advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

প্রতারণা রোধে আসছে কঠোর নীতিমালা

অনলাইন ফুড ডেলিভারি

আবু আলী
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:৫৯ পিএম
advertisement

দেশে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে অনলাইনে খাবার সরবরাহ (ফুড ডেলিভারি)। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর দেশ চলে যায় লকডাউনে। এ সময় অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ হঠাৎ আরও বেড়ে যায়। এতে এই খাতের ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যের পরিমাণও বেড়ে যায়। তবে নীতিমালা না থাকায় তাদের সরবরাহ করা পণ্য ও খাবারের মান অনেক সময়ই ঠিক থাকছে না। পাশাপাশি ব্যবসার আড়ালে উচ্চহারে কমিশন আদায় করলেও সঠিকভাবে তারা ভ্যাট পরিশোধ করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি ইভ্যালিসহ বেশ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের নানা অনিয়ম ও প্রতারণার বিষয়ে গণমাধ্যমগুলোয় একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বিষয়টি মাথায় রেখেই ‘অনলাইন ফুড ডেলিভারি কমার্স নীতিমালা’ প্রণয়নের মাধ্যমে একটি কাঠামোয় নিয়ে আসতে চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। অনিয়ম করলে বিদ্যমান বিভিন্ন আইনে ব্যবস্থা নেবে।

দেশে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় অনলাইনভিত্তিক পণ্য ও সেবায় কেনাকাটা বেড়েছে। অনেকে আবার হোমমেড খাবার নিজস্ব ডেলিভারি ব্যবস্থায় পৌঁছে দিচ্ছেন ভোক্তার কাছে। অনেকেই কাজটাকে নিয়েছেন ফুলটাইম পেশা হিসেবে। কিন্তু ব্যবসা প্রসার হওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে প্রতারণাও। সময়মতো সুনির্দিষ্ট খাবার ডেলিভারি না দেওয়া, গ্রাহকের পছন্দের ব্র্যান্ডের প্যাকেট নকল করে অন্য প্রতিষ্ঠানের খাবার সরবরাহ, মূল্য ও কমিশন বেশি নেওয়া, সরকারের ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকিসহ নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে অনলাইনে ফুড ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিল দীর্ঘদিনেও দেওয়া হচ্ছে না।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ আমাদের সময়কে বলেন, বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে। বিদ্যমান ভোক্তা সংরক্ষণ অধিকার আইন, প্রতিযোগিতা কমিশন আইন ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আইনের আওতায় যেসব বিষয় কাভার করে সে আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করে নীতিমালা তৈরি করা হবে।

কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা-২০১৮ যেটি করা হয়েছে, সেখানে অনলাইনে ফুড ব্যবসা সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি। এ কারণে ওই নীতিমালার আওতায় এই ব্যবসা করার সুযোগ নেই। এ কারণেই পৃথক একটি নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি ওসমান গনি আমাদের সময়কে বলেন, রেস্তোরাঁ মালিকরা সরকারের জারি করা নির্দেশনার আলোকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত ব্যবসাবাণিজ্য পরিচালনা করছেন। অন্যদিকে ই-কমার্স অনলাইনে ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান কোনো আইনকানুন না মেনে ইচ্ছামাফিক তাদের ব্যবসার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে চালু করা অনলাইন ডেলিভারি পার্সেলের (টেকওয়ে) ক্ষেত্রে ই-কমার্স অনলাইন ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানসমূহ কমিশন আদায় করছে ৩৫-৪০ শতাংশ পর্যন্ত। এ ছাড়া নানা অজুহাতে টাকা কর্তন ও প্রাপ্য বিল প্রদানে ২-৩ মাস বিলম্ব করে থাকে। তাদের এ ধরনের কর্মকা- রেস্তোরাঁ ব্যবসার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এ অবস্থায় বিশ্বের অন্য দেশের মতো সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কমিশন নির্ধারণপূর্বক নীতিমালা প্রণয়ন করে ই-কমার্স অনলাইনে খাবার ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে তার আওতায় আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এখন দিনে ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে অর্ডার আসছে প্রায় ১ থেকে সোয়া লাখ পর্যন্ত। যার অর্থমূল্য প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে বার্ষিক প্রায় ১ হাজার ৫শ কোটি টাকার দেশীয় বাজার রয়েছে এই খাতে। করোনা মহামারীর কারণে এখন ঘরে বসেই অনেকে খাবার অর্ডার করছেন। দেশে ফুডপান্ডা, সহজ ফুড, পাঠাও, ই-ফুড, হাংরি নাকি, ফুড পিয়ন, চাল-ডাল, ই-কুরিয়ার বিডি, হেলদি কিচেন, ফুড মার্ট ও হারিকেনসহ শতাধিক প্রতিষ্ঠান এখন ফুড ডেলিভারির বাণিজ্য করছে।

এ বিষয়ে অনলাইন ফুড ডেলিভারি সেবাদানকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

 

 

 

advertisement