advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

যান চলাচলের উপযোগী হয়নি ২৮ বছরেও

আবির হাসান-মানিক তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)
২ আগস্ট ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১ আগস্ট ২০২১ ১০:৩০ পিএম
advertisement

তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকে অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের একমাত্র উঁচু সড়ক তাহিরপুর-বাদাঘাট। আট কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের কাজ শুরু হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। কিন্তু আজও যানবাহন চলাচলের উপযোগী হয়ে ওঠেনি। ফলে দুর্ভোগে আছেন উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। সড়ক ভালো না থাকায় গতি নেই ব্যবসা বাণিজ্যেও। এলাকাবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত এ সড়কটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসী ও এলজিইডি সূত্র জানায়, তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়ক দিয়ে উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন বাদাঘাট, বড়দল উত্তর ও শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের লক্ষাধিক বাসিন্দা হেমন্তে ও বর্ষায় উপজেলা সদরে যাতায়াত করে থাকেন। জেলার তিনটি এলসি স্টেশন উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। এগুলো হচ্ছে বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী। এসব স্টেশনে উপজেলা সদর থেকে যাতায়াতে এই সড়কটি ব্যবহার করতে হয়। উপজেলার খনিজ বালু ও পাথর সমৃদ্ধ যাদুকাটা নদীতেও এ সড়ক দিয়ে যেতে হয়। বর্তমানে সারাদেশের পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান উপজেলার জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান, বড়গোপ টিলা, শহীদ সিরাজ লেক ও লাকমাছড়াতে উপজেলা সদর থেকে যাতায়াতের একমাত্র সড়কও এটি।

সড়কের বাদাঘাট ইউনিয়নের হুসনার ঘাট থেকে পাতারগাঁও পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা। এর মধ্যে এক কিলোমিটার পার হতে হয় ছোট নৌকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে। বাকি এক কিলোমিটার হেঁটে পার হওয়াও কঠিন। সড়কের দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের টাকাটুকিয়া সেতুর উত্তর অংশের মাটি প্রতিবর্ষায় সরে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। হুসনার ঘাট থেকে জামালগড় রাস্তার সম্মুখ পর্যন্ত এবং পাতারগাঁও থেকে বাদাঘাট বাজার পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকা সংস্কারের অভাবে ভাঙ্গাচোরা।

বাদাঘাট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. তাবারক হোসেন বলেন, ১৭ বছর আগে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিতে তাহিরপুর যাওয়ার সময় দেখেছিলাম এ রাস্তায় কাজ চলছে। এত বছর পরও সড়কের কাজ শেষ হয়নি। কমেনি দুর্ভোগও। বাদাঘাটের বাসিন্দা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরে আলম সিদ্দিকী ও নিপু হাসান বলেন, অফিস ও চিকিৎসার কাজে আমাদেরকে প্রায়ই উপজেলা সদরে যেতে হয়। যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এটি। তাই যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষাকালে এ দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক সেলিম মিয়া বলেন, এ রাস্তায় যাত্রী বা মালামাল নিয়ে চলাচল অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। একটু বৃষ্টিতেই কাঁচা রাস্তা কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল হয়ে ওঠে। তখন মোটরসাইকেল চলাচলও বন্ধ হয়ে পড়ে। তবে অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে মালামাল বা যাত্রী পরিবহন করে থাকেন।

বাদাঘাট বাজারের একটি ধান ভাঙ্গানো মিলের ম্যানেজার পরান বৈদ্য বলেন, এ রাস্তাটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় প্রতিবস্তা চাল পরিবহনে আমাদের একশ টাকা বেশি খরচ পড়ে। এ কারণে আমাদের ব্যবসায় কোনো গতি নেই।

বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সেলিম হায়দার জানান, তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়ক যানবাহন চলাচলের উপযোগী হলে ব্যবসা বাণিজ্যের গতি বাড়বে। দ্রব্যমূল্যের দামও কমবে।

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবীর বলেন, তাহিরপুর-বাদাঘাট রাস্তাটি সংস্কারের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নৌকা পারাপারের অংশে একটি ৭শ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতু নির্মাণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবীর বলেন, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে বড় ধরনের অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন। এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো আছে। এ বিষয়ে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তিনি আরও জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বর্ষায় বৃষ্টিতে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের পানিতে রাস্তাটি ভেঙে যায়। এ কারণেই প্রতিবছর রাস্তাটি ভাঙনের কবলে পড়ে।

advertisement