advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য স্বতন্ত্র করোনা ইউনিট

বরিশাল ব্যুরো
৪ আগস্ট ২০২১ ০৫:৪৭ পিএম | আপডেট: ৪ আগস্ট ২০২১ ০৫:৪৮ পিএম
advertisement

বরিশাল নগরীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বা নারীদের চিকিৎসায় ২০ শয্যা বিশিষ্ট স্বতন্ত্র ইউনিট চালুর প্রস্তুতি নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। নগরীর কালিবাড়ী রোডে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের এই ইউনিটটিতে চলতি সপ্তাহেই রোগী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। যেখানে করোনা আক্রান্ত গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসার পাশাপাশি সিজারিয়ান অপারেশন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যবিভাগ সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া বরিশাল জেনারেল (সদর) হাসপাতালের ২২ শয্যার করোনা ইউনিটটিকে ১০০ শয্যার ডেডিকেটেড করোনা ইউনিট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ কারণে ওই হাসপাতালের বর্হিঃ বিভাগব্যতিত অন্য সকল বিভাগ বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এর বাইরে বরিশাল জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০টি করে মোট ১৮০ শয্যার পৃথক ৯টি করোনা ইউনিট চালু করা হচ্ছে। এর পরেও করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিলে সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি সামাল দিতে সাড়ে ৩০০ শয্যার পৃথক দুটি বেসরকারি হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বরিশাল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। আজ বুধবার বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস ও শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম এই তথ্য জানিয়েছে।

শেবাচিম হাসপাতাল পরিচালক জানান, বরিশাল অঞ্চলে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতিদিন আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে ৫০ শয্যা থেকে ৩০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ইউনিটকে। এর পরেও চাপ সামলানো সম্ভব হচ্ছে না। রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় অক্সিজেন সাপোর্টেও ঝামেলা হচ্ছে।

ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শেবাচিম হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের চিকিৎসা এবং সিজারিয়ানে অনেক সমস্যা হচ্ছে। কারণ, করোনা আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বা একজন মায়ের সিজারিয়ানের পরে ১৪ দিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে ওই অপারেশন থিয়েটার। এ কারণে অন্য রোগীদের ঝামেলা এবং সেবা বঞ্চিত হচ্ছে। সে বিষয়টি মাথায় রেখেই বরিশাল নগরীর কালিবাড়ী রোডের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে করোনা আক্রান্ত গর্ভবতী মায়েদের সার্বিক চিকিৎসার জন্য ২০ শয্যার করোনা ইউনিট খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

তবে কাগজে-কলমে ২০ শয্যা থাকলেও সেখানে সর্বোচ্চ ৫০-৬০ জন রোগীর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে। এখানে অন্তঃসত্ত্বা ছাড়াও করোনা আক্রান্ত সাধারণ নারীরাও ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে পারবেন। গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা বা অস্ত্রপচারের সুবিধার্থে শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসকরা সেখানে চিকিৎসা দিবেন।
আবার জেনারেল হাসপাতালের ২০ শয্যার করোনা ইউনিটটি ১০০ শয্যার ডেডিকেটেড করোনা ইউনিট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এজন্য সেখানে থাকা ডায়রিয়ার আইসোলেশনসহ অন্যান্য ওয়ার্ডগুলো শেবাচিম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে, করোনা ওয়ার্ডের পাশাপাশি সেখানকার বর্হিঃ বিভাগে রোগীর চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে বলে জানা গেছে।

এদিকে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস বলেছেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে করোনা ইউনিট নেই। এ কারণে শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেশি হচ্ছে। এতে এই হাসপাতালটিতে অক্সিজেন সংকটও দেখা দেয়। বরিশাল জেলার ৯টি উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ শয্যা করে পৃথক ৯টি করোনা ইউনিট প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের। এটি বাস্তবায়ন হলে শেবাচিমে রোগীর চাপ যেমন কমবে, তেমনি রোগীদের ভোগান্তিও কমবে। এসব বাস্তবায়নের বিষয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করেছি। অক্সিজেন সাপোর্টসহ আনুসাঙ্গীক বিষয়ে সহযোগিতার জন্য মন্ত্রণালয়ে বলা হয়েছে।’

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক আরও বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি আরও ঊর্ধ্বগতি হলে সে ক্ষেত্রে রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসার জন্য আরও দুটি বেসরকারি হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আড়াইশ শয্যার এ্যাপোলো মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ১০০ শয্যার আম্বিয়া মেমোরিয়াল হাসপাতাল। এ দুটি প্রতিষ্ঠানে অক্সিজেন সাপোর্টের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে জনবল সাপোর্টের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে নিশ্চিত করা হবে।’

মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গর্ভবতী মায়েদের জন্য করোনা ইউনিট চালুর বিষয়ে জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. তৈয়বুর রহমান বলেন, ‘আমরা চাইলে আজকের মধ্যেই ইউনিটটি চালু করতে পারি। তবে ইউনিট চালুর আগে অক্সিজেনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি করোনা রোগীর চিকিৎসা এবং ব্যবস্থাপনার বিষয়ে চিকিৎসক-নার্সদের প্রক্ষিণের বিষয়ও রয়েছে। আশা করছি চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হবে।’

advertisement