advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

নেতৃত্ব দেখে কেউ ক্ষুব্ধ অনেকেই ভাবলেশহীন

ঢাকা মহানগর বিএনপি # পাঁচ নেতার বাসায় নতুন কমিটির নেতারা

নজরুল ইসলাম
৪ আগস্ট ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৪ আগস্ট ২০২১ ০১:৩০ এএম
advertisement


ঘোষিত কমিটিতে স্থান না হওয়া এবং কাক্সিক্ষত পদ না পাওয়ায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা বিএনপির অনেকেই ক্ষুব্ধ। তবে যাদের নেতৃত্বে আনা হয়েছে, তাদের অধীনে পদ না পাওয়ায় আক্ষেপ দেখা যায়নি বেশিরভাগ নেতার মধ্যে। কমিটির নেতৃত্ব দেখে তারা অনেকটা ভাবলেশহীন হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ এতটাই হতাশ হয়েছেন যে, রাজনীতি নিয়ে তাদের মধ্যে অনীহা তৈরি হয়েছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির গুরুত্বপূর্ণ একজন সহসভাপতি ও দুই সহসম্পাদক বলেন, কী কারণে তাদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তা তারা জানতে চান। করণীয় ঠিক করতে তারা শিগগিরই উত্তরের ক্ষুব্ধ নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন।
উত্তর ও দক্ষিণের আরও দুই নেতা জানান, দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আশা দেখছেন না তারা। তাই তারা দৃশ্যমান ক্ষোভ দেখাতে চান না। দল যা করে করুক। তাদের কথা হচ্ছেÑ যোগ্যদের বাদ দিয়ে যদি দলের ভালো কিছু হয় তো হোক।
উত্তরের বিলুপ্ত কমিটির একজন সহসাধারণ সম্পাদক বলেন, কমিটিতে জায়গা হয়নি, ভালোই হয়েছে। যে কমিটি হয়েছে, তাতে পদ থাকলে মুখ দেখানো যেত না। ধারণা করছি এখন অন্তত
মামলা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। এদিকে নবগঠিত উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নেতারা গতকাল মঙ্গলবার দলের মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির পাঁচ নেতার বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সকাল থেকে বিকাল অবধি তারা মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বরচন্দ্র রায় ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে দেখা করেন।
এ সময় ঢাকা উত্তরের এক নম্বর সদস্য তাবিথ আউয়াল মহাসচিবের বাসায় গেলেও দক্ষিণের এক নম্বর সদস্য ইশরাক হোসেনকে দেখা যায়নি। ইশরাকের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, কাক্সিক্ষত পদ না পাওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ। এ কারণে গতকাল তাকে কমিটির নেতাদের সঙ্গে দেখা যায়নি। তিনি যে কোনো সময় লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়তে পারেন।
গত সোমবার আমানউল্লাহ আমানের নেতৃত্বে উত্তরের ৪৭ সদস্য এবং আবদুস সালামের নেতৃত্বে দক্ষিণের ৪৯ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উত্তরে সদস্য সচিব হয়েছেন আমিনুল হক এবং দক্ষিণে রফিকুল আলম মজনু।
মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা বলেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় আমাদের পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, তোমরা সফল হলেই কেবল দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত সঠিক বলে বিবেচিত হবে। যারা কমিটিতে স্থান পাননি বা বাদ পড়াসহ নানা কারণে অভিমান করে আছেন, ক্ষুব্ধ হয়েছেন তাদের বাড়ি বাড়ি যান। তাদের মন জয় করেন। সবার মত নিয়ে ঢাকা মহানগরের প্রতিটি ইউনিটে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের দিয়ে কমিটি গঠন করেন। তার পর আন্দোলনে নামলে অবশ্যই আপনারা সফল হবেন।
সকালে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নতুন কমিটির নেতারা। এই কমিটি নিয়ে ক্ষোভ আছে, অনেককেই মূল্যায়ন করা হয়নিÑ এ রকম প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি একটা বিশাল রাজনৈতিক দল। সেই দলের যখন একটি কমিটি করা হয়, তখন ছোটখাটো সমস্যা থাকতেই পারে। আমরা দেখছিÑ একেবারে পরীক্ষিত নেতৃবৃন্দকে দিয়েই এই কমিটি করা হয়েছে। প্রবীণ ও নবীনের সমন্বয়ে করা হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি কার্যকরী কমিটি হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে কাউন্সিল হবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, নির্যাতন-নিপীড়ন ও অগণতান্ত্রিক কর্মকা-ের মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। সে জন্য সংগঠনকে ঢেলে সাজিয়ে জনগণ যাতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে পারে, একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়, সেই লক্ষ্য সফল করার জন্য আমরা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ একসঙ্গে একযোগে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কাজ করব।
দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, আমরা চেষ্টা করব যাতে এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারি। উত্তর-দক্ষিণ মহানগর একসঙ্গে মিলেই সমবেতভাবে মহানগরীতে কাজ করার চেষ্টা করব। যাতে কোথাও কোনো দূরত্ব সৃষ্টি না হয়, কোনো ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়। মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দকে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, জাতীয় নির্বাচন হতে আর কত বাকি। এই দেড়-দুই বছরে সংগঠন গোছানো ছাড়া আপনাদের আর কোনো কাজ নেই। ঢাকাকে গোছাতে না পারলে নির্বাচন কিন্তু আগের মতোই হবে। এ সময় মহানগরের রফিকুল আলম মজনু, আমিনুল হক, আবদুল আলীম নকি, তাবিথ আউয়াল, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, নবী উল্লাহ নবী, ইউনুস মৃধা, মো. মোহন, আতিকুল ইসলাম মতিন, মোশাররফ হোসেন খোকন, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, সদস্য সচিব আমিনুল হক এবং দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু বিকালে নয়াপল্টনে মহানগর কার্যালয়ে প্রথম অফিস শুরু করেন।

advertisement