় তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।  অবস্থা বেগতিক দেখে ওই গৃহবধূকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে ওই গৃহবধূ গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্তরা।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মু. ফয়সাল বিন আহসান বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারে সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। মেয়েকে হত্যার অভিযোগে তার বাবা পরিমল বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী সুব্রতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

advertisement