advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সরকারি চাকুরেদের জন্য ২৪৭৪ ফ্ল্যাট উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ আগস্ট ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৩ আগস্ট ২০২১ ১০:৩১ পিএম
advertisement

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় কর্মরতদের আবাসন সংকট দীর্ঘদিনের। এর সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি আবাসন ৮ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করার অনুশাসন দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থা বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে যেন একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের আবাসনের ব্যবস্থার পাশাপাশি ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। এর অংশ হিসেবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর ও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্মিত দুহাজার ৪৭৪ ফ্ল্যাটের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এগুলো উদ্বোধন করেন।

গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম

আখতার, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হায়দার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে আজিমপুর, মতিঝিল ও মালিবাগ সরকারি কলোনিতে বহুতল ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য তেজগাঁওয়ে আবাসিক ভবন এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মিরপুরে আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প অন্যতম। এ ছাড়া এ সময় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্মিত বস্তিবাসীদের জন্য ভাড়াভিত্তিক ৩০০টি ফ্ল্যাটের বরাদ্দ প্রাপকদের কাছে বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করা হয়। একই সময় মাদারীপুর জেলা সদরের যেসব সরকারি অফিসের নিজস্ব জমি ও অফিস ভবন নেই সেসব অফিসের জন্য ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ তলা সমন্বিত অফিস ভবন উদ্বোধন করা হয়।

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে ১৪৮ কোটি ৭৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ঢাকার মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে ১৪ তলাবিশিষ্ট পাঁচটি ভবনে মোট ৫৩৩টি ফ্ল্যাট নির্মাণের লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি একটি প্রকল্প হাতে নেয়। ২ একর জমির ওপর নির্মিত এসব অত্যাধুনিক ভবনে মাসিক, সাপ্তাহিক এমনকি দৈনিক ভিত্তিতে ভাড়া পরিশোধের মাধ্যমে বস্তিবাসী বসবাসের সুযোগ পাবেন। বসবাসের উপযোগী হওয়া ৩০০টি ফ্ল্যাট গতকাল প্রধানমন্ত্রী হস্তান্তর করেন।

গতকাল গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত মিরপুর, আজিমপুর, মতিঝিল ও মালিবাগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মিত ২৪৭৪টি অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ফ্ল্যাট উদ্বোধন করা হয়। এর মধ্যে ২৮৮টি ফ্ল্যাট গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এবং ৫৮টি ফ্ল্যাট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বসবাসের জন্য।

ঢাকার মিরপুর ৬নং সেকশনে ১৩১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি ভবনে ২৮৮টি ফ্ল্যাট গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের কাজ ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি আরম্ভ হয়ে ৩০ জুন শেষ হয়। মালিবাগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৪৫৬টি ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ১০ আগস্ট। এ প্রকল্পের আওতায় ২১২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত চারতলা ভবনে এসব ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়াও প্রকল্পের আওতায় তিন তলা মসজিদ ও একটি কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য ৪৪ কোটি ৭২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে দুটি ভবনে নির্মাণ করা হয়েছে ৫৮টি ফ্ল্যাট। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে গত জুনে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। এখানে রয়েছে অত্যাধুনিক কার ওয়াশিং সিস্টেম।

উদ্বোধনকৃত প্রকল্পগুলোর মধ্যে খরচ ও আয়তন বিবেচনায় বৃহত্তম প্রকল্প আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় ৯৯০ কোটি ৩০ লাখ ১৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৩.৬২ একর জমিতে ১৭টি ভবনে মোট ১২৯২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে।

মতিঝিল সরকারি কলোনিতে (হাসপাতাল জোন স্টোর কম্পাউন্ড) বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি ভবনে নির্মাণ করা হয়েছে ৩৮০টি ফ্ল্যাট। ২০ তলাবিশিষ্ট এসব ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে রয়েছে চারটি করে ইউনিট।

এসব ভবনে রয়েছে নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি ফায়ার এক্সিট ও সুপরিসর বারান্দা ও কমন স্পেস। নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য স্থাপন করা হয়েছে সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বা এসটিপি। রয়েছে রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। পরিবেশ সুরক্ষা ও মনোরম পরিবেশ নিশ্চিত করতে এসব প্রকল্প এলাকায় বৃক্ষরোপন ও জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে।

advertisement